ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা সংগঠনগুলো গুপ্ত দলের আখড়া: ছাত্রদল সভাপতি


ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা সংগঠনগুলো গুপ্ত দলের আখড়া: ছাত্রদল সভাপতি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহশিক্ষা সংগঠনগুলোতে রাজনৈতিক পদধারীদের অন্তর্ভুক্তিতে নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে গুপ্ত সংগঠনের মুনাফেক নেতা-কর্মীরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি সহ অধিকাংশ সামাজিক -সাংস্কৃতিক - সহশিক্ষামূলক সংগঠনগুলোকে গুপ্ত রাজনীতির আখড়া হিসেবে ব্যবহার করছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তার ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা বলেন।

রাকিব তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এসব সহশিক্ষা সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও লেনদেন পুরোপুরি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। বিগত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক সংগঠনগুলোতে যারা শীর্ষ পদে ছিল, পরবর্তীতে তারা কোন দলের পারপাস সার্ভ করে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলেই তার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, "এভাবে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুপ্ত রাজনীতি'র আতুর ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। অচিরেই গুপ্তদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।"

আরও পড়ুন: শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব আয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আইজিপির

তিনি দাবি করেন, সত্যিকারের সাধারণ শিক্ষার্থী অথবা যারা প্রকাশ্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, উভয়েরই মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি সহ ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে অবাধ প্রবেশিধার নিশ্চিত করতে হবে।

এক শ্রেণির অরাজনৈতিক সংগঠনের পদধারী যারা গুপ্ত মোনাফেকদের জাকাতের টাকায় জীবন জীবিকা নির্বাহ করে শিবিরের ঢাল হিসেবে ছাত্রদলকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্ররোচিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। রাকিব বলেন, অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে গুপ্ত রাজনীতি মুক্ত করতে হবে। অন্যথায়, ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক অনাকাঙ্খিত প্রেক্ষাপটে যারা শিবিরের বি টিম হিসেবে ছাত্রদলকে মোকাবিলা করতে আসবে, তাদেরকে আজ থেকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, গুপ্ত রাজনীতিতে জড়িত হয়েও যারা অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো দখল করে শিবিরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করছে তাদের হাত থেকে এই সংগঠনগুলো উদ্ধার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণসহ প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সব শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন।

যারা নিরপেক্ষতার আড়ালে ক্যাম্পাসভিত্তিক সংগঠনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আন্ডারগ্রাউন্ড ইউনিট হিসেবে কাজ করে, মব সংস্কৃতি, গালাগালা বা গুপ্ত রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে তাদের কর্মকাণ্ড গোপন থাকবে না। তিনি বলেন, "সময়ই তাদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করবে এবং সেই অনুযায়ী আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।" সেজন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য হিটলার বিশ্বাসের মৃত্যু

রাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। গত রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে তিনি প্রশ্ন করেন, "এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িত শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমরা সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আপত্তিকর এআই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জাহ্নবী কাপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


আপত্তিকর এআই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জাহ্নবী কাপুর

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর, যিনি ‘দেবারা’ সিনেমায় জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, এবার আলোচনায় এসেছেন একটি আপত্তিকর ভিডিওর কারণে। এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এবং এটি সিনেমাটির ‘চুট্টামাল্লে’ গানের দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকজন তারকা ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবার জাহ্নবী নিজে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

জাহ্নবী ইনস্টাগ্রামে একটি লিখিত বার্তায় উল্লেখ করেন, "প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সম্মতি ছাড়া বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া যৌন নিপীড়নেরই আরেকটি রূপ।" তিনি আরও বলেন, নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সম্মতি ছাড়া বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া, এসবই যৌন নিপীড়নের একটি রূপ। জাহ্নবী জানান, "আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই এরকম কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। আর সবখানেই নারীরা এমন আচরণের শিকার হচ্ছেন।"

নারীর শরীর, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সম্মতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "একজন নারী কোনো বিষয়ে সম্মতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার রয়েছে। তার ‘না’কে যেকোনো পরিস্থিতিতে সম্মান করতে হবে।" জাহ্নবী আরও বলেন, "একজন নারী ছোট পোশাক পরেছেন বলেই তার শরীরের ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ বা আপত্তিকরভাবে ছবি ধারণের অনুমতি কেউ পেয়ে যান না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "একজন নারী কী পরবেন, কোন বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন এসব একান্তই তার ব্যক্তিগত অধিকার।" সাম্প্রতিক এআই-নির্মিত ভিডিওর ঘটনাকে বৃহত্তর একটি সমস্যার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জাহ্নবী বলেন, "ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হুমকি ও হয়রানি বাড়লেও বাস্তব জীবনেও নারীদের নিরাপত্তা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।"

পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, "শুধু নারীদের বা মেয়েদের নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিলেই হবে না; একই সঙ্গে যে মানসিকতা অন্যের সীমারেখা লঙ্ঘনকে বৈধ মনে করে, সেটিও বদলাতে হবে।"

এ সময় এআই-নির্মিত ওই আপত্তিকর ভিডিওর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জুনিয়র এনটিআর ও চিরঞ্জীবীকে ধন্যবাদ জানান জাহ্নবী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো তারকাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বার্তার শেষদিকে নারীর প্রতি সম্মান ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে জাহ্নবী বলেন, "একজন নারী শুধু একজন মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। তার শরীর যখন তার নিজের, তখন তার ছবি, সীমারেখা ও সিদ্ধান্তও তার নিজের।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কার্যক্রম স্থগিতের ইঙ্গিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কার্যক্রম স্থগিতের ইঙ্গিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি উল্লেখ করেন, যদি নিরাপত্তা হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম স্থগিত করার সম্ভাবনাও অস্বীকার করেননি।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের শহর ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

রুবিও বলেন, "কিয়েভে আমাদের দূতাবাসের উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে আমাদের কূটনীতিকদের অবস্থান করা কতটা নিরাপদ, তা আমরা নিজ থেকেই নির্ধারণ করব।" তিনি রাশিয়ার সতর্কবার্তাকে নতুন কিছু নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, "রাশিয়ান পক্ষ থেকে কয়েক মাস ধরেই কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কিয়েভ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভ নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে—এ ঘটনা কারোর জন্যই নতুন কোনো বিষয় নয়।"

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বিশ্বের প্রতিটি দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিদিন গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করা হয়। যদি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়, তবে মার্কিন প্রশাসন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে, কিয়েভ দূতাবাসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে তিনি জানান।

এর আগে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ সতর্ক করে বলেন, কিয়েভে পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোকে সব ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবস্থায় দূতাবাস খোলা রাখা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


কেরানীগঞ্জে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চুরি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ‘সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস’-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন কয়েক শতাধিক শ্রমিক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ গত মে মাস থেকে টানা ৫ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ রেখেছে। বকেয়া বেতনের বিষয়ে কথা বললে বারবার আশ্বাস দিলেও এখন তারা টালবাহানা করছেন। উল্টো বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মিথ্যা চুরি মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের লেবার ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিগত তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছি না। মা খুব অসুস্থ, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করানো দরকার। মালিকপক্ষের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও টাকা পাইনি। কেবল আমরা তিন ইনচার্জই কম্পানির কাছে পাওনা ২৪ লাখ টাকা। বেতন না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে দিন কাটছে।’

অডিট প্রধান আব্দুল গাফফার জানান, তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না। পারিবারিক সমস্যার কারণে একদিন কাজে আসতে না পারায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। হিসাব বুঝিয়ে দিতে বললেও তা না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর মামলা ও হামলা হচ্ছে।

গাড়ি চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কারো তিন-চার মাস, আবার কারো পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া। দিনরাত গাড়ি চালিয়ে কোম্পানির সেবা করলেও বিপদের দিনে তাদের পাশে পাচ্ছি না। এখন বকেয়া বেতন চাইলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জমি বন্ধক রেখে সংসার চালাতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া দিতে না পেরে পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি; পাওনাদারের ভয়ে নিজের বাসায় চোরের মতো রাত কাটাতে হয়।’

কর্মচারীরা হুশিয়ারি দিয়ে জানান, দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

সদাগর এক্সপ্রেসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের সময় নতুন মালিক সকল কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন বেতন দেবেন না এবং নতুন লোক নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় বখাটে ও কিশোর গ্যাং দিয়ে আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ন্যায্য পাওনা চাওয়ায় শ্রমিকদের ওপর একটি ভিত্তিহীন চুরি মামলা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, এসব অন্যায় আচরণ ও নিরাপত্তার অভাবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এবিষয়ে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সিএনএন বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকলেও, তার রক্ষণশীল পপুলিস্ট জাতীয়তাবাদের প্রভাব বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা, বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রথম দফার নির্বাচনে চমকপ্রদ সাফল্য এই প্রবণতার সর্বশেষ উদাহরণ। গত রোববারের ভোটে তার এই উত্থান পশ্চিম গোলার্ধে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রতিশ্রুত পরিবর্তন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী শক্তি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি জাতীয় পর্যায়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। ফ্রান্সে ডানপন্থি নেতা মেরিন ল্য পেন আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।

এসব দল সরাসরি ট্রাম্পের অনুকরণে গড়ে ওঠেনি। অনেক দলের উত্থান ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনেরও আগে। তবে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা তাদের অনুপ্রাণিত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনও ইউরোপের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে।

ব্রাজিলে বলসোনারোর চমক

ফ্লাভিও বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বড় ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জইর বলসোনারো কারাগারে রয়েছেন।

এখন লুলার সামনে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মাত্র তিন সপ্তাহ সময় রয়েছে। তিনি জয়ী হতে না পারলে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্র আরও ডানদিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

ব্রাজিলের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাবও স্পষ্ট। মার্কিন সিনেটর জিন শাহিন, টিম কেইন ও পিটার ওয়েলচ গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করে ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।

এদিকে রোববারের নির্বাচনের পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি ব্রাজিলে ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভোট দেওয়ার পর একই দিনে ফল প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ডানপন্থি শক্তির উত্থান ঘটছে। কলম্বিয়ায় ডানপন্থি নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা এ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। কোস্টারিকায় পপুলিস্ট নেতা লরা ফার্নান্দেজ দেলগাদোর জয়ের পর দেশটিতেও ট্রাম্পঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এল সালভাদর, চিলি ও হন্ডুরাসেও রক্ষণশীল সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প আর্জেন্টিনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রা বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা দেশটির আইনসভা নির্বাচনে মিলেইর দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুক্ত ছিল।

ইউরোপেও ডানপন্থার ঢেউ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে মেরিন ল্য পেনের উত্থান আগামী বছর ইউরোপের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যর্থ হলেও এবার তিনি আগের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

ফ্রান্সের দুই দফার নির্বাচনী ব্যবস্থায় অতীতে মধ্যপন্থি দলগুলো ল্য পেনকে ঠেকাতে একজোট হয়েছে। কিন্তু মধ্য-ডান ও মধ্য-বাম রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ল্য পেন তার ন্যাশনাল র্যালি দলকে আগের তুলনায় মধ্যপন্থি করার চেষ্টা করলেও জাতীয়তাবাদ, অভিবাসনবিরোধিতা, সুরক্ষাবাদী অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বিরোধিতার অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

জার্মানির এএফডি নিয়ে ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতাদের উদ্বেগ আরও বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসিবাদের ইতিহাসের কারণে জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থার উত্থান বিশেষভাবে সংবেদনশীল বিষয়।

এএফডি ল্য পেনের দল এবং ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের চেয়েও ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। দলটির বিরুদ্ধে ইতিহাস অস্বীকার, ইহুদিবিদ্বেষ ও জাতিগত জাতীয়তাবাদের অভিযোগ রয়েছে। তবু এটি এখন জার্মানির পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি।

গত বছর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিউনিখে এএফডি নেতা অ্যালিস ভাইডেলের সঙ্গে বৈঠক করে ইউরোপে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। গত মাসে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডির বড় জয়ের পর ট্রাম্পও দলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের সব রাজনৈতিক মিত্র সফল হননি। ট্রাম্পের সমর্থন সত্ত্বেও হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের ডানপন্থি নেতা ভিক্টর অরবান এ বছর ক্ষমতা হারিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্ক ইরান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে শীতল হয়েছে।

পাল্টা জনতুষ্টিবাদের উত্থান

ট্রাম্পধারার পপুলিজমের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনৈতিক আন্দোলনও গড়ে উঠছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

কার্নি বলেছিলেন, বিশ্বে যখন জনতুষ্টিবাদ ও জাতিগত জাতীয়তাবাদ বাড়ছে, তখন কানাডা দেখাতে পারে যে বৈচিত্র্য দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি শিল্পোৎপাদন কমে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ও বেসরকারীকরণের মতো নীতিকে দায়ী করেন।

তবে বার্নহ্যাম ব্যর্থ হলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থি জনতুষ্টিবাদের উত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাফল্য সেই প্রবণতাকে সামনে এনেছে।

স্থায়ী রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে উঠছে?

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে বৈশ্বিক জনতুষ্টিবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভোটকেও তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখিয়েছিলেন।

তবে বিশ্বের ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদ এখন আর শুধু ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট এ আন্দোলনের নিজস্ব ভিত্তি তৈরি করেছে।

ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা কমলেও তার ধাঁচের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যে সহজে হারিয়ে যাবে, এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদের পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে বাম ও মধ্যপন্থি পাল্টা আন্দোলনও শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%