রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ পি.এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ৯ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীরা সবাই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এদের মধ্যে ৮ জন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের এবং একজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৯টি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিগুলোতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টার সময় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডি-২০০ নম্বর কক্ষে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে দুই ঘণ্টা ধরে অপমান, হেয় ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একই ধরনের একটি ঘটনা ২ সেপ্টেম্বরেও ঘটেছিল বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার মধ্যে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রশাসন র্যাগিং এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে সাপের কামড়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, যিনি ওহিদুল ইসলাম নামে পরিচিত। এই ঘটনা ঘটে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নওদা গ্রামে।
নিহত কৃষক ওহিদুল ইসলাম ছিলেন মোস্তফা হোসেনের পুত্র।
পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই দিন সন্ধ্যার সময় ওহিদুল ইসলাম তার ড্রাগন ফলের বাগানে কাজ করতে যান। বাগানের সুরক্ষার জন্য দেওয়া নেটে পেঁচিয়ে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের বিষয়টি অনুভব করে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। ওঝার ঝাড়ফুঁকের এক পর্যায়ে ওহিদুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর ২০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিকেলে তার মৃত্যু ঘটে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, বর্ষার কারণে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার পারলিস রাজ্যের কুয়ালা পারলিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জল উৎসব ২০২৬-এ ৫৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থী সমাগম ঘটেছে। ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর এবং ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর দুই ধাপে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা কুয়ালা পারলিসের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খাবারের দোকান এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
পারলিসের মুখ্যমন্ত্রী আবু বকর হামজা মন্তব্য করেন, বিপুল দর্শনার্থীর উপস্থিতি এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর ফলে কুয়ালা পারলিসসহ পারলিস রাজ্যের স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজন শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে সচল রাখতে সহায়তা করে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ উৎসবের প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুয়ালা পারলিসের দাতারান এমবিআইতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, উৎসবের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ১৯টি গ্রামের বাসিন্দারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। নিজেদের শ্রম ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তারা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসবের কৌশলগত অংশীদার অ্যাগ্রোব্যাংকের পক্ষ থেকে ১ লাখ রিঙ্গিত অনুদানের প্রতীকী চেক গ্রহণ করেন আবু বকর হামজা। এ সময় অ্যাগ্রোব্যাংক পেনাং, কেদাহ ও পারলিস অঞ্চলের পরিচালক সাফারুদ্দিন সামসুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উৎসব উপলক্ষে অ্যাগ্রোব্যাংক একটি প্রদর্শনী স্টলও স্থাপন করে, যেখানে দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়। আগ্রহীরা ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সেবা ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান।
পারলিসের মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বছর রাজ্য সরকার গ্রাম সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার আয়োজনকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এবারের আয়োজন ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করলেই উৎসবের আমেজ চোখে পড়ে। প্রতিটি গ্রাম নিজেদের মতো করে সাজিয়ে তুলেছে এবং সৌন্দর্যবর্ধন প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
গ্রামগুলোর এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইরের অনেক মানুষও এসব আয়োজন দেখতে গ্রামগুলোতে এসেছেন। ভবিষ্যতে পারলিসসহ অন্যান্য এলাকার মানুষকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আবু বকর আশা প্রকাশ করেন, কুয়ালা পারলিসের আন্তর্জাতিক জল উৎসব ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে এবং আরও বেশি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী আকৃষ্ট করবে।
তিনি বলেন, পারলিসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জনগণের অনন্য বৈশিষ্ট্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। এসব ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যকে পর্যটনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে তা পারলিসের পর্যটন খাতের শক্তি ও স্বাতন্ত্র্য আরও বাড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চরম শোকের মুহূর্তে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল। তেলেঙ্গানায় দুই 'ব্রেন ডেড' (মস্তিষ্ক মৃত) ব্যক্তির অঙ্গদানের ফলে আটটি অমূল্য প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হলো। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারতের হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার বিসি সজ্জনার এই দুই দাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় সজ্জনার জানান, “কামারেড্ডি জেলার ২৬ বছর বয়সী আইটি কর্মী (টেকি) বিনয় এবং ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার ৬০ বছর বয়সী পদ্মা অন্ডালু—মৃত্যুর পর তাঁদের অঙ্গদানের মাধ্যমে আটজন মানুষকে নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন।”
তিনি দাতাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অসীম দুঃখ ও বেদনার মুহূর্তের মধ্যেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে যে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও মহান।”
বার্তা অনুযায়ী জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ব্রেন টিউমারের কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তরুণ আইটি কর্মী বিনয়। ১৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা তাঁকে 'ব্রেন ডেড' ঘোষণা করেন। বিনয়ের দান করা কিডনি ও লিভার চারজন রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং তাঁর হৃৎপিণ্ড বাঁচিয়ে তোলে আরও একটি জীবন।
অন্যদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন পদ্মা অন্ডালু। ১৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা তাঁকেও 'ব্রেন ডেড' ঘোষণা করলে তাঁর স্বামী কালক্ষেপণ না করে অঙ্গদানের মহৎ সিদ্ধান্ত নেন। পদ্মার দুটি কিডনি ও লিভারের মাধ্যমে নতুন জীবন পান তিনজন মুমূর্ষু রোগী।
পুলিশ কমিশনার বিসি সজ্জনার আরও বলেন, “অঙ্গদান এক স্বর্গীয় সংকল্প। এটি মৃত্যুর পরেও অন্য কারও মাধ্যমে অমর হয়ে বেঁচে থাকার অনন্য সুযোগ করে দেয় এবং অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাওয়া একাধিক পরিবারে নতুন আলোর দিশা এনে দেয়।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক প্রসূতি মা কোনো ধরনের সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাটের বিএম হাসপাতালে এই তিন নবজাতকের জন্ম ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামগড় থেকে চিকিৎসার জন্য প্রসূতি মা বিএম হাসপাতালে আসেন। এরপর ডা. সৈয়দা ফারহিন আজম ও সিনিয়র নার্স হাসনা হেনার তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ের জন্ম দেন তিনি। তিন নবজাতকের মধ্যে বর্তমানে দুজন সুস্থ রয়েছে। অন্য নবজাতকটি তুলনামূলক কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। সেখানে শিশুর বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
নবজাতকের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেছেন, "একসঙ্গে তিন সন্তানের বাবা হতে পেরে আমি ও আমার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। আল্লাহর রহমতে মা ও দুই সন্তান সুস্থ আছে। আরেক সন্তানকে এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।" বিএম হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিএম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গনি ভূঞা রাহাত জানিয়েছেন, "একসঙ্গে তিন সন্তানের নরমাল ডেলিভারি নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াই সফলভাবে ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। মা ও দুই নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছে। অপর নবজাতকটি কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় তাকে এনআইসিইউতে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ