ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হিমাগারের চৌহদ্দিতে ঢুকছেন না কুড়িগ্রামের আলু চাষি-ব্যবসায়ীরা


হিমাগারের চৌহদ্দিতে ঢুকছেন না কুড়িগ্রামের আলু চাষি-ব্যবসায়ীরা

হিমাগারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দাম ১১ টাকা। কিন্তু ঘাটতি ও সংরক্ষণ খরচ ৯ টাকারও বেশি পড়ছে। কিছু কৃষক আলু বিক্রি করে কিছু টাকা ফেরত পেতে আগ্রহী হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামে আলুর এই নিম্নমুখী দামও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লোকসানের ভয়ে জেলার পাইকাররা হিমাগারের চৌহদ্দি এড়িয়ে চলছেন।

এদিকে, যেসব কৃষক হিমাগার থেকে ঋণ ও খালি বস্তা নিয়েছেন, তাদের ভাড়াসহ দায় মেটাতে গেলে উল্টো ঘর থেকে টাকা এনে দিতে হয় হিমাগারে। ফলে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা হিমাগারমুখী হচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে জেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইঁদুরের উপদ্রবে চান্দিনায় শীতের আগাম সবজি নিয়ে কৃষকের শঙ্কা

আলু চাষি ও হিমাগার সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। খালি বস্তার সংকট ও উচ্চ মূল্য ছাড়াও হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর ফলে সংরক্ষণ খরচ বেড়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় গুঁড়েবালি দেখা দেয় শুরু থেকেই। প্রতি কেজি আলু হিমাগারে ১৪ টাকা থেকে ১৭ টাকায় বেচাকেনা হয়ে থাকে। যদিও উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ ২০ টাকারও বেশি।

বেশির ভাগ কৃষক ও ব্যবসায়ী দাম বাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু দাম কমতে কমতে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১২ টাকায় নেমে এসেছে, ফলে বিক্রি কমছে। তাদের স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবুও হিমাগারে আলু আটকে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, তার নিজের মাত্র ২০ শতক জমি রয়েছে। একরপ্রতি ৩২ হাজার টাকায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে আলুর চাষ করেছিলেন। খরচ পড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা। উৎপাদিত এক হাজার ৫০ বস্তার (৬৫ কেজি) পুরোটাই হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮০ বস্তা আলু বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পান। তখন কেজিপ্রতি আলুর দর ছিল ১৬ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ১১ টাকায়ও ক্রেতা মিলছে না।

আরও পড়ুন: নড়াইলে আমন ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা

আসাদুজ্জামান জানান, গত বছর আলুতে লোকসানের পর গরু ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি ছাড়াও ঋণ করে আলুর চাষ করেছিলেন, কিন্তু দাম বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার জোগাড় হয়েছে। এ অবস্থায় দিনমজুরি করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।

একই অবস্থা ভানুরভিটা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানার। তিন একর জমিতে ছয় লাখ টাকা খরচ করে পেয়েছেন মাত্র দুই লাখ টাকা। এবার আর আলু চাষ করার মতো পুঁজি নেই তার।

আলু ব্যবসায়ী মজনু মিয়া জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। ফলে আলু কিনলেই অনিবার্য লোকসান। তাই তিনি হাত গুঁটিয়ে বসে রয়েছেন। ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও আলু কেনার চাহিদা আসছে না।

বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, এবছর হিমাগারটিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসে কোনোভাবেই বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

ব্যবস্থাপক শরিফের ভাষ্য, ক্রেতা সংকট তো আছেই, তার ওপর আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ী ও কৃষকরা দেনা পরিশোধের ভয়ে আলু বিক্রি করতে আসছেন না। তারা হিমাগার থেকে প্রতিবস্তা আলুর বিপরীতে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। অগ্রিম খালিবস্তা ও বহন খরচও নিয়েছেন। ফলে আলু বিক্রি করতে এলে উল্টো দেনা পরিশোধ করার ভয় রয়েছে।

শুধু বাবর কোল্ড স্টোরেজ নয়, জেলার আরো পাঁচটি হিমাগারে কমবেশি একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও ৪০ ভাগ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ আলু এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। মৌসুমের শেষে এসব হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রিমা মনি শীল জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: পলাশবাড়ীতে ফসলের পোকা দমনে জনপ্রিয় হচ্ছে আলোক ফাঁদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি

সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে ছয় সপ্তাহব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণে মনাকষা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৩৫ জন তরুণ অংশ নিচ্ছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণটি চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা মোবাইল ফোন মেরামতের কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছে বিজিবি। এতে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাংগা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ৩৫ জন যুবককে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ প্রদান করে ৫৩ বিজিবি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ৫৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনিসুর রহমান, মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মনাকষা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য। বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতিঝিল বিভাগে পুলিশের অভিযানে ৮৪ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


মতিঝিল বিভাগে পুলিশের অভিযানে ৮৪ জন গ্রেফতার

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন থানার অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মতিঝিল থানায় ৪ জন, পল্টন থানায় ২৮ জন, সবুজবাগ থানায় ৪ জন, খিলগাঁও থানায় ১৩ জন, রামপুরা থানায় ৪ জন, শাহজাহানপুর থানায় ১৯ জন এবং মুগদা থানায় ১২ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনসংলগ্ন ৩ গ্রামে বাঘ আতঙ্ক, রাত জেগে চলছে পাহারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


সুন্দরবনসংলগ্ন ৩ গ্রামে বাঘ আতঙ্ক, রাত জেগে চলছে পাহারা

বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন তিনটি গ্রামে বাঘের উপস্থিতির খবরের কারণে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভোলা নদীর চরে একটি মৃত গরুর দেহাবশেষ এবং বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার পর স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বাঘের সম্ভাব্য বিচরণ প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীর চরে একটি গরুর দেহাবশেষ দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গরুটিকে বাঘ খেয়ে থাকতে পারে। পরে সেখানে বাঘের পায়ের ছাপও দেখা যায়। সোমবার সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন পানির এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে আতংক বৃদ্ধি পায়।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর আলম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাঘটি আবারও সুন্দরবনে ফিরে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটি পুনরায় লোকালয়ে আসবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুন্দরবনের সঙ্গে লোকালয়ের সীমানা লাগোয়া হওয়ায় মাঝে মাঝে বাঘ ও হরিণ লোকালয়ে চলে আসে।

তিনি আরও জানান, বাঘের উপস্থিতির আলামত পাওয়ায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে অপ্রয়োজনে চলাচল সীমিত রাখতে হবে। কোনোভাবেই বাঘের ক্ষতি করা যাবে না। কোথাও বাঘের দেখা মিললে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, বাঘের সম্ভাব্য বিচরণ নিয়ে খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক রাখতে কাজ করছে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিলমারীতে দেড় কোটি টাকার রাস্তায় বালুর বদলে ইটের গুঁড়া, অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


চিলমারীতে দেড় কোটি টাকার রাস্তায় বালুর বদলে ইটের গুঁড়া, অনিয়মের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি এবং মানহীন খোয়া ও বালুর পরিবর্তে ইটের গুঁড়া (ডাস্ট) ব্যবহার করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, থানাহাট ইউপি কার্যালয় থেকে ব্যাপারীর হাট সড়ক (চেইনেজ ৯৫০ থেকে ২৩৫০ মিটার পর্যন্ত) উন্নয়নের কাজটি রাজশাহীভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'বরেন্দ্র কনট্রাকশন লিমিটেড' বাস্তবায়ন করছে। এই কাজটির জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ টাকার বরাদ্দ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জুলাই কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রম করার পরও প্রতিষ্ঠানটি কচ্ছপ গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার কাজে নির্ধারিত নিয়মের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্ট্যান্ডার্ড বালু ব্যবহারের বিধান থাকলেও তার পরিবর্তে ইটের গুঁড়া বা ডাস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি মন্তব্য করেন, "আসলে সব জায়গায় যে খারাপ তা নয়, ভালো-খারাপের মিশ্রণ আছে।"

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের ফলে এই সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে। সামান্য বৃষ্টি বা ভারী যানবাহন চলাচল করলে পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অনিয়ম করে আসছে। দিনের পর দিন কাজ ফেলে রাখায় এলাকাবাসীর চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, বালুর পরিবর্তে ডাস্ট দিয়ে রাস্তা খারাপ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যে ডাস্ট ব্যবহার করা হয়েছে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জগবন্ধু রায় জানিয়েছেন, সরেজমিন পরিদর্শন না করে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের দাবি, যদি দ্রুত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হয়, তবে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি জনগণের কোনো উপকারে আসবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%