মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৩ এম
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় এক গৃহবধূসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের রামপুর বাজারসংলগ্ন চান্দপাড়া কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বান্দলন গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও অটোরিকশাচালক ওয়াজেদ মিয়া (৩৮) এবং আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী লিজা আক্তার (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লিজা আক্তারের স্বামী বাবু মিয়া বিডিআরে (বর্তমানে বিজিবি) কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ওয়াজেদ ও যাত্রী লিজা মারা যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত শিশুসহ তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ও শিশুসহ তিনজনের আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। নিহতদের মরদেহ প্রাথমিকভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং এটি ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ।
এছাড়াও, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল নামাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের ক্ষেত্রেও নামাজের আদেশ ছিল। তাই, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো—
নামাজ ও ওয়াক্ত শুরু
জোহর- ১১:৫৯ মিনিট
আসর- ৪:২৯ মিনিট
মাগরিব- ৬:২০ মিনিট
এশা- ৭:৩৪ মিনিট
ফজর (বুধবার)- ৪:২৩ মিনিট
অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হতে পারে।
বিয়োগ
চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
সিলেট: ৬ মিনিট
যোগ
খুলনা: ৩ মিনিট
রাজশাহী: ৭ মিনিট
রংপুর: ৮ মিনিট
বরিশাল: ১ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতুর অভাবে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের প্রতিদিন কাদা, নৌকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এই অঞ্চল থেকেই পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার বাজারে আসতে হয়। অথচ কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে দীর্ঘ তিন দশকেও একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানিয়েছেন, পাখিমারার প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান কাঠের পাটাতনের সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা মেরামত করা হলেও, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হয়নি।
কুমিরমারার প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, "৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন।" তিনি আরও জানান, এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরো বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, "নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।"
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে। নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাঁধের ১৬টি জলকপাট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এর ফলে স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। গতকাল রোববার সকালে এই গেটগুলো দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর পূর্বে, শনিবার রাতে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটের ওপেনিং আরো ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে, পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল রোববার সকালে গেটের ওপেনিং দুই ফুট করা হলে, স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক দুই ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায়, গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। পানির স্তরের এই বৃদ্ধি হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায়, বাঁধের ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু হয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
পানি ছাড়ার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এই অবস্থায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ এবং রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বরিশালে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তার প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। যদিও চিকিৎসাসেবায় দক্ষতা রয়েছে, তবুও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে সাধারণ রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা থেকে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষা থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তার রেফারেন্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেড ভাড়া থেকে ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রতিবার রাউন্ড দেওয়ার জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোগীদের নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পাঠিয়ে সেখান থেকেও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়। এমনকি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং তাদের সৌজন্যে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে শেবাচিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে সীমিত সময় সরকারি দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল, কেএমসি হাসপাতাল এবং বেলভিউ হাসপাতালে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন। প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন মাধ্যমে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিউরোমেডিসিন বিভাগের রোগীদের একটি অংশকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ নিউরোমেডিসিন বিভাগ গঠনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা ও ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নগরীর কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি বেলভিউ হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং কম মূল্যে হাসপাতালের শেয়ার কেনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ আয় গোপন করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার আয়কর নথি অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা তার আয়কর নথি পুনরায় তদন্ত ও নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ মাসুম নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতির কাছে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী দ্রুত তাকে শেবাচিম থেকে বদলি করা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে দ্বিতীয় সাংবাদে তুলে ধরা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ