মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৬ এম
চলতি মৌসুমে সারা দেশে আমন ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির অভাবের কারণে
সংকটে কৃষকরা শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সংকটের কারণে আবাদি আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমন চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমনক্ষেত শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকরা আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আষাঢ় শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায়, কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করে জমিতে পানি নিয়ে আমন চারা রোপণ করছেন। বৃষ্টির অভাবে ফসলের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চিলমারী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির পানি শুকিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, কৃষকরা চারাগাছগুলোকে রক্ষা করার জন্য আবার শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ বাড়ছে এবং খরা দীর্ঘ হলে আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, এই অঞ্চলে আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এবারে বৃষ্টি না হওয়ায়, জমিতে পানি না থাকার কারণে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে জমি তৈরি করে আমন রোপণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে, জমিতে আগাছা ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়তে পারে। থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার আমন চাষি সোহেল রানা বলেন, "বৃষ্টির অভাবে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। চার বিঘা জমিতে আমন চারা রোপণ করি। ফসলের ক্ষেতে পানি না থাকায়, বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিচ্ছি।" রাজারভিটা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, "সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায়, আমন চাষে খরচ বেড়েছে। বৃষ্টি না হলে সেচের খরচও বাড়বে।" চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, "ধানের বৃদ্ধি পর্যায়ে
ঘাটতি হলে গাছের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে।" একই সঙ্গে কুশির সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং আগাছার পরিমাণ বাড়তে পারে। থোড় পর্যায়ে পানির ঘাটতি হলে শীষের দৈর্ঘ্য কমে যেতে পারে এবং চিটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ফলন কমার ঝুঁকি রয়েছে।
আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ, শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র। তবু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মাঝে-মধ্যে সামান্য বৃষ্টি হলেও শুকনো মাটি তা শুষে নিচ্ছে মুহূর্তেই। তীব্র খরায় চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চাষিরা। বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। ফলে বৃষ্টিনির্ভর আমন ধানও এখন সেচনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং খরা দীর্ঘ হলে আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের চারা রোপণ শেষের দিকে। পানির অভাবে অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রচণ্ড খরায় রোপণ করা জমিও শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে ধানের চারা। এতে আমন চাষিদের চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। বাকি জমিতে চলতি সপ্তাহের মধ্যে চারা রোপণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাষিরা জানান, আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ় থেকে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায়, অনেকে সময়মতো চারা রোপণ করতে পারেননি। ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়েও অনেক কৃষক সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছেন। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে জমিতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে।
জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক আহমেদ আলী বলেন, "বৃষ্টির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমিতে হাল দেওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো ধানের চারা রোপণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমি তৈরি করে আমন রোপণ করা ছাড়া উপায় নেই।"
কৃষক সুজন আহমেদ বলেন, "সার-বিষ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এমনিতেই আমন চাষে খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে সেচ খরচও বাড়ছে। ফলে এবার আমন চাষে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে।"
চাষিরা আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে হালচাষ, চারা রোপণ, সার-কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘ হলে সেচের খরচ আরো বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টিপাত কম হলেও চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমেও প্রচণ্ড রোদ ও খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে দ্রুতই আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় এক গৃহবধূসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের রামপুর বাজারসংলগ্ন চান্দপাড়া কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বান্দলন গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও অটোরিকশাচালক ওয়াজেদ মিয়া (৩৮) এবং আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী লিজা আক্তার (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লিজা আক্তারের স্বামী বাবু মিয়া বিডিআরে (বর্তমানে বিজিবি) কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ওয়াজেদ ও যাত্রী লিজা মারা যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত শিশুসহ তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ও শিশুসহ তিনজনের আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। নিহতদের মরদেহ প্রাথমিকভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং এটি ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ।
এছাড়াও, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল নামাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের ক্ষেত্রেও নামাজের আদেশ ছিল। তাই, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো—
নামাজ ও ওয়াক্ত শুরু
জোহর- ১১:৫৯ মিনিট
আসর- ৪:২৯ মিনিট
মাগরিব- ৬:২০ মিনিট
এশা- ৭:৩৪ মিনিট
ফজর (বুধবার)- ৪:২৩ মিনিট
অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হতে পারে।
বিয়োগ
চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
সিলেট: ৬ মিনিট
যোগ
খুলনা: ৩ মিনিট
রাজশাহী: ৭ মিনিট
রংপুর: ৮ মিনিট
বরিশাল: ১ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতুর অভাবে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের প্রতিদিন কাদা, নৌকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এই অঞ্চল থেকেই পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার বাজারে আসতে হয়। অথচ কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে দীর্ঘ তিন দশকেও একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানিয়েছেন, পাখিমারার প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান কাঠের পাটাতনের সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা মেরামত করা হলেও, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হয়নি।
কুমিরমারার প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, "৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন।" তিনি আরও জানান, এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরো বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, "নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।"
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে। নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাঁধের ১৬টি জলকপাট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এর ফলে স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। গতকাল রোববার সকালে এই গেটগুলো দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর পূর্বে, শনিবার রাতে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটের ওপেনিং আরো ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে, পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল রোববার সকালে গেটের ওপেনিং দুই ফুট করা হলে, স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক দুই ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায়, গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। পানির স্তরের এই বৃদ্ধি হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায়, বাঁধের ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু হয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
পানি ছাড়ার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এই অবস্থায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ