বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের এক তরুণ। ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন চুরি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন ২২ বছর বয়সী ম্যালোন লাম।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, ম্যালোন লাম তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিটকয়েন চুরি করেন এবং পরে বিভিন্ন উপায়ে সেই অর্থ পাচার করেন।
চুরি করা অর্থ দিয়ে লাম ও তার সহযোগীরা অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, তারা রাতের ক্লাবে এক সন্ধ্যায় ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতেন।
এছাড়া ১ লাখ থেকে ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের বিলাসবহুল ও বিরল মডেলের গাড়ির একটি বহরও কিনেছিলেন তারা।
সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে
লাম দোষ স্বীকার করলেও তার সাজা ঘোষণার দিনক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করেননি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কোলিন কোলার-কোটেলি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনিন পিরো বলেন, “আপনি যদি সাইবার অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, আমরা আপনাকে খুঁজে বের করব, আপনার অপরাধচক্র ধ্বংস করব এবং আইনের আওতায় আনব।”
তিনি বলেন, এই আসামি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের লক্ষ্যবস্তু বানাত, তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করত এবং শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করত।
১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে
তদন্তকারীদের কাছে লাম জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে তিনি ১৪ বছর বয়সে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরের বছরের জানুয়ারিতে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অপরাধী চক্রটির কার্যক্রম অন্তত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত চলেছে।
এই চক্রের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কয়েকটি দেশের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের পরিচয় হয়েছিল অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
অনলাইন প্রতারণা থেকে বাড়িতে চুরি
ডিওজে জানিয়েছে, ম্যালোন লামই ছিলেন এই অপরাধী চক্রের মূল হোতা। তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতেন এবং চক্রের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিতেন।
লাম বিভিন্ন সময়ে ‘অ্যান হ্যাথাওয়ে’, এবং ‘কিং গ্রেভি’ নামেও পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
চক্রের সদস্যরা প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের ঘটনাও ঘটেছে।
এসব তথ্য ব্যবহার করে তারা ভুক্তভোগীদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
বিলাসবহুল গাড়ি, ঘড়ি ও ব্যক্তিগত জেট
চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থ দিয়ে লাম ও তার সহযোগীরা বিলাসী জীবনযাপনের এক নজিরবিহীন আয়োজন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
তাদের কেনাকাটার তালিকায় ছিল লাখ লাখ ডলার মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি, দামি ঘড়ি, পোশাক এবং বিভিন্ন বিলাসপণ্য।
ডিওজের তথ্যানুযায়ী, তারা হেরমেসের বিখ্যাত বারকিন হ্যান্ডব্যাগও কিনেছিলেন, যার প্রতিটির মূল্য ছিল কয়েক লাখ ডলার। এসব ব্যাগ তারা নাইটক্লাবের পার্টিতে উপস্থিত মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছুড়ে দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চুরি করা অর্থে তারা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের বিলাসবহুল ঘড়ি কিনেছিলেন। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস, হ্যাম্পটনস ও মায়ামিতে ব্যয়বহুল বাড়ি ভাড়া নেন তারা।
ব্যক্তিগত জেট ভাড়া করে ভ্রমণ এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত দেহরক্ষী দলও নিয়োগ করেছিলেন এই অপরাধচক্রের সদস্যরা।
নাইটক্লাবের জগতে ‘কুখ্যাত’ লাম
তার আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপনের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেস ও মায়ামির নাইটক্লাব অঙ্গনে ম্যালোন লাম ব্যাপক পরিচিত ও কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে তার বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোরও নজর কেড়েছিল।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিআইয়ের এজেন্টরা লাম এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করলে অপরাধচক্রটির পতন শুরু হয়।
লামকে প্রথমবার আদালতে হাজির করার সময় মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক অ্যালিসিয়া ভ্যালে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ১৯৮৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ফেরিস বুয়েলারস ডে অফ’-এর একটি নেতিবাচক সংস্করণের তুলনা করেন।
তিনি বলেন, মামলার প্রমাণ শুনতে গিয়ে তার মনে হচ্ছিল, এটি যেন ‘বিপথে যাওয়া ফেরিস বুয়েলার’-এর গল্প।
বিচারক বলেন, লাম বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন নাইটক্লাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং ৩০টিরও বেশি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন।
বিচারকের ভাষায়, ২৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতে আসার পর যে মাত্রার ব্যয়বহুল ও উন্মত্ত জীবনযাপন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য।
সহযোগীর ৭০ মাসের কারাদণ্ড
এই অপরাধচক্রের অন্যতম সদস্য ইভান ট্যাঙ্গেম্যানকে চলতি বছরের এপ্রিলে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি অপরাধচক্রের চুরি করা অর্থ পাচারে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
ম্যালোন লাম গ্রেফতার হওয়ার পর ট্যাঙ্গেম্যান প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, আদালত তার এই কর্মকাণ্ডকে নিজের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ক্রিপ্টো অপরাধে নতুন সতর্কবার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিপুল সম্পদ ও ডিজিটাল ওয়ালেট নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং অর্থ পাচারের সমন্বয়ে এই চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ম্যালোন লামের দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত এই বিশাল ক্রিপ্টো চুরির মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এখন আদালতের রায়ে তার ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
দোষ স্বীকার করায় তার সাজা কমানোর সুযোগ থাকলেও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় লাম দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাটে অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি বর্তমানে জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে এবং কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খামারে অনুমোদিত ৫২টি পদের মধ্যে ৪২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে রাজস্ব খাতে মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পরেও এখানে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি হয়নি।
সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা ছাড়াই চলছে এই খামারের কার্যক্রম, যা মহিষের স্বাস্থ্য ও প্রজনন কার্যক্রমের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রাণি সম্পদ বিভাগ জানায়, খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ এলাকায় ১৯৮৪-৮৫ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এই খামারটি ৯৫ একর জমির উপর অবস্থিত। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল উন্নত জাতের মহিষের প্রজননের মাধ্যমে বাছুর উৎপাদন ও খামারিদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে দেশের মহিষ খাতের উন্নয়ন করা।
প্রতিষ্ঠার সময় এখানে ১১১টি মহিষ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে দুইজন কর্মকর্তা ও ৪৮ জন কর্মচারী ছিলেন। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যে রাজস্ব খাতে ৫২টি পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে মহিষের সংখ্যা বেড়ে ২৮০টিতে দাঁড়ালেও, সে অনুযায়ী রাজস্ব খাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। ভেটেরিনারি সার্জনের পদ কখনোই সৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে কর্মরত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে, ফলে ২২ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী দিয়ে খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর সকালে মাঠে ঘাস খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় হঠাৎ কয়েকটি মহিষ ছটফট করতে করতে মারা যায়, যার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এই ঘটনায় জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। একসঙ্গে এতগুলো মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় খামারে স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়।
প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটিতে এখনও রাজস্ব খাতে ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফকিরহাট মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আল মামুন জানান, বর্তমানে খামারটিতে ২৮০টি মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুধের ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিদিন সকাল ১১টার মধ্যে খামার থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে প্রতি কেজি দুধ ৭০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়।
এই ২৮০টি মহিষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭০০ কেজি দানাদার খাবারের মিক্সচার প্রস্তুত করতে হয়। খামারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু দুধ উৎপাদন নয়, উন্নত জাতের মহিষের প্রজনন, বংশবিস্তার এবং খামারিদের মধ্যে উৎপাদিত বাছুর বিতরণ করা। গত অর্থবছরে ১০১ জন খামারির মধ্যে ১৪১টি মহিষের বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খামারের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভেটেরিনারি সার্জনের প্রয়োজন। এছাড়া, অনুমোদিত ৫২টি পদের মধ্যে ৪২টি শূন্য দ্রুত পূরণ করা, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধানে একটি জেনারেটর, বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার ও উঁচু করাসহ নিচু এলাকায় মাটি ভরাট জরুরি হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ছড়িয়ে দিতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা না থাকাকে বড় ধরনের ঘাটতি আছে। তৃণমূলের এই সংকট দূর করতে ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়া হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আঁচল ফাউন্ডেশন এবং হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) আয়োজিত ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷
আত্মহত্যা রোধে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনগুলোকে শুধু প্রচার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে এম এ মুহিত বলেন, এই আন্দোলনকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিয়ে জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। একইসঙ্গে সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজের পাশাপাশি অন্যের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণের পিক সময় আসতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এইচআরডিসির প্রধান নির্বাহী মাহবুবুল হক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল সংকটের কার্যকর বিকল্প সমাধান হিসেবে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার একটি বড় পরিসরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বুধবার দুপুরে খুলনায় বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের প্রাঙ্গণে স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই তথ্য জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানিয়েছেন, টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে অন্তত দশ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কাটিয়ে প্রাকৃতিক শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত বাসাবাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতর ও কলকারখানার অব্যবহৃত উন্মুক্ত স্থানগুলিতে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় প্রথমবারের মতো নতুন ডাকবাংলো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের মেইনে রোডে অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে এ ডাকবাংলোর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক নাসির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, জেলা পরিষদের পুরাতন এ ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা এ ডাকবাংলোটি নতুন করে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর ধারাবাহিকতায় আজ ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন করা হলো। আগামী এক বছরে এ ডাকবাংলোর কাজ শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন এ ডাকবাংলো নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কাজে আগত অতিথিদের জন্যও এটি সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক শাহীনসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ