সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩০ এম
রোববার গভীর রাতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দুই দেশের একাধিক প্রদেশে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানায়, ভূমিকম্পের ফলে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কিছু প্রদেশ কেঁপে ওঠে। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এখনও পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ২ ছিল।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও গভীরতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিভিন্ন সমস্যার কারণে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডাক্তারদের অভাব, ওষুধের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙা দরজা-জানালা, এবং রোগীদের মলমূত্র ত্যাগের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ১২টি ইউনিয়নের পাঁচ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে এসব ক্লিনিকের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ত্রিশাল উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্লিনিকগুলোর ভগ্নদশা দেখে মনে হচ্ছে, চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বদলে এসব জরাজীর্ণ ভবন এখন জরুরি ‘চিকিৎসা’ বা সংস্কার প্রয়োজন।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ১২টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে ৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লিনিক থেকে গড় সাত হাজার মানুষ মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি বিষয়ক তথ্য ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার কথা। ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ি, বৈলর, কাঁঠাল, কানিহারী ও রামপুর ইউনিয়নে ক্লিনিকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু বহু বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিক কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা হারিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা যায়, ৪৮টি ক্লিনিকের বেশিরভাগই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অনেক ভবনের ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে মেঝে ভেসে যায়। কিছু ভবনের দরজা-জানালা অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছু ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, আবার যেখানে বিদ্যুৎ আছে, সেখানেও ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ফ্যান ঝুলানো সম্ভব হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্লিনিকে রোগীদের জন্য খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই, এবং শৌচাগারগুলো নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় অসুস্থ মানুষ ও গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে সরকারিভাবে সরবরাহ করা ওষুধের কার্টনগুলোও জরাজীর্ণ ভবনের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পড়ে রয়েছে।
কানিহারি বালিদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা মারজিয়া খাতুন জানান, তিনি অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে সেবা নিতে এসেছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চার গায়ে খুব জ্বর, ওষুধ নিতে আসছিলাম। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই গা ছমছম করে। ছাদ থেকে সিমেন্টের টুকরা খসে খসে শরীরে পড়ছে। বৃষ্টি হলে তো দাঁড়িয়ে থাকার উপায় থাকে না, পানি চুইয়ে গায়ে পড়ে। আমরা গরিব মানুষ, শহরে ডাক্তার দেখানোর টাকা নাই বলে এখানে আসছি। কিন্তু এমন ভাঙা ঘরে ডাক্তার-রোগী দুজনেরই তো প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া এসেও লাভ হয় না, কারণ গ্যাস্ট্রিক আর প্যারাসিটামল ছাড়া বেশিরভাগ সময় কোনো ওষুধই পাওয়া যায় না। এসে শুনি সাপ্লাই শেষ। বাধ্য হয়ে গ্রামের ফার্মেসি থেকে ধারদেনা করে ওষুধ কিনে নিতে হয়।
মঠবাড়ি ইউনিয়নে চিকিৎসা নিতে আসা মুস্তাফিজ বলেন, আমি চেকআপ করানোর জন্য এসেছিলাম। ভেতরে গিয়ে দেখি বসার কোনো ভালো জায়গা নাই, শৌচাগার এত নোংরা যে, ব্যবহার করার উপায় নেই। ডাক্তার নেই, প্রতি সপ্তাহে ডাক্তার একদিন আসেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও তারা সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এবং সঠিক সময়ে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় আমাদের। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কেউ নেই। ক্লিনিকে তালা খোলা থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সবকিছু স্বাস্থ্যকর্মীদের করতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী বলেন, ক্লিনিকগুলোর ওষুধ মূলত ট্রাস্ট থেকে সরবরাহ করা হয়। কার্টন আকারে যা বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী বরাদ্দ আসার আগ পর্যন্ত কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে ত্রিশালের ৪৮টি ক্লিনিকের মধ্যে প্রায় ৩০-৩২টি ভবনই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জীর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদা ও তালিকা পাঠিয়েছি। সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ আসে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসে না। সরাসরি স্বাস্থ্য হেলথ প্রকৌশল বিভাগে এলে সিলেক্ট করে তারা কাজগুলো করে থাকে। এ বিষয়ে চার-পাঁচবার প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেছেন তার পুত্রবধূ। শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্যের দাবি, শোক সইতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা গেছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে মারা যান মো. মফিজুর রহমান মফিজ মিয়া। তার মৃত্যুর খবর শুনে ছেলে আলমগীর হোসেনের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মফিজ মিয়া সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া গ্রামের মরহুম হাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় আজিজিয়া কচ্ছপ মার্কেট জামে মসজিদ মাঠে মফিজ মিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, তার পুত্রবধূর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাবার বাড়িতে।
চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মফিজ মিয়া খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে পুত্রবধূ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। একই পরিবারের এক দিনের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যুতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা যেন উড়ন্ত অবস্থায় ছিল। তারা টানা ৯ ম্যাচ জয়লাভ করে লা লিগার ইতিহাসের সর্বকালের রেকর্ডও স্পর্শ করেছে। এরপর তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এই রিয়াল, যারা এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে কিছুটা দেরিতে হলেও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছিল। সেই রিয়ালই বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। রিয়াল বার্সাকে ২-১ গোলের হার উপহার দিয়েছে।
তবে স্কোরলাইনটি যেন ম্যাচের আসল চিত্রটি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বার্সেলোনার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফরকারী রিয়ালই দাপট দেখিয়েছে। দুটো গোলের কোনোটিই ম্যাচের ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
অন্যদিকে, বার্সেলোনা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। যখনই ইয়ামাল চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলেন, তখন তিনি বাজেভাবে ব্যর্থ হন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো রিয়াল গোলের দেখা পায় ৪১ মিনিটে। এতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। ইয়ান দিওমান্দের নিরীহগোছের এক ক্রস গিয়ে পড়ে জেরার্দ মার্তিনের পায়ে। তিনি সেটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। তবে সেটি বক্সে আগুয়ান এমবাপ্পের গা ছুঁয়ে জড়ায় জালে।
এই গোলের আগে পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও একই পথে হাঁটছিলেন। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইয়ামাল একটি বড় সুযোগ পেয়েছিলেন। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। কিন্তু তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাদ্রিদ দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পায়। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন, তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে। পাস দিলেই খেলা শেষ হতে পারতো। কিন্তু বেলিংহাম নিজে শট নিতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গোলটি বার্সার হয়ে আসে, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া, সেটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জড়ায় জালে। অনেকটাই ধারার বিপরীতে পাওয়া এই গোলের পর মনে হচ্ছিল বার্সা বুঝি এবার জেগে উঠল!
কিন্তু উলটো জাগল রিয়াল মাদ্রিদই। ৮৭ মিনিটে পেল তার ফল। আর এতে বেলিংহাম যেন কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। নিজেদের অর্ধে একাধিক বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইংলিশ এই মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দেন উইংয়ে। সেখানে আগুয়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, এবং গোল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।
এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়েছে। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে। আর তাতেই উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামতে হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য কোনো প্রার্থীকে বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হয়। এই নির্বাচনে সংসদ বা ইলেকটোরাল কলেজের কোনো ভূমিকা নেই। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে দুই শীর্ষ প্রার্থীকে।
এই দুই প্রার্থীর একজন হলেন বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, যিনি সাধারণত লুলা নামে পরিচিত। অপর প্রার্থী হলেন প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর জইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি অভ্যুত্থানের ব্যর্থ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। তবে তিনি তার ছেলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে তিনি নিজেও কারামুক্তির আশা করছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্টের।
ফ্লাভিও পেশায় আইনজীবী এবং রিও ডি জেনিরোর সাবেক সিনেটর। ২০২২ সালের নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন লুলা। সে সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লুলার শক্তিশালী জনসমর্থন ছিল, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে বলসোনারো এগিয়ে ছিলেন। প্রথম দফায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি মিনাস জেরাইস রাজ্যেও জয়ী হয়েছিলেন লুলা।
তবে ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে মিনাস জেরাইসে লুলাকে পেছনে ফেলেছেন ফ্লাভিও। ওই রাজ্যে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট, যেখানে লুলার ভোটের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার নজির নেই। এই কারণে এবারের নির্বাচন লুলার জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তবে প্রথম দফার ভোটের পর বলসোনারোর বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বড় ধরনের বিক্ষোভ লুলার শিবিরকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করেছে। রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশা করছেন তার সমর্থকেরা।
ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন। ২০২৩ সালে আবারও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার তার বয়স ৮১ বছর পূর্ণ হবে। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোর বয়স ৪৫ বছর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ