মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৫ পি.এম
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে শিগগিরই অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।
মিলার নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করবে ইইউ।
এছাড়া, বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এ সময় ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জিস সামিট’-এ বাংলাদেশ দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, অফশোর জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লক নিয়ে চলমান বিডিং রাউন্ডে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত সামিটের স্ট্র্যাটেজিক স্টেজে ‘মিনিস্টেরিয়াল অ্যাড্রেস’-এ এসব বিষয় তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
চলমান বিডিং রাউন্ডে বঙ্গোপসাগরের ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক ও ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লকসহ মোট ২৬টি ব্লক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সামিটে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান গতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের সহায়ক নীতিগুলো তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় বাংলাদেশের তুলনামূলকভাবে অনাবিষ্কৃত অফশোর জ্বালানি সম্ভাবনা, আধুনিক সিসমিক তথ্যের প্রাপ্যতা এবং অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি)-২০২৬ প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক শর্তগুলোও তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক তথ্য পর্যালোচনা করার এবং চলমান বিডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণের জন্য সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার পর একজনকে হত্যা করে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর ক্যাম্পের এসআরবি-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর থানার পোড়াহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গালিমপুর এলাকার মো. রুস্তম আলীর ছেলে।
মামলার নথি ও এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার সময় ইব্রাহীম (৩৫) এবং তাঁর চাচাতো ভাই পিকআপচালক মো. হোসেন (২৬) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া এনার্জি পাম্পের পাশে একটি খাবারের হোটেলে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। খাবার খেয়ে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় দুটি প্রাইভেটকারে করে ৭-৮ জন সেখানে এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ইব্রাহীম ও হোসেনকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়।
পরে তাঁদের হাত, মুখ ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পিকআপচালক হোসেনকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে দেওয়া হলেও ইব্রাহীমকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর ইব্রাহীমকে মারধর করে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বনচাকী রামচন্দ্রপুর ব্রিজ এলাকায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
এ ঘটনায় নিহত ইব্রাহীমের ভাই মো. ফরহাদ বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিসি-৩ (ফরিদপুর ক্যাম্প)-এর একটি দল এসআরবি-৬-এর সহযোগিতায় ঝিনাইদহ সদর থানার পোড়াহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে।
এসআরবি-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি মো. মাসুদুর রহমান মাসুদকে ঝিনাইদহের পোড়াহাটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সায়িদুর রহমান জানান, এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে মো. মাসুদুর রহমান নামে হত্যা মামলার এক আসামিকে থানায় আনা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পশ্চিম মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে।
দুজন স্থানীয় ত্রাণকর্মী মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি ব্যস্ত বাজার এবং নদী তীরবর্তী বাণিজ্যিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে হামলার পর প্রায় ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং বলেছেন, ‘নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার পর আগুনে কয়েকটি লাশ পুড়ে যাওয়ার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকও জানিয়েছেন, বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পান বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন খাবার, যা আমাদের সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহী, বরিশাল (টরকি), চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে শতাব্দী ধরে পানের চাষ হয়ে আসছে। কিশোরগঞ্জের মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে পান উৎপাদন হচ্ছে, ফলে পাকুন্দিয়া পৌরসদরের পাটমহালের পানবাজার সারা বছরই জমজমাট থাকে।
ফজরের আজানের আগেই কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসদরের পাটমহালের পানবাজার সরগরম হয়ে ওঠে। কৃষকরা ভ্যান, অটোরিকশা ও পিকআপে করে পানভর্তি ঝুড়ি নিয়ে আসেন। কারও মাথায় পানের বিড়া, কারও হাতে বস্তা থাকে। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পান বাছাই, ভিরা গোনা ও দরদাম।
পাইকাররা ভিরা হাতে নিয়ে পানের আকার, রং ও মান যাচাই করেন। দরদাম মিলে গেলেই মুহূর্তের মধ্যে পান হাতবদল হয়। বড়জোর দুই ঘণ্টার এই বেচাকেনায় প্রতিটি হাটে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। শীত মৌসুমে চাহিদা ও দাম বাড়লে কিছু কিছু হাটে লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
প্রতি শনি ও বুধবার বসা পাটমহালের পানবাজার এখন শুধুমাত্র কেনাবেচার স্থান নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও। এই হাটকে ঘিরে কৃষক, পাইকার, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চরফরাদী, এগারসিন্দুর, হোসেন্দী, নারান্দী ও সুখিয়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বরাটিয়া, হিজলীয়া, লক্ষীয়া ও সৈয়দগাঁও এলাকায় পান চাষ হয়। উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছেন প্রায় ৮৬০ জন কৃষক, যার মধ্যে ২৪৫ জন নারী।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় বছরে উৎপাদিত পানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সারাবছরই এসব এলাকায় লাল ডিঙ্গি ও গয়েসুর জাতের পান উৎপাদিত হয়। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এখানকার পানের মান ভালো বলেও কৃষি কর্মকর্তারা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বাসস’কে জানান, পান একটি লাভজনক কৃষিপণ্য। সারা বছর কৃষকেরা পান বিক্রি করে আয় করেন। প্রতি বিঘায় বছরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মণ পান উৎপাদন হতে পারে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকরা ভালো লাভ করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলায় পান সংরক্ষণের জন্য কোনো সংরক্ষণাগার নেই। তবে রোগবালাই দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পানচাষিদের চাহিদা অনুযায়ী বিসিআইসির টিএসপি ও ডিএপি সার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ রাখা হয়।
সপ্তাহে দুই দিন জমে বড় বাজার পাটমহালের পানহাটে প্রতি হাটে প্রায় ৪শ’ কৃষক পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক পাইকারও এ বাজারে আসেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
হাটের ইজারাদার কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতি হাটে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। পানের মৌসুমে চাহিদা ও দাম বাড়লে কিছু কিছু হাটে লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে কৃষক ও পাইকাররা আসায় হাটের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
পাটমহালের হাটে আসা পান শুধুমাত্র পাকুন্দিয়াতেই বিক্রি হয় না। হাট শেষ হওয়ার আগেই এসব পান কটিয়াদী, ভৈরব, নিকলী, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যায়।
গাজীপুর থেকে পান কিনতে আসা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে এ হাট থেকে পান কিনছেন। এখানকার পানের মান ভালো হওয়ায় গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রির জন্য পান নিয়ে যান।
পান ব্যবসায়ী স্বাধীন জানান, তিনি পাকুন্দিয়া থেকে কয়েক লাখ টাকার পান কিনে কটিয়াদী, ভৈরব, নরসিংদী ও নিকলীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠান। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন বলেন, তিনিও প্রতি হাটে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পান কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, হাটে কৃষকের কাছ থেকে ২০ বিড়া পান প্রায় ৪ হাজার টাকায় কেনা হয়। পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে পাইকারি পর্যায়ে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পরবর্তী আড়ত বা বাজারে দাম হয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা। খুচরা পর্যায়ে একই পরিমাণ পান বিক্রি হয় প্রায় ৬ হাজার টাকায়।
ফলে বরজ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কুড়ি পানে দামের পার্থক্য প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। পানের মান, চাহিদা, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে দাম পরিবর্তিত হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
বর্তমানে ভালো মানের লাল ডিঙ্গি পান প্রতি কুড়ি প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং গয়েসুর জাতের পান আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, বাজারদর ভালো থাকলে পানচাষ থেকে আয় বাড়ে। তবে সরবরাহ বেড়ে গেলে বা দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
পাকুন্দিয়ার দরদরা, বরাটিয়া, হিজলীয়া, লক্ষীয়া, নামালক্ষীয়া, সৈয়দগাঁও, হোসেন্দী চরপাড়া, মির্জাপুর ও বাহাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পান চাষ হয়ে আসছে। অনেক পরিবারে পানচাষ এখন বংশপরম্পরার পেশায় পরিণত হয়েছে।
তবে কৃষকরা জানান, বাঁশ, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। রোগবালাই এবং পানের দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সবসময় সে অনুযায়ী পান বিক্রির দাম পাওয়া যায় না।
পান নিয়ে হাটে আসা কৃষকদের বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত জায়গা ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব।
কৃষক হাদিকুল ইসলাম বলেন, পান উৎপাদন করে ভালো আয় হলেও বাজারে পান নিয়ে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বসার ও পান রাখার জায়গা পর্যাপ্ত নেই। বৃষ্টি হলে পান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, স্থায়ী শেড, ভালো রাস্তা, পানি ও নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে ভোগান্তি কমবে। বিক্রি না হওয়া পান রাখার ব্যবস্থা থাকলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। বাজারে ছাউনি, পান রাখার জায়গা, আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বাসস’কে বলেন, পাকুন্দিয়া পৌরসভা বাজার ও শ্রীরামদী কোল্ড স্টোর বাজার একসঙ্গে ইজারা দেওয়া হয়। পাটমহল বা পানমহলের জন্য আলাদা কোনো ইজারা ব্যবস্থা নেই। ফলে এ পানবাজার থেকে আলাদাভাবে কত রাজস্ব আদায় হয়, তার হিসাব নেই।
তিনি বলেন, পাটমহলের রাস্তার উন্নয়নে আইইউজিআইপি (ওটএওচ) প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার হয়েছে। ইতোমধ্যে এমপি রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেছেন। ঠিকাদার শিগগিরই কাজ শুরু করবেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা, উন্নত বাজারব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পাকুন্দিয়ার পানচাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, পানের অপচয় কমানো এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ