ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে দাবানলের শঙ্কা, বিদ্যুৎ বন্ধ


ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে দাবানলের শঙ্কা, বিদ্যুৎ বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরম এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগুনের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়াজনিত এই ঝুঁকি শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি জানিয়েছে, সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার পাদদেশ, আঙুর চাষের অঞ্চল এবং মধ্য উপকূলীয় এলাকাসহ ২৬টি জেলার প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে আগাম সতর্কতামূলকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডিসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেস, কার্ন এবং ভেনচুরা জেলায় আরও প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি বা তার পড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বোমা আতঙ্কে ইসরাইলের বিমানের জরুরি অবতরণ বুলগেরিয়ায়

অতীতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলগুলোর বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ সরঞ্জাম থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে দাবানল ঠেকাতে আগাম বিদ্যুৎ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা নামে পরিচিত শুষ্ক, উষ্ণ এবং দমকা বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত বাতাসের গতি সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সান গ্যাব্রিয়েল এবং ভেনচুরা অঞ্চলের সান্তা সুসানা পর্বতমালায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ৪০ মাইল হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার আবহাওয়াবিদ রোজ শোয়েনফেল্ড বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পুরো অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা উচিত।

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে চলছে তরুণদের বিক্ষোভ, কী চাইছেন তারা?

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, ঝোড়ো হাওয়ার আগেই অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মী ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের জরুরি সেবা বিভাগের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় আগুন, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে আজুসা শহরে একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালার পাদদেশের একটি এলাকার বাসিন্দাদের প্রথমে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তা কমিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের মুখপাত্র জোনাথন টোরেস জানান, প্রায় ২০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আগুনে প্রায় ৪০ একর জমি পুড়ে গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের পশ্চিমে উপকূলীয় শহর মালিবুতেও সন্ধ্যার দিকে ঝোপঝাড়ে আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সান্তা মনিকা পর্বতমালার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে আগুন প্রায় ৮০ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির একটি কিশোর সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হুমকির মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের প্রভাব: তেলের বাজারে দরপতন

অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প পেন্ডলটনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের কারণে লাস ফ্লোরেস এলাকায় ভবনগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্প পেন্ডলটন অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আগুন এক হাজার একরেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক ৫-এর একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুনে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে এলাকায় আগুনের সূত্রপাত, সেই লাস পালগাস অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

উত্তরে ৯০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ বন্ধের সতর্কতা

আরও পড়ুন: পুতিনের ট্রাম্প ও শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকের প্রস্তাব

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা এবং আশপাশের এলাকায় বুধবার রাত থেকেই প্রবল বাতাস, বেশি তাপমাত্রা এবং কম আর্দ্রতা দেখা দিতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে মধ্য ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়। এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয় যখন আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি জানিয়েছে, ২৯টি জেলার প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহককে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে জানানো হয়েছে। মধ্য উপকূল থেকে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ভেনচুরা জেলার পাহাড়ি এলাকায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত দাবানলের ঝুঁকিসংক্রান্ত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান জেইম মুর বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মী বাড়ানো, বিভিন্ন স্থানে দল মোতায়েন এবং আগাম সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদেরও রাস্তা পরিষ্কার রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন তা আগে থেকে ঠিক করা এবং নিয়মিত তথ্য জানার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলের স্মৃতি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় পালিসেডস দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১২ জন নিহত হন এবং সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যায় এমন এলাকায় বহু বাড়ি ধ্বংস হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আরেকটি আগুন লাগিয়েছিলেন, যা পরে পালিসেডস দাবানলের সঙ্গে যুক্ত হয়।

একই সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আলতাডেনা শহরে আরেকটি দাবানলে ১৯ জন নিহত হন এবং ৯ হাজার ৪০০টির বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়। কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনের মালিকানাধীন একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ ওই আগুনের কারণ ছিল।

তবে আবহাওয়াবিদ রোজ শোয়েনফেল্ড জানিয়েছেন, এবারের সান্তা আনা বাতাস ২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময়ের মতো শক্তিশালী হবে না। সে সময় বাতাসের দমকা গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে রুশ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে

এদিকে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন আরও প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ আগাম বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকই ভেনচুরা জেলার বাসিন্দা।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ২ মাস পর ১৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ২ মাস পর ১৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলন শুরু

দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘ দুই মাসের বিরতির পর পুনরায় কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে, খনির নতুন ১৪০৫ নম্বর লংওয়াল ফেইজ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়লা উত্তোলন শুরু করেন, যা নানা ঝুঁকি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সম্ভব হয়েছে।

খনির সূত্র অনুযায়ী, নতুন ১৪০৫ নম্বর লংওয়াল ফেইজ থেকে প্রাথমিকভাবে ২১৫ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই ফেইজে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে, ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে খনির ১৩০৯ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলনযোগ্য কয়লার উত্তোলন সম্পন্ন হয়। ওই ফেইজ থেকে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছিল।

নতুন ফেইজ চালু করতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বর্তমানে ওই ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে।

এদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে বর্তমানে ৬ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। মজুদ কয়লার পাশাপাশি, বর্তমানে উৎপাদিত কয়লার বড় অংশ খনি পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। কয়লা উত্তোলন আবার শুরু হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে নতুন কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ডিজিএম (উৎপাদন) ইফতেখারুল ইসলাম ইনকিলাবকে জানান, শুক্রবার থেকে নতুন ফেইজ থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দরে ড্রোন হামলা, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দরে ড্রোন হামলা, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

রাশিয়া দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামো এবং সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাসের প্রতিবেদনে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামো এবং দেশের সেনাবাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইজমাইল বন্দরের এমন অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য খালাস এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হত।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওডেসা বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের ঘটনা বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচার এখন বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। আসনটি শূন্য হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচনে লড়ছেন, যিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।

দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিএনপির লোকজন প্রচারকাজে বাধা দিচ্ছে এবং দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন ভোট কেন্দ্র নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা ‘মাগুরা মার্কা’ বিতর্কিত নির্বাচন এড়ানোর জন্য সতর্ক করছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। মির্জা ফখরুল ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন পরে ২৯ অক্টোবর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। বিএনপি জামায়াত ছাড়াও আরো তিনটি দলের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন—আবদুল আলীম নিজামী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—বটগাছ), হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—হাতপাখা) এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (বাংলাদেশ কংগ্রেস—ডাব)।

বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রচার মাঠে বেশ আলোচিত ছিলেন। যদিও বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন, জামায়াতের পক্ষ থেকে কারচুপি, অনিয়ম ও গণনায় ত্রুটির অভিযোগ তোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতা হিসেবে ভোটারদের কাছে আলাদা সহানুভূতি থাকার কারণে তিনি বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ভিন্ন বলে অনেকের মত। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নতুন আশা দেখছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার "আমার দেশ"কে জানান, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীর অবস্থান খুব ভালো। তিনি বলেন, "সুষ্ঠু ভোট হলে আমরা বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।"

সূত্রমতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনি এলাকার সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর সর্বশেষ বড় নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচনি মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার "আমার দেশ"কে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে হলেও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোটারদের একটি অংশ প্রকাশ্যে তৎপরতার পাশাপাশি অনেকে নীরবে ভোট দেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখল না হলে ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হব।"

বিভিন্ন শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "বাসায় বাসায় গিয়ে আমাদের ভোটকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। আমাকেই বেশ কয়েকটা গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরো খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি জানান, নানা বাধাবিঘ্নের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই প্রতিরোধ করছেন।

ভোটের সমতল মাঠ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা দুর্বল আখ্যায়িত করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ দিচ্ছি। তারা আমাদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আশ্বস্ত করছেন।" তিনি জানান, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও নানা অভিযোগ করছেন।

নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জামায়াতের এ প্রার্থী জানান, "গতবার সারা দেশেই একটি পলিসি করে আমাদের হারানো হয়। আমার আসনে ভোট গণনায় ত্রুটিসহ কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।" তিনি বলেন, "এখানকার প্রার্থীও বিএনপির শীর্ষ নেতা হওয়ায় মানুষের আলাদা সহানুভূতি ছিল। তবে এবার রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের প্রার্থী হওয়া, সরকার ও বিএনপির কর্মকাণ্ডসহ সাত মাসের ব্যর্থতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত।"

এদিকে নির্বাচনি গণসংযোগে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়েছে। এজন্যই তারা বাধা সৃষ্টি করছে। তবে প্রচারে যত বেশি বাধা আসবে, জনগণ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে।"

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারকাজে যোগ দিচ্ছেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ভোটের প্রচার কাজে অংশ নেওয়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান বলেন, "১১ দলের প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এমনকি বিএনপির একটি অংশও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চান। সুষ্ঠু ভোট হলে বিশাল ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন।"

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

গত বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে কীভাবে কার্যকর হামলা চালাচ্ছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


সৌদিতে কীভাবে কার্যকর হামলা চালাচ্ছে হুথিরা

ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তেলনির্ভরতা কমানোর সৌদি পরিকল্পনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সহায়তায় হুথিদের উন্নত অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—এই তিনটি বিষয় হুথিদের হামলা কার্যকর করে তুলছে।

ইরানের সহায়তায় অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ইরান। তবে তেহরান জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে হুথিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সদস্যরা প্রথমদিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়। বর্তমানে স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় হুথিরা নিজেরাই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে।

ইরানের সাবেক এক উপদেষ্টার মতে, তেহরান হুথিদের শুধু অস্ত্র দেয়নি; বরং অস্ত্র তৈরির কৌশলও শিখিয়েছে। ফলে ইরান থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলেও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল করা কঠিন হবে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, তারা হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং তাদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহায়তায় হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী দ্রুতগতির নৌযানসহ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে।

অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বিকল্প উৎস

হুথিদের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, অস্ত্র তৈরির জন্য তারা শুধু ইরানের ওপর নির্ভরশীল নয়। সংঘাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে পাঠানো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মাঝারি পাল্লার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে হুথিরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ ধরনের একটি চালান জব্দ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং বাণিজ্যিকভাবে সহজে পাওয়া যায় না—এমন যন্ত্রাংশ সরবরাহে ইরানের ভূমিকা রয়েছে।

অস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে হুথিরা। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক গত মাসে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে সক্রিয় একদল ব্যক্তি তাদের ক্লড এআই সহকারীর সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত রকেট, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমেছে

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। নিজেদের ঘাঁটি, ইসরাইল ও উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফারজান সাবেতের মতে, সামরিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দিক থেকে সৌদি আরব এখনো ইসরাইল বা ইউক্রেনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশটির বিশাল আয়তনের কারণে আকাশপথে হামলা ঠেকানোও তুলনামূলক কঠিন।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আরো দক্ষ হুথিরা

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুথিরা। ২০২২ সালে সংঘাতটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়। তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর হুথিরা ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর আঞ্চলিক সংঘাত হুথিদের সামরিক অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্রের সক্ষমতাও বেড়েছে।

ফারজান সাবেত বলেন, হুথিরা বসে থাকেনি; তারা অস্ত্র সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে এবং যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের প্রযুক্তি আরো উন্নত করেছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিকল্প উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই সমন্বিত পরিস্থিতিই হুথিদের হামলাকে আরো কার্যকর করে তুলছে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%