০২:৫১ পি.এম
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়বে। দেশটির সামরিক নেতৃত্বও সতর্ক করেছে যে, নতুন হামলার জবাব আরও শক্তিশালী হবে। এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার পূর্বে অর্থনৈতিক চাপ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পূর্বশর্ত হলো সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতার কথাও তুলে ধরেছেন। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে সমাধান ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি করা কঠিন হবে।
এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির ওপর নতুন হামলা চালানো হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান আবারও প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটের আগে ব্রাজিলে টেলিভিশন বিতর্কে লুলা ও বলসোনারো মুখোমুখি
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্প্রতি এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, সমুদ্রের মাইনে আঘাত লাগার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ভুল বলে আখ্যা দিয়েছে। ফলে ঘটনার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সউদী আরবকে সুরক্ষা দিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পুতিন: যুদ্ধবিরতি নয়, ইউক্রেনের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি রাশিয়া
ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান আলোচনা প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন