ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশল


৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশল

বিশ্বের উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। তবে, বর্তমান অবস্থায় তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে, প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামোয় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার প্লেনারি অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে অজয় বাঙ্গা উল্লেখ করেন, "কর্মসংস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।" তাই, কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবেলাকে বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

অজয় বাঙ্গার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বেসরকারি পুঁজির ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব সক্ষমতার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রকল্প প্রস্তুতির গড় সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে নয় মাসে আনা হয়েছে। জটিল মূল্যায়নব্যবস্থার পরিবর্তে ২২টি সুনির্দিষ্ট সূচকের মাধ্যমে কাজের ফলাফল পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে যৌথ অর্থায়নের পরিসরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিন বছরে বেসরকারি অর্থায়নে বড় অগ্রগতি হয়েছে, এমন তথ্যও দেন অজয় বাঙ্গা। ২০২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন সংহত করতে সক্ষম হয়েছিল। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২৩০ বিলিয়ন ডলার।

এই অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে যাচ্ছে। এ ছাড়া, এক বছরে রেকর্ড ৯৬ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অর্থায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এসেছে বেসরকারি খাত থেকে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থায়ন দিয়ে এমন প্রকল্প ও অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। বাজার যেখানে এখনো বিনিয়োগের উপযোগী হয়ে ওঠেনি, সেখানে সরকারি অর্থ ও উন্নয়ন সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে, যেখানে বেসরকারি পুঁজি কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে পারে, সেখানে সেই বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির পতাকা মিছিল ঘিরে ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন

প্রকল্প প্রস্তুতির সময় কমেছে এবং ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন তথ্যও জানান অজয় বাঙ্গা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ব্যালান্স শিটের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি) আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

একই সঙ্গে, অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নের পাইপলাইন তিন গুণ বেড়ে ২৫০টি প্রকল্পে পৌঁছেছে। এসব প্রকল্পে মোট ১৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো।

অজয় বাঙ্গা জানান, ৩৫টি দেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে আইবিআরডির পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি দেশ এখন আইডিএতে অনুদান প্রদানকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের আকাশপথ, বেড়েছে ভাড়া ও ভোগান্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ২১ জন হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ২১ জন হতাহত

ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও, ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে যে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত আল-মাশিক প্রাসাদে এই হামলা সংঘটিত হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি জানিয়েছেন, প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদ কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হামলার পর প্রাসাদ এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

এদিকে, হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাসাদ কমপ্লেক্সে সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালিত সামরিক অভিযানের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদেশটির আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে। তবে হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী এবং হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর, দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেনকে তাদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সরকারকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব।

অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে দাবানলের শঙ্কা, বিদ্যুৎ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে দাবানলের শঙ্কা, বিদ্যুৎ বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরম এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগুনের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়াজনিত এই ঝুঁকি শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি জানিয়েছে, সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার পাদদেশ, আঙুর চাষের অঞ্চল এবং মধ্য উপকূলীয় এলাকাসহ ২৬টি জেলার প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে আগাম সতর্কতামূলকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডিসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেস, কার্ন এবং ভেনচুরা জেলায় আরও প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি বা তার পড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অতীতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলগুলোর বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ সরঞ্জাম থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে দাবানল ঠেকাতে আগাম বিদ্যুৎ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা নামে পরিচিত শুষ্ক, উষ্ণ এবং দমকা বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত বাতাসের গতি সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সান গ্যাব্রিয়েল এবং ভেনচুরা অঞ্চলের সান্তা সুসানা পর্বতমালায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ৪০ মাইল হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার আবহাওয়াবিদ রোজ শোয়েনফেল্ড বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পুরো অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা উচিত।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, ঝোড়ো হাওয়ার আগেই অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মী ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের জরুরি সেবা বিভাগের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় আগুন, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে আজুসা শহরে একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালার পাদদেশের একটি এলাকার বাসিন্দাদের প্রথমে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তা কমিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের মুখপাত্র জোনাথন টোরেস জানান, প্রায় ২০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আগুনে প্রায় ৪০ একর জমি পুড়ে গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের পশ্চিমে উপকূলীয় শহর মালিবুতেও সন্ধ্যার দিকে ঝোপঝাড়ে আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সান্তা মনিকা পর্বতমালার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে আগুন প্রায় ৮০ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির একটি কিশোর সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হুমকির মুখে পড়ে।

অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প পেন্ডলটনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের কারণে লাস ফ্লোরেস এলাকায় ভবনগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্প পেন্ডলটন অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আগুন এক হাজার একরেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক ৫-এর একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুনে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে এলাকায় আগুনের সূত্রপাত, সেই লাস পালগাস অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

উত্তরে ৯০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ বন্ধের সতর্কতা

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা এবং আশপাশের এলাকায় বুধবার রাত থেকেই প্রবল বাতাস, বেশি তাপমাত্রা এবং কম আর্দ্রতা দেখা দিতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে মধ্য ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়। এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয় যখন আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি জানিয়েছে, ২৯টি জেলার প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহককে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে জানানো হয়েছে। মধ্য উপকূল থেকে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ভেনচুরা জেলার পাহাড়ি এলাকায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত দাবানলের ঝুঁকিসংক্রান্ত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান জেইম মুর বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মী বাড়ানো, বিভিন্ন স্থানে দল মোতায়েন এবং আগাম সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদেরও রাস্তা পরিষ্কার রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন তা আগে থেকে ঠিক করা এবং নিয়মিত তথ্য জানার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলের স্মৃতি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় পালিসেডস দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১২ জন নিহত হন এবং সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যায় এমন এলাকায় বহু বাড়ি ধ্বংস হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আরেকটি আগুন লাগিয়েছিলেন, যা পরে পালিসেডস দাবানলের সঙ্গে যুক্ত হয়।

একই সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আলতাডেনা শহরে আরেকটি দাবানলে ১৯ জন নিহত হন এবং ৯ হাজার ৪০০টির বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়। কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনের মালিকানাধীন একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ ওই আগুনের কারণ ছিল।

তবে আবহাওয়াবিদ রোজ শোয়েনফেল্ড জানিয়েছেন, এবারের সান্তা আনা বাতাস ২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময়ের মতো শক্তিশালী হবে না। সে সময় বাতাসের দমকা গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

এদিকে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন আরও প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ আগাম বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকই ভেনচুরা জেলার বাসিন্দা।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ২ মাস পর ১৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ২ মাস পর ১৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলন শুরু

দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘ দুই মাসের বিরতির পর পুনরায় কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে, খনির নতুন ১৪০৫ নম্বর লংওয়াল ফেইজ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়লা উত্তোলন শুরু করেন, যা নানা ঝুঁকি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সম্ভব হয়েছে।

খনির সূত্র অনুযায়ী, নতুন ১৪০৫ নম্বর লংওয়াল ফেইজ থেকে প্রাথমিকভাবে ২১৫ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই ফেইজে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে, ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে খনির ১৩০৯ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলনযোগ্য কয়লার উত্তোলন সম্পন্ন হয়। ওই ফেইজ থেকে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছিল।

নতুন ফেইজ চালু করতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বর্তমানে ওই ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে।

এদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে বর্তমানে ৬ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। মজুদ কয়লার পাশাপাশি, বর্তমানে উৎপাদিত কয়লার বড় অংশ খনি পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। কয়লা উত্তোলন আবার শুরু হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে নতুন কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ডিজিএম (উৎপাদন) ইফতেখারুল ইসলাম ইনকিলাবকে জানান, শুক্রবার থেকে নতুন ফেইজ থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দরে ড্রোন হামলা, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দরে ড্রোন হামলা, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

রাশিয়া দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামো এবং সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাসের প্রতিবেদনে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামো এবং দেশের সেনাবাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইজমাইল বন্দরের এমন অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য খালাস এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হত।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওডেসা বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের ঘটনা বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%