১০:২০ এম
বরিশাল মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বিসিসি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনিতে ‘গাঁজা রফিক’-এর মালিকানাধীন স্নেহা ভবনে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, নগদ অর্থ, মোটরসাইকেল এবং মাদক বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এদিকে কোতোয়ালি থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গাঁজা রফিক’-এর আস্তানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালত কর্তৃক জামিন বাতিল এবং আত্মসমর্পণের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা অমান্য করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত
অভিযুক্ত রফিক মহানগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি এলাকায় মাদক ব্যবসার অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গাঁজা রফিক দীর্ঘদিন ধরে রিফিউজি কলোনিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা রুবেল’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার ‘ডান হাত’ হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। এই সন্ত্রাসী চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিফিউজি কলোনি এলাকায় নাক কাটা রুবেল ও তার বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ভিডিওচিত্র এবং বিশেষ প্রতিবেদন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’-তে প্রকাশ করেন স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম।
এরপর নাক কাটা রুবেলের অতীত অপরাধ এবং অন্ধকার জগতের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে ‘তালাশ বিডি’-তে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে এই সন্ত্রাসী চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম নিয়মিত হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সাংবাদিক আসলাম। তিনি মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা নাক কাটা রুবেল, গাঁজা রফিক, মাইনুল, তাপস ও তুহিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করেন। এ সময় তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
এই ঘটনার পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বরিশাল বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলার আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানাকে আবেদনটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার পরও গাঁজা রফিক বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক আসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিতে থাকেন। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড এবং থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত গাঁজা রফিকের জামিন বাতিল করে তাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গাঁজা রফিক আইন অমান্য করে আত্মসমর্পণ না করে পলাতক অবস্থায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
বর্তমানে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি গাঁজা রফিকের ডেরায় অভিযান সম্পর্কে কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার গোলাম নাসিম জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। পলাতক গাঁজা রফিককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন