০৩:১০ এম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে। তিনি বলেছেন, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ওই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও জব্দের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চলছে। এছাড়াও, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, জব্দ করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগে বিতর্কের সৃষ্টি
সভায় তিনি ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, কিছু প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নয়ন এবং সমন্বয় শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।
ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
গভর্নর জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। একই সময়ে, আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
এছাড়াও, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য।
ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রসারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরো অনুমোদন সম্পর্কিত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে নগদবিহীন লেনদেন বাড়ানো এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থায় আনা গেলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত সীমার বেশি ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তহবিলের সুদহার কমানো হয়েছে, যা আমদানিপণ্যের মূল্য হ্রাসে সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের দুই যুবকের সউদী আরব ও লিবিয়ায় মৃত্যু
সভায় উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, শামসুল হক জাহিদ, মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান, এএমএম বাহাউদ্দীন, শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও মোস্তফা মামুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন