বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৫৪ পি.এম
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের সরই গ্রামে দুই সন্তান ও স্বামীকে রেখে এক সৌদি প্রবাসীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তাসলিমা বেগম নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (ফেসবুক) সূত্রে সিলেটের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী যুবক হাফেজ আল আমিনের সঙ্গে তাসলিমার পরিচয় হয়। সময়ের ব্যবধানে তাদের এই পরিচয় ঘনিষ্ট সম্পর্কে রূপ নেয়। চলতি মাসেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
১২ বছরের সাজানো সংসার ভাঙার অভিযোগ
ভুক্তিভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে তাসলিমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৫ ও ১৩ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রবাসী যুবক হাফেজ আল আমিন বিভিন্ন লোভ-লালসা ও প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এই দীর্ঘদিনের সাজানো-গোছানো সংসারটি ভেঙে দিয়েছেন।
এদিকে, দুই সন্তানকে ফেলে মায়ের এমন সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে পুরো ইউনিয়নজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
প্রতারণা, পরকীয়া কিংবা অন্যের প্ররোচনায় সংসার ভাঙার এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তার এবং হাফেজ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরকল উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং ওষুধ বিতরণ করেছে ছোট হরিণা ১২ বিজিবি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার ভূষণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আসা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১২ বিজিবি ছোট হরিণা জোনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ বিতরণ করা হয়।
বিজিবির দক্ষ মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. আসিফুর রহমান এই চিকিৎসা সেবাসহ ওষুধ বিতরণ করেন।
তিনি জানান, বরকল উপজেলার ছোট হরিণা জোনের পক্ষ থেকে প্রায় ১৫০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।
এ সময়, ছোট হরিণা জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. আসিফুর রহমান আশ্রয়কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিজিবি এ ধরনের দুর্যোগে বন্যার্তদের পাশে ভবিষ্যতে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং নতুন তহবিল-সমর্থিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আইএমএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে।
সফরকালে তারা দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সফরের পর এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে ধারণা পাওয়া গেছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির পরিধি, অর্থের পরিমাণ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। তবে এসব বৈশ্বিক প্রতিকূলতার সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেছে আইএমএফ।
আইএমএফের মতে, রাজস্ব আহরণ জোরদার, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং বিচক্ষণ রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুসরণ করলে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ (দেশীয় মুদ্রার সাথে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি) বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখলে বিনিময় হার আরও নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
আইএমএফ মনে করে, বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত ব্যাংকিং খাত সংস্কার কৌশল সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং মধ্যমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
সফরকালে সহযোগিতা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়েছে আইএমএফ এবং বলেছে যে, দেশের সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা আগ্রহী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১৯৬ কোটি ডলার মূল্যের 'প্রিসিশন-গাইডেড' রকেট সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফরেন মিলিটারি সেল’ (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় সৌদি আরবের কাছে এই উন্নত সমরাস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই চুক্তির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে মূলত ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ এয়ার-টু-এয়ার গাইডেন্স সেকশন এবং আরও ১০ হাজার ‘এপিকেডব্লিউএস-টু’ এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন ক্রয়ের জন্য অনুরोध জানানো হয়েছিল।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও জানাচ্ছে, এই প্রস্তাবিত বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে— এলএইউ-১৩১ এ/এ লঞ্চার, এমকে-১৫২ হাই এক্সপ্লোসিভ ওয়ারহেড, এমকে৬৬ রকেট মোটর, প্রক্সিমিটি ফিউজ, ডব্লিউটিইউ-১/বি প্র্যাকটিস ওয়ারহেড এবং ইনার্ট এমকে৬৬ রকেট মোটর।
এছাড়াও, চুক্তির আওতায় টেস্ট সাপোর্ট সরঞ্জাম, লঞ্চ ও এমপ্লয়মেন্ট সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ ও মেরামত সরঞ্জাম, প্রকাশনা ও কারিগরি নথিপত্র (ডকুমেন্টেশন), সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। একই সময়ে মার্কিন সরকার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল ও লজিস্টিক সাপোর্ট সার্ভিসসহ লজিস্টিকস ও প্রোগ্রাম সাপোর্টের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, শাবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক সালমা ইসলামও ছিলেন।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বক্তব্যে বলেন, "ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, সেই সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য। ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে পুনরায় কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলকে সর্বদা সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
এ সময় জুলাইয়ে হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐতিহাসিক একটা গৌরব রয়েছে। সেই গৌরবকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, ছাত্রদল সততা ও আদর্শকে ধারণ করবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও কর্মধারা দেখছেন। তিনি একজন রোল মডেল। তিনি আচরণে বিনয়ী এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদেরও ভালো কাজ করতে হবে। আপনাদের কোনো ভালো আইডিয়া থাকলে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে পারে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে এবং একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ