রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
হাইকোর্ট স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী সাবেক কনস্টেবল আব্দুল আলীম সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। যৌতুকের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অপরদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি শামীম আল মামুনের দণ্ড সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ওপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন।
আসামিপক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কে এম এ আল ফাহাদ বিন সগীর।
আবদুল আলীম, যিনি কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে, এবং তার বন্ধু শামীম আল মামুন, আবুল হাশেমের ছেলে, এই মামলার আসামি। অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল আলীম ২০১১ সালের ৬ মে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সুমির বাবা তিন লাখ টাকা দেন। বাকি দুই লাখ টাকার জন্য আব্দুল আলীম প্রায়ই তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। একসময় তিনি সুমি আক্তারকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে আলীম তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে ঢাকার তুরাগ থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় শামীম আল মামুনের সহায়তায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমিকে হত্যা করা হয়।
আবদুল আলীম গ্রেফতার হওয়ার পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। নিহত সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় দণ্ডিত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর আব্দুল আলীমকে পুলিশ কনস্টেবল পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এই মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক খালেদা ইয়াসমিন দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিরা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিলও করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, "জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।" এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধুমাত্র প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।" বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি জানান। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা, জুলুম-নির্যাতন ও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, "সবাই ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে যে কোনো পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।"
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউজ ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থেই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের অপরাধে মোঃ আরিফ (৩৪) নামক এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রবিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র, উপপুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি বলেছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পবা থানা পুলিশ পিল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনারুলের ছেলে মোঃ আরিফকে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে।
এরপর ঘটনাস্থলেই মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং আরিফকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রাজানগর বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক বোতল ভারতীয় মদসহ কালীনগর গ্রামের সোহেল মিয়া (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে দিরাই থানা পুলিশ।
পরে দিরাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এত বড় ভাই নামগুলা কিন্তু সনজীত সরকার আটক সোহেল মিয়াকে ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ডসহ ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ওরফে আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও বাদী জাকির হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম তাকে জেরা করেন। জেরার পর মামলাটি আত্মপক্ষ শুনানির পর্যায়ে চলে যায়।
মামলাটির প্রেক্ষিতে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনসহ দুদকের ১১ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আদালত সিয়ামের আত্মপক্ষ শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
এদিন আদালতে সিয়ামের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী রেজাউল করিম। অপর দিকে, দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে সিয়ামের ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি তদন্তের পর, একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর গত ১৭ জুন একই আদালত সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ওইদিন মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। রবিবার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটির ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ