বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ এম
একসময় নাটক ও টেলিফিল্মে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন সাদিয়া জাহান প্রভা। মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু করে অভিনয়ে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা এই অভিনেত্রীর জীবনে এখন যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। বর্তমানে একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রভা।
প্রভা জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে এটিই তাঁর প্রধান ব্যস্ততা। অভিনয়কে এখন আর প্রথম পেশা হিসেবে দেখছেন না, বরং দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি জানান, ভালো গল্প, ব্যতিক্রমী চরিত্র এবং উপযুক্ত সম্মানী পেলে তবেই নতুন কাজে যুক্ত হতে চান। অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার জন্য কোনো তাড়াহুড়োও নেই তার।
তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি প্রভা। সরকারি অনুদানে নির্মিত দুটি সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে ঝুমুর আসমা জুঁই পরিচালিত ‘দুই পয়সার মানুষ’ এবং সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘দেনা পাওনা’ রয়েছে। সিনেমা দুটির গল্প ও চরিত্র পছন্দ হওয়ায় অভিনয়ে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে এখনো কিছু অংশের শুটিং বাকি রয়েছে।
সম্প্রতি মোশাররফ করিমের সঙ্গে ‘লুক আ লাইক’ নাটকে অভিনয় করেও আলোচনায় আসেন প্রভা। পাশাপাশি আহমেদ শাকিল নিসানের পরিচালনায় ‘বর্তমান’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া এনটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক ‘পরের মেয়ে’তেও দেখা যাচ্ছে তাকে।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে প্রভাকে। জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও অভিনয়ে ফিরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অনলাইনে হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি।
অভিনয় ও করপোরেট দায়িত্ব, দুই ক্ষেত্রেই নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চান প্রভা। আপাতত অভিনয়কে দ্বিতীয় পছন্দে রাখলেও ভালো গল্প ও উপযুক্ত চরিত্র পেলে পর্দায় তাঁকে দেখা যাবে। এখন প্রশ্ন, পরিচালকের দায়িত্ব সামলে ভবিষ্যতে অভিনয়ে কতটা সময় দেন এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সরকারি ইজারা নেওয়া সাপুটিয়া বিলে বাঁধ নির্মাণের সময় নৌকা নিয়ে শত শত মানুষ মাছ ধরতে নামায়, আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন ইজারাদার নিখিল দাস।
তিনি জানান, ছয় বছরের ইজারায় প্রতিবছর ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েও তাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী বছরে অন্তত একদিন তারা এই বিলে মাছ ধরার সুযোগ চান।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত সাপুটিয়া বিল। নিখিল দাস তার লোকজন নিয়ে পাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছেন। এ সময় সাপুটিয়া, রসুলপুর, রাজাবাড়িয়াকান্দি, রামপুর ও বৈশামুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা নৌকা ও জাল নিয়ে সেখানে জড়ো হন। কারও হাতে কারেন্ট জাল, কারও হাতে কনই জাল। একপর্যায়ে অনেকে বাঁধের ভেতরে ঢুকে মাছ ধরতে শুরু করেন। একসঙ্গে এত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো বিলজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
নিখিল দাস বলেন, তিনি ছয় বছরের জন্য সরকারিভাবে বিলটি ইজারা নিয়েছেন এবং প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ টাকা জমা দিচ্ছেন। তার ভাষ্য, বর্ষা শেষে মাছ সংরক্ষণ, খাবার সরবরাহ ও পরিচর্যায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। পানি কমতে শুরু করলে মাছ আহরণের সুবিধার্থে পাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই অনেকে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করেন এবং বাঁধ নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ভেতরে ঢুকে মাছ ধরা শুরু করেন। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাছ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিখিল দাস বলেন, প্রতিবছর এমনটা হচ্ছে। এতে তার বিনিয়োগ ও প্রত্যাশিত আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ চাই।
স্থানীয়দের দাবি, সাপুটিয়া বিল এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি জলাশয়, যেখানে অনেকের নিজস্ব মালিকানাধীন জমিও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে বছরে একদিন মাছ ধরার প্রচলন রয়েছে। দুপুরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলে সারা রাত, এমনকি পরদিন দুপুর পর্যন্ত।
জামির নামে এক স্থানীয় জেলে বলেন, এই বিলের মাছের ওপর এলাকার অনেক গরিব মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। বছরে একদিন আমরা মাছ ধরি, এটা বহু বছরের নিয়ম।
নিয়াজ নামে অন্য এক জেলে বলেন, সরকার ইজারা দিয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বছরে অন্তত একদিন আমাদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা শুধু মাছের বিষয় না, আমাদের রীতিও।
এদিকে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি কেবল মাছ আহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক রীতি ও জীবিকার প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের পরেও আলবিসেলেস্তেদের ডাগআউটে এই মাস্টারমাইন্ডকে দেখা যাবে, যা সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটায়।
সুপারডেপোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কালোনি প্রাথমিক ধাপে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দুই বছরের নতুন চুক্তিতে সই করবেন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা নিজ দেশে উদ্বোধনী ম্যাচের ঐতিহাসিক আসরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মূল পরিকল্পনায় স্কালোনিকে রাখা হয়েছে।
২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি ফিফা উইন্ডো চলাকালীন এএফএ সভাপতি ক্ল Claudio Tapia এর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও দীর্ঘ ভাবনার পর বিশ্বজয়ী এই কোচ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে সম্মত হন। এর ফলে, সব ঠিক থাকলে টানা ১০ বছর আর্জেন্টিনার কোচের পদে থাকার এক অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছেন তিনি।
চুক্তির আর্থিক বিষয়াদিসহ আনুষঙ্গিক খুঁটিনাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর দরকষাকষির ইতি ঘটে। যদিও এএফএ আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কেবল আলোচনা শুরুর বিষয়টিই নিশ্চিত করেছে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অথবা ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে স্কালোনি দেশে ফিরলে কাঙ্ক্ষিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর আগামী আসরের দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৩ নভেম্বর (শুক্রবার) বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্ডোবার মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।
তবে আসন্ন এই প্রীতি ম্যাচ দুটিতে বড় ধাক্কা রয়েছে স্কালোনির স্কোয়াডে। ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল-পরবর্তী অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে ফিফা কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে বাদ পড়েছেন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেস ও রাইটব্যাক নাহুয়েল মলিনা। পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এখনও ৭ ম্যাচ বাকি, অন্যদিকে মলিনার ৭ ম্যাচের মধ্যে বাকি ৪ ম্যাচ।
এ ছাড়া দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছেন তারকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। মাংসপেশির চোটে (মাসল টিয়ার) পড়ায় নভেম্বরের এই দুটি প্রীতি ম্যাচে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে দখলদার ইসরাইলের হামলা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করছে। আলজাজিরা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দখলদার ইসরাইলের হামলায় গাজায় মোট ১ হাজার ৫৩৪ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৮৬ জন। একই সময়ে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় দখলদার ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর থেকে মোট ৭৪ হাজার ৪৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪ জন। নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে সব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশের পশ্চিমের জামলা গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তিকে, যিনি ইসরাইলি বাহিনীর দ্বারা নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা তথ্য প্রদান করেছে।
সানার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত ব্যক্তির লাশ দেরা জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এর আগে জামলা গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। সেখানে তারা একাধিক বাড়ি ও স্থাপনায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বেসামরিক মানুষের বাড়ির ছাদে স্নাইপার মোতায়েন করা হয়। এছাড়া, আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ