আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৫:০২ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে অটোরিকশা ও ব্যাটারি চুরির ঘটনায় একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় একটি চোরাই অটোরিকশা ও পাঁচটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাড়ালজানি এলাকার মেসার্স মালা ট্রেডার্সের দুই যৌথ মালিকের নামও এসেছে পুলিশের তদন্তে। এ ছাড়া এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুরের সজীব ওরফে উৎসব পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর পৌর শহরের চাড়ালজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই অটোরিকশা বিক্রির সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আঙ্গিনাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে চোরাই অটোরিকশা ও পাঁচটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বুধবার (১৪ অক্টোবর) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মধুপুরের আঙ্গিনাপাড়ার মৃত নয়ন মণ্ডলের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন, গোবদিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মিন্টু মিয়া, পৌর শহরের বোয়ালী গ্রামের মৃত ওহাব আলীর ছেলে মো. আমজাদ হোসেন এবং টেংরী সিএনবি মোড়ের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মাহবুব খান মারুফ। তাদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ও মিন্টু মিয়া চাড়ালজানি এলাকার মেসার্স মালা ট্রেডার্সের যৌথ মালিক বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মধুপুরে কয়েকটি অটোরিকশা চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে এসআই মো. দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল চাড়ালজানি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মেসার্স মালা ট্রেডার্সে চোরাই অটোরিকশা বিক্রির সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসমাইল হোসেনের আঙ্গিনাপাড়ার বাড়ি থেকে একটি চোরাই অটোরিকশা ও পাঁচটি ব্যাটারি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা অটোরিকশা ও ব্যাটারি জব্দ করে আলামত হিসেবে থানায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আনন্দ মণ্ডল (৩৮) নামের এক যুবক মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মোর্শেদ এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আনন্দ মণ্ডলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় অবস্থিত।
তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে তিন দিন আগে আনন্দ মণ্ডল শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। পরে তার স্বজনেরা মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৫ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ২১২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালীর বাঁধেরহাট আবদুল মালেক ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম মারুফকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তার সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয় সূত্র ও সংগঠন থেকে জানা গেছে, রবিবার রাত ১০টার দিকে মারুফ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।
বহিষ্কারের পর মারুফ জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন। তার এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার কারণে মারুফকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে ছাত্রদলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কারের বিষয়ে হাসিবুল ইসলাম মারুফ বলেন, ‘ছাত্রদল একটি দালাল সংগঠন। এই সংগঠন আমাকে বহিষ্কার করলেও কী, না করলেও কী! আমি নিজেই এ সংগঠনে থাকতে চাই না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষার উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিওন জাবেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার (২০২৫) ২১০৭ নম্বর কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষকের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোর্সের প্রথম পরীক্ষকের নম্বরকে দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিওন জাবেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছি না।"
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ২১০৭ নম্বর কোর্সের ৬০টির বেশি উত্তরপত্র হারিয়ে যায়। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোর্সের ইন্টারনাল পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম গত ১১ মে উত্তরপত্র গ্রহণ করেন এবং ২০ মে বিভাগে জমা দেন। এরপর বিভাগীয় কর্মচারী জাবেদ আলী দাবি করেন, তিনি উত্তরপত্রগুলো কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে জমা দিয়েছিলেন। তবে উপ-উপাচার্য দাবি করেন, উত্তরপত্র তার কাছে আসেনি। এ নিয়ে দায় চাপানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিভাগে একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। সর্বশেষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশে পিওনের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ তিনটি সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ তরুণ-তরুণীকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার এবং নির্বাচিত যুব সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের প্রতীকী চেক তুলে দেবেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তরুণদের উদ্যম, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিতে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা যুব সংগঠনগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুবকল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো স্থায়ীভাবে প্রবর্তিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং অন্যটি প্রকল্পভিত্তিক অনুদান কার্যক্রম ২০২৫-২৬।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অসাধারণ অবদান রাখা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে আটটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে দুজন করে মোট ১৬ জনকে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্তভাবে ১৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
পুরস্কারের আটটি ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে- আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ক্রীড়া উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনকল্যাণ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় অসাধারণ অবদান, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্র, নারী ও শিশু উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। এছাড়া কলা ও সংস্কৃতিতে অবদানের বিষয়টিও ক্যাটাগরির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমিনুল হক জানান, নির্বাচিত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, একটি আকর্ষণীয় সম্মাননা ক্রেস্ট, পদক ও রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া হবে। এসব পুরস্কারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত তরুণদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য তরুণকেও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করা হবে।
যুব সংগঠনগুলোর জন্য প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলোর জন্য এ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৪৩২টি যুব সংগঠনকে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
অনুদান বণ্টনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠনকে এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি উপজেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ সংগঠনকে ৭৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিশেষ ক্যাটাগরিতে বৃহৎ প্রভাবসম্পন্ন ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের সামাজিক উদ্যোগকে টেকসই করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করাই এ অনুদান কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। যুব সংগঠনগুলো আর্থিক সহায়তা পেলে তারা নিজেদের এলাকায় আরও কার্যকরভাবে সামাজিক সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি জানান, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক সমকাল ও ডেইলি স্টারসহ পত্রিকায় পুরস্কার ও অনুদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশের পর চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য আটটি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১৩টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ের কমিটি ১৮০টি আবেদন সুপারিশ করে। অন্যদিকে, যুব সংগঠনের প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের জন্য সাধারণ ও বিশেষ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ১ হাজার ৬০৮টি আবেদন জমা পড়ে।
পরবর্তী সময়ে যুবকল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা বোর্ডের ৫৪তম সভায় মেধা, কাজের প্রভাব ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। এর ভিত্তিতে ১৫ জন তরুণ-তরুণীকে পুরস্কারের জন্য এবং ৪৩২টি যুব সংগঠনকে অনুদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
আগামী ১৭ অক্টোবরের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারাদেশের যুব সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে যুক্ত রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত তিনটি যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের প্রতীকী চেক তুলে দেবেন। একই সময়ে জেলা প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনায় বাকি ৪২৯টি নির্বাচিত সংগঠনের হাতে জেলাভিত্তিক প্রতীকী চেক দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অনুদানের অর্থ বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচিত সংগঠনগুলোর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চেক প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পুরস্কারের অর্থ সংশ্লিস্ট সংগঠনগুলোর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ ও সামাজিক অবদান জাতির সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু পুরস্কার দেওয়া নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করা তরুণ ও যুব সংগঠনগুলোর সাফল্যের গল্প সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
যুবসমাজের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির পথ সুগম করতে সরকার এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চায় বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ