ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই


ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভা প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করার উচ্চ ব্যয় এবং ব্যবসায়িক গতি শ্লথ হয়ে পড়ার কারণে বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ক্যানভার মোট কর্মীর ২২ শতাংশ, যা ১ হাজার ২৭১ জন কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে বা তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এই তথ্য বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার, কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্যানভার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেলানি পারকিন্স উল্লেখ করেন, “এটি ক্যানভার ১৩ বছরের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। আমাদের কিছু কর্মীর কাজের ধরণে পরিবর্তন আসবে এবং তাদের কেন্দ্রীয় হাবে স্থানান্তরিত হতে বলা হবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের অনেক সহকর্মীকে বিদায় জানাতে হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর হয় না: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

এই বছরেই গত এক দশকে প্রথমবারের মতো ক্যানভার প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের ৩৭টি দেশে ক্যানভার কার্যক্রম ছড়িয়ে থাকলেও সিডনিকে প্রোডাক্ট টিমের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে দূর থেকে বা হাইব্রিড মডেলে কাজ করা কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন অফিসে এসে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন পণ্য চালুর জন্য এআই সংক্রান্ত অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্যানভার দুই প্রধান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—‘ব্ল্যাকবার্ড ভেঞ্চার্স’ ও ‘এয়ারট্রি’ কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন যেখানে প্রায় ৬ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ছিল, তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

মেলানি পারকিন্স ২০১৩ সালে ক্যানভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সহজে পোস্টার, কার্ড বা প্রেজেন্টেশন ডিজাইন করতে পারেন।

আরও পড়ুন: ‘বিজনেস ব্রেইন’ ও ‘জয়া’ দিয়ে ব্যবসা সামলাবে বিটোপিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

খুলনার পাইকগাছায় অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাধিক দুঃস্থ ও অসহায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স এবং গাইনিসহ বিভিন্ন রোগের জন্য এই সেবা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার গড়ইখালীর বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জি এম আব্দুর রবের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পটির পরিচালনা ও সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার পরিচালিত বিনোদিনী হাসপাতাল।

মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোঃ হারুনর রশীদ, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম আজম, স ম রেজাউল করিম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা ওবায়দুল্লাহ সরদার, নজরুল ইসলাম, বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল, সাবেক শিক্ষক গাজী আব্দুস সাত্তার এবং শিক্ষক হাফিজুর রহমান।

এই দিনব্যাপী ক্যাম্পে এলাকার ৬ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, অধ্যাপক ডাঃ পরিতোষ কুমার চৌধুরী, ডাঃ রুবাইয়া ইয়াসমিন, ডাঃ ইতি রাণী ঘোষ, ডাঃ প্রমা সাহা এবং ডাঃ চুমকি মহান্ত।

উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগণ হাতের কাছে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেয়ে আয়োজকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিচারক হওয়ার স্বপ্নে বাধা দারিদ্র্য

ভ্যান চালকের মেয়ে সুমনা এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


ভ্যান চালকের মেয়ে সুমনা এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। প্রতিটি ভোর শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই দিয়ে। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও দারিদ্র্যকে জয় করে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী সুমনা খাতুন। তার এই সাফল্যে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি এখন দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। কারণ, উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সে।

সুমনা উপজেলার দোগাছি গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুর রাহিম বিশ্বাস ও গৃহিণী তাহমিনা খাতুনের দ্বিতীয় মেয়ে। সে ধানাইদহ খলিশাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারে প্রতিদিনের খাবারের জোগান দেওয়াই যেন একেকটি যুদ্ধ। বাবা দিনভর ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। অন্যদিকে, মা হিসাব করে সংসারের খরচ সামলান। এমন অভাবের সংসারে তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে দারিদ্র্য সুমনার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে টুম্পার উচ্চশিক্ষার পথও ছিল বেশ কঠিন। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো হোটেলে থালাবাসন ধুয়েছেন, আবার কখনো বাজারে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করেছেন। বড় বোনের সেই সংগ্রামী জীবনই সুমনাকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া দুই বোনের স্বপ্নপূরণের পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশী মাইনুল ইসলাম। অভিভাবকের মতো পাশে থেকে তিনি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

সুমনার এই সাফল্যে শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী আনন্দিত। তবে আনন্দের পাশাপাশি পরিবারটির সামনে এখন বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চশিক্ষার ব্যয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন ফি, ভর্তি ও আবাসন খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। ভ্যান চালিয়ে বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

বিচারক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় সুমনা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার সেই স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার ও এলাকাবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে: আইআরজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে: আইআরজিসি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো দেশকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি।

তিনি আল-আলমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সহযোগিতা ও সমন্বয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেলালি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বেলালি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অনেকাংশে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো থেকে ইসরাইল-অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।

এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত হামলা কৌশলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তার মতে, ইরানের অস্ত্রের আওতায় থাকা কোনো এলাকাকেই মার্কিন সেনাদের জন্য নিরাপদ বলা যায় না।

এই অবস্থায়, মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং উৎপাদিত অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য আরও স্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের দাফন সম্পন্ন, গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের দাফন সম্পন্ন, গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ক্ষোভ

একাত্তরের রণাঙ্গনে যিনি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীন মানচিত্র, মৃত্যুর পর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি প্রশাসনিক উদাসীনতা ও নিদারুণ অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এই বীর সেনানিকে শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কুয়াশাঘেরা এক গোধূলিলগ্নে রাষ্ট্রীয় সম্মানহীন দাফন সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসছেন, যা নিয়ে পুরো কুমিল্লাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮) দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যের শেষ দিনগুলো তিনি ঢাকায় ছেলের কাছে কাটিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার মাটিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওই দিনই ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামে আনা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা বেজে যাওয়ায় শোকার্ত পরিবার ও এলাকাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন-যদি বীরের এই শেষ যাত্রায় রাষ্ট্রীয় সালাম ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের কোনো সাড়া মেলেনি।

মরহুমের ভাই শাহজাহান গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু প্রশাসনের অবহেলায় তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত-যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, মৃত্যুর পর সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না!"

স্থানীয় মহালক্ষীপাড়া গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ম না থাকলেও অন্তত প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত, কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, প্রশাসনের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম সাফাই গেয়েছেন যে, সন্ধ্যার পর নাকি গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, "আমি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার না দেওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।"

এদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, "আমরা গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছিলাম এবং পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও উপস্থিত হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছি।"

অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম সাফাই গেয়ে বলেন, "সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার বিধান নেই। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি, তাই এটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।" এ সময় তিনি সংবাদকর্মীকে বিষয়টি ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লার 'মান-সম্মানের প্রশ্ন' হিসেবে বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অদ্ভুত অনুরোধ জানান।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নিথর দেহ নিয়ে প্রশাসনের এমন লুকোচুরি, দায়িত্বহীনতা ও অজুহাতের সংস্কৃতি কেবল একটি শোকাহত পরিবারকেই নয়, কলঙ্কিত করেছে পুরো জাতির আত্মাকে। প্রশ্ন উঠেছে- দেশের জন্য যুদ্ধ করা একজন বীরের এমন অপমানের দায় কি প্রশাসন এড়াতে পারবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%