শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪২ এম
রাশিয়া দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামো এবং সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাসের প্রতিবেদনে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামো এবং দেশের সেনাবাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইজমাইল বন্দরের এমন অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য খালাস এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হত।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওডেসা বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের ঘটনা বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচার এখন বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। আসনটি শূন্য হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচনে লড়ছেন, যিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিএনপির লোকজন প্রচারকাজে বাধা দিচ্ছে এবং দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন ভোট কেন্দ্র নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা ‘মাগুরা মার্কা’ বিতর্কিত নির্বাচন এড়ানোর জন্য সতর্ক করছেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। মির্জা ফখরুল ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন পরে ২৯ অক্টোবর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। বিএনপি জামায়াত ছাড়াও আরো তিনটি দলের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন—আবদুল আলীম নিজামী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—বটগাছ), হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—হাতপাখা) এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (বাংলাদেশ কংগ্রেস—ডাব)।
বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রচার মাঠে বেশ আলোচিত ছিলেন। যদিও বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন, জামায়াতের পক্ষ থেকে কারচুপি, অনিয়ম ও গণনায় ত্রুটির অভিযোগ তোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতা হিসেবে ভোটারদের কাছে আলাদা সহানুভূতি থাকার কারণে তিনি বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ভিন্ন বলে অনেকের মত। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নতুন আশা দেখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার "আমার দেশ"কে জানান, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীর অবস্থান খুব ভালো। তিনি বলেন, "সুষ্ঠু ভোট হলে আমরা বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।"
সূত্রমতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনি এলাকার সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর সর্বশেষ বড় নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচনি মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার "আমার দেশ"কে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে হলেও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোটারদের একটি অংশ প্রকাশ্যে তৎপরতার পাশাপাশি অনেকে নীরবে ভোট দেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখল না হলে ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হব।"
বিভিন্ন শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "বাসায় বাসায় গিয়ে আমাদের ভোটকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। আমাকেই বেশ কয়েকটা গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরো খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি জানান, নানা বাধাবিঘ্নের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই প্রতিরোধ করছেন।
ভোটের সমতল মাঠ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা দুর্বল আখ্যায়িত করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ দিচ্ছি। তারা আমাদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আশ্বস্ত করছেন।" তিনি জানান, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও নানা অভিযোগ করছেন।
নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জামায়াতের এ প্রার্থী জানান, "গতবার সারা দেশেই একটি পলিসি করে আমাদের হারানো হয়। আমার আসনে ভোট গণনায় ত্রুটিসহ কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।" তিনি বলেন, "এখানকার প্রার্থীও বিএনপির শীর্ষ নেতা হওয়ায় মানুষের আলাদা সহানুভূতি ছিল। তবে এবার রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের প্রার্থী হওয়া, সরকার ও বিএনপির কর্মকাণ্ডসহ সাত মাসের ব্যর্থতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত।"
এদিকে নির্বাচনি গণসংযোগে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়েছে। এজন্যই তারা বাধা সৃষ্টি করছে। তবে প্রচারে যত বেশি বাধা আসবে, জনগণ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে।"
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারকাজে যোগ দিচ্ছেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
ভোটের প্রচার কাজে অংশ নেওয়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান বলেন, "১১ দলের প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এমনকি বিএনপির একটি অংশও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চান। সুষ্ঠু ভোট হলে বিশাল ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন।"
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
গত বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তেলনির্ভরতা কমানোর সৌদি পরিকল্পনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সহায়তায় হুথিদের উন্নত অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—এই তিনটি বিষয় হুথিদের হামলা কার্যকর করে তুলছে।
ইরানের সহায়তায় অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ইরান। তবে তেহরান জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে হুথিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সদস্যরা প্রথমদিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়। বর্তমানে স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় হুথিরা নিজেরাই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে।
ইরানের সাবেক এক উপদেষ্টার মতে, তেহরান হুথিদের শুধু অস্ত্র দেয়নি; বরং অস্ত্র তৈরির কৌশলও শিখিয়েছে। ফলে ইরান থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলেও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল করা কঠিন হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, তারা হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং তাদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহায়তায় হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী দ্রুতগতির নৌযানসহ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে।
অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বিকল্প উৎস
হুথিদের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, অস্ত্র তৈরির জন্য তারা শুধু ইরানের ওপর নির্ভরশীল নয়। সংঘাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে পাঠানো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মাঝারি পাল্লার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে হুথিরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ ধরনের একটি চালান জব্দ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং বাণিজ্যিকভাবে সহজে পাওয়া যায় না—এমন যন্ত্রাংশ সরবরাহে ইরানের ভূমিকা রয়েছে।
অস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে হুথিরা। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক গত মাসে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে সক্রিয় একদল ব্যক্তি তাদের ক্লড এআই সহকারীর সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত রকেট, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমেছে
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। নিজেদের ঘাঁটি, ইসরাইল ও উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফারজান সাবেতের মতে, সামরিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দিক থেকে সৌদি আরব এখনো ইসরাইল বা ইউক্রেনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশটির বিশাল আয়তনের কারণে আকাশপথে হামলা ঠেকানোও তুলনামূলক কঠিন।
যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আরো দক্ষ হুথিরা
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুথিরা। ২০২২ সালে সংঘাতটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়। তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর হুথিরা ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর আঞ্চলিক সংঘাত হুথিদের সামরিক অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্রের সক্ষমতাও বেড়েছে।
ফারজান সাবেত বলেন, হুথিরা বসে থাকেনি; তারা অস্ত্র সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে এবং যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের প্রযুক্তি আরো উন্নত করেছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিকল্প উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই সমন্বিত পরিস্থিতিই হুথিদের হামলাকে আরো কার্যকর করে তুলছে।
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি জামাল আহমদ। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় জামাল আহমদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে এবার চাপরতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন জামাল আহমদ। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জামাল আহমদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি চাপরতলা ইউনিয়নের মানুষের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর মনোনয়নের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাপরতলা ইউনিয়নে নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এবং নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা জানতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)। সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আরও দুই প্লাটুন সদস্যকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্গাপূজা ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিজিবি।
পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত টহল, নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পিএসসি এবং ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ, এসজিপি, পিএসসি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সীমান্তের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক নজরদারি বজায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ