শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৩ পি.এম
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে সার বিক্রি এবং খাদ্যপণ্যে অনিয়মের অভিযোগে নেত্রকোণা জেলায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের বেতাটি বাজারে অবস্থিত ‘সাজল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি খুচরা সারের দোকান এবং সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার একটি দোকানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বেতাটি বাজারের ‘সাজল এন্টারপ্রাইজ’-এ সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছিল। সেখানে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত মূল্যের ইউরিয়া সার ১ হাজার ৬শ’ টাকায় এবং ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত মূল্যের ডিএপি সার ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযুক্ত দোকান মালিক তার অপরাধ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার পর অভিযুক্ত দোকান মালিক উপস্থিত কৃষকদের সামনে ভবিষ্যতে সর্বদা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির জন্য লিখিত ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে, সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার একটি দোকানে খাদ্যপণ্যে অনিয়ম পাওয়ার দায়ে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। দুইটি মামলায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন। জনস্বার্থে এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষায় জেলাজুড়ে এ ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। এই দেশে বসবাসকারী সকলেই এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান অংশীদার। সুতরাং, দেশকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর কোন ধর্মই অন্যায়, অবিচার কিংবা অশুভ শক্তিকে সমর্থন করে না। সকল ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানবকল্যাণ, ন্যায়, সৌন্দর্য, সহমর্মিতা ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। যদি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হয়, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণও নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন। তাই বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যদি সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তবে দেশ ও জাতির কল্যাণ অবশ্যম্ভাবী।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষই ন্যায়, কল্যাণ ও সুন্দরের পক্ষে। এই মানুষগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক কাতারে দাঁড়ায়, তাহলে সমাজে কোনো অন্যায় বা অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। সুতরাং, তিনি সকলকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার।
অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব দিলীপ নাগ কানাই, যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত চৌধুরী তপু ও সঞ্জিত দেবনাথসহ কুমিল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭ জন ওয়ারেন্টভুক্ত, ৬ জন মাদক মামলায় এবং ৫ জন অন্যান্য মামলায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, "রাজশাহী মেট্রোপলিটনের থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে এই শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে জন্মাষ্টমীর আনন্দ-উৎসবে যোগদান করেন।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র এবং ধর্মীয় নানা আয়োজনের মাধ্যমে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। টাঙ্গাইল শ্রীশ্রী কালীবাড়ির আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে শ্রীশ্রী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু শ্যামল হোড়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রী কালীবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শ্রীশ্রী কালীবাড়ি কমিটির নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা করছেন, যখন দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে গেছে। তার জাতীয় নিরাপত্তা দল মাসের পর মাস ধরে অভ্যন্তরীণ প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে, কেন ইরানের জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করছে না।
যুদ্ধের শুরুতেই ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যেখানে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ভরসা রেখে ধারণা করেছিলেন যে, তেহরানে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বিমান হামলার পর নাগরিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করবে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই ফলাফলের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়ায় অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা সংশয়ে ছিলেন। তবুও যুদ্ধ শুরুর প্রথম রাতেই ট্রাম্প ইরানি জনগণের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে সরকার পতনের ডাক দেন এবং একে প্রজন্মের মধ্যে একমাত্র সুযোগ বলে আখ্যা দেন।
তবে সেই চিন্তা দ্রুতই আড়ালে চলে যায় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা বেশি অগ্রাধিকার পায়। জুন মাসের দিকে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি ইরানের রেজিম চেঞ্জ নিয়ে কখনই মাথা ঘামাননি। তিনি তখন উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন খুব যুক্তিবাদী মানুষের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং অন্য দেশের সরকার উৎখাতের মার্কিন প্রচেষ্টা ইতিহাসে কখনও সফল হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের মনে এই প্রশ্ন সবসময়ই কাজ করছিল, কেন তার সরকার উৎখাতের আহ্বান কার্যকর হচ্ছে না।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের যাতায়াত যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি এবং তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনীতি স্তব্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছয় মাস আগে যে সরকার পরিবর্তনের চিন্তায় ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, আবার সেখানেই ফিরে এসেছেন। গত মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ইরানের জনগণ কখন জেগে উঠবে এবং লড়াই করবে?
এই যুদ্ধ এখন এক ধরনের পরিচিত চক্র বা নির্দিষ্ট ধারায় আবর্তিত হচ্ছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা গ্রীষ্মের শুরুর দিকের সেই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পুনরুল্লেখ করে ট্রাম্প গত বুধবারে জানান, প্রয়োজন পড়লে তিনি আরও বড় আকারের ধ্বংসাত্মক হামলার আদেশ দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি আরও জানান, এই চলমান যুদ্ধ বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলে তিনি মনে করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পর এই মুহূর্তে কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সচল নেই। বরং ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং লড়াই দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়াহুড়ো তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের অর্থনীতির চরম ধসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দলের অনেকেই চান, আসন্ন ক্যাপিটল হিল বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে এই যুদ্ধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যাক। ট্রাম্প দাবি করছেন তার নীতিতে নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই, কিন্তু সিনিয়র উপদেষ্টা এবং ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকান মিত্ররা সতর্ক করেছেন যে এই যুদ্ধ তীব্র হলে নির্বাচনের ফলাফলে তা বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বুধবার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ইরান আর কত চাপ সহ্য করতে পারে তা তার দেখার বিষয় নয় এবং এই নির্বাচনের পরোয়া তিনি করছেন না।
যুদ্ধের দৃশ্যমানতা কমানোর এই প্রক্রিয়ার সাথেই যুক্ত রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল; ইরানের অর্থনৈতিক রসদ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এখনো তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা না করলেও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ জনগণের ক্ষোভকে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, এই অর্থনৈতিক চাপ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রথম আঘাত এসে পড়বে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর।
ইরানে ইতিমধ্যে অর্থনীতির বাস্তব ধাক্কা লেগেছে; রেকর্ড মাত্রায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম প্রতি সপ্তাহে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান হু হু করে কমছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নতুন নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্বীকার করেছেন, তাদের দেশ এখন পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যার জন্য জনগণ ও দেশের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
তবে পরিস্থিতি অর্থনৈতিক দিক থেকে চরম আকার ধারণ করলেও সাধারণ মানুষের রাস্তায় নেমে সরকার পতনের আন্দোলনের সম্ভাবনা কম বলেই গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান শুরুর আগেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছিল যে, এভাবে সেখানে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং দীর্ঘ কয়েক মাসের লড়াইয়ের পরও তেহরানের শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতার ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। পাশাপাশি কয়েক দশকের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও এই প্রশাসনকে দুর্বল করতে পারেনি। এর বিপরীতে যেকোনো জনবিক্ষোভকে কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে, যেমনটা এই বছরের শুরুর দিকে ইতিহাসখ্যাত চরম দমনপীড়নের মাধ্যমে পরিচালনা করেছিল ইরানি প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সংকটের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ট্রাম্পের এই কৌশল বেশ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইরানি নেতৃত্ব বিশ্বাস করে যে এই অর্থনৈতিক চাপ কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ; যার মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি করে সরকার পরিবর্তন করা অথবা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা।
অন্যদিকে, সিআইএ বা অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন সরকারবিরোধী ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীদের অস্ত্র সরবরাহ করবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। ওভাল অফিসে তিনি শুধু বলেন, আমি এটা জানাতে পছন্দ করতাম, তবে তা বলাটা এখন উপযুক্ত হবে না। আর কেন ইরানি জনগণ একযোগে বিদ্রোহ করছে না, সেই প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা সহানুভূতি প্রকাশ করে স্বীকার করেন, আমি তাদের দুর্দশা বুঝতে পারছি, রাস্তায় নামলেই তাদের গুলি করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ