শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৭ পি.এম
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৭৯ মিটার (১৭ দশমিক ২৬ উচ্চতা) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদসীমার উচ্চতা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার নির্ধারিত হয়েছে।
পদ্মার দক্ষিণে মিডিলচর, চরক্ষিদিরপুর, খানপুর সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানিয়েছেন, পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বর্তমানে পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২০ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ দশমিক ২৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, রাজশাহীর চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার দক্ষিণে মিডিলচর, ক্ষিদিরপুর, খানপুর, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন চরে বাড়িঘরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চরবাসীরা রাজশাহী শহরের রক্ষা বাঁধের উপরে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ তাদের স্বজনদের বাড়িতে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উজান থেকে আসা পানির চাপ এবং ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়ে গেছে। এ কারণে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমা অতিক্রম করতে হলে পানি ১৮ দশমিক ৫ মিটার পৌঁছাতে হবে।
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি এবং নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।
নগরীর খরবোনা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, "কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গত তিন দিনে দ্রুত পানি বাড়ায় নদীর পড়ের খরবোনা, পঞ্চবটি, শ্রীরামপুর এলাকা সহ চরাঞ্চলের অনেক জায়গা পানিতে ডুবে গেছে।"
পদ্মার পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজশাহীর নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, "নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে রাজশাহীর নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বাড়বে।"
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব গেট খোলার খবর প্রকাশিত হয়। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজ গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত। এর ১০৯টি গেটের মধ্যে ১০৮টি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নিচু ভূমির পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গার এই প্রবাহই পদ্মা নামে পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের পরপরই অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর নগরীর কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা সংগঠিতভাবে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। এ সময় তাদের মুখে ‘ঘরে ঘরে বলে দে, শেখ হাসিনা আসছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।
মিছিলের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মিছিল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের ছবি দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিছিলটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের নির্দেশে আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মিছিলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ভূমিকা যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কর্মসূচির বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ১৯তম কারা মুক্তি দিবস উপলক্ষে আজ সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দোয়া মাহফিলটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতির নীচতলার হলরুমে আয়োজন করা হয়।
আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাড. মো. আকবর আলী। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সদস্য সচিব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. মোস্তফা জামান, অ্যাড. শহিদ হাসান, অ্যাড. ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. সরদার সাইফ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাড সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাড. মনোয়ারা পারভীন, অ্যাড. মাকফুর রহমান, অ্যাড. সুনীল কুমার ঘোষ, অ্যাড. আব্দুস সামাদ, অ্যাড. সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাড. জাফরুল্লাহ, অ্যাড রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাড. জিয়াউর রহমান জিয়া এবং শতাধিক আইনজীবী।
বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ এক বছর কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। এরপর থেকে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে দিনটি ‘কারামুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪৬৬টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে, স্থানীয় পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায়, প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ কেজি করে মোট ১১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য খাবার স্যালাইন, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢল ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ