মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
স্লোভেনিয়া, ইউরোপে টেসলার উন্নত চালক-সহায়তা প্রযুক্তি এফএসডি সুপারভাইজড ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করেছে। এটি এখন নতুন করে প্রযুক্তিটির অনুমোদন প্রদান করেছে।
এখন স্লোভেনিয়া ইউরোপের ষষ্ঠ দেশ হিসেবে টেসলার এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।বার্তা সংস্থা
এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলা জানিয়েছে যে, স্লোভেনিয়ায় শিগগিরই এফএসডি সুপারভাইজড প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার, কোম্পানিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও ঐ পোস্টটি শেয়ার করেছেন।
স্লোভেনিয়ার জ্বালানি ও অবকাঠামোমন্ত্রী জেরনেই ভর্তোভেৎসও এই ঘোষণাটি শেয়ার করেছেন। তিনি পোস্টের সঙ্গে ‘ডেভেলপিং স্লোভেনিয়া’ লিখেছেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে, নেদারল্যান্ডস প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ হিসেবে টেসলার এফএসডি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।
এরপর আরো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ প্রযুক্তিটির অনুমোদন প্রদান করেছে। স্লোভেনিয়ার অনুমোদন ইউরোপের এই তালিকায় ষষ্ঠ দেশ হিসেবে যুক্ত হলো।
এদিকে, ফিনল্যান্ড ও গ্রিসও টেসলার এই প্রযুক্তির অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
টেসলার এফএসডি বা ফুল সেলফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তি গাড়িকে বিভিন্ন ড্রাইভিং কাজে সহায়তা করে। এই প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ, গতি বাড়ানো বা কমানো, ব্রেক করা এবং রাস্তার পরিস্থিতি বুঝে চলার মতো কাজে সহায়তা করতে পারে।
তবে, এফএসডি সুপারভাইজড সম্পূর্ণ চালকবিহীন প্রযুক্তি নয়। গাড়ি চালানোর সময় চালককে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে চালককে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
অর্থাৎ, প্রযুক্তিটি চালকের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে চালক গাড়ি ছেড়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতে পারবেন।
টেসলার জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে এফএসডি সুপারভাইজড ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইইউর ভোট আগামী ৬ অক্টোবরের মতো দ্রুত সময়েও অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইউরোপজুড়ে অনুমোদন পেলে টেসলার এফএসডি প্রযুক্তির বাজার আরো বড় হবে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ও চালক-সহায়ক গাড়ি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটি টেসলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তবে, প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখনো পরীক্ষা ও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর দেশটি সম্প্রতি এফএসডি-সুবিধাযুক্ত দুটি টেসলা গাড়ির পরীক্ষা শুরু করেছে।
ফলে, একদিকে ইউরোপে টেসলার এফএসডি ব্যবহারের অনুমোদন বাড়ছে, অন্যদিকে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, ইরানের এই জোটে অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
তিনি সোমবার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সে এক বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন।
ল্যাভরভ উল্লেখ করেন, রাশিয়া দুই দশকেরও বেশি আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল।
এই কাঠামোর আওতায় আরব রাজতন্ত্রগুলোর সঙ্গে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, যদিও এসব দেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল, রাশিয়া তাদের মধ্যে বৈঠক, আলোচনা আয়োজন, পারস্পরিক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা এবং আস্থা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করতে চেয়েছিল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে চীনের মধ্যস্থতা ও রাশিয়ার সক্রিয় উৎসাহে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।
ল্যাভরভ বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আগে চীনের উদ্যোগ এবং রাশিয়ার সক্রিয় উৎসাহে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।
সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি উপস্থাপন করেছে, সেটিকে সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোটের একটি কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন ল্যাভরভ।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় মিসর ও আলজেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি এই জোটে ইরান কী শর্তে অংশ নিতে পারে, তা নিয়ে একটি সমঝোতা হয়, তাহলে সেটি রাশিয়ার বহু বছর আগে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হবে।
তবে ল্যাভরভ স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়া এমন কোনও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবে না। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ের পর জরিমানা গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ধীর ওভার রেটের জন্য বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দলকে ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আইসিসি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক ওভার কম বোলিং করেছিল। আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত ওভার রেট পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ধীর ওভার রেটের অভিযোগ গ্রহণ করায় এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ম্যাচ রেফারি জি.এস. লক্ষ্মীর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা শুরুতে চাপে পড়লেও হার্শিতা সামারাবিক্রমার অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
হারের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে গেলেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পরাজিত করতে পারলে সেমিফাইনালের পথ খুলে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসুকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর তিনি এখন শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম।
তিনি উল্লেখ করেন, মেঘমল্লার বসুকে বাসায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার পর প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
মুহাম্মদ মোস্তাকিম জানিয়েছেন, বর্তমানে মেঘমল্লার বসু অনেকটাই শঙ্কামুক্ত। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নজরুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে এবছর পাটের আবাদ করেছেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার চর বড়লই এলাকার এই চাষি পাট কাটার পর তা জাগ দিয়েছেন পাশের ধরলা নদীতে।
এতে পানির অভাব হয়নি। বাজারে পাটের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
নজরুল একা নন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এবছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় জেলার অধিকাংশ কৃষক লাভবান হয়েছেন। যদিও বেসরকারি পাটক্রয় কেন্দ্রের ক্রেতা না আসলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন।
ফলস্বরূপ, বাজারে পাটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নজরুল জানিয়েছেন, নদীর পানিতে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের রং ও মান উন্নত হয়েছে। প্রথমে খরা এবং পরে বৃষ্টির কারণে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।
তিনি প্রতিমণ পাটের জন্য গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। তার ভাইও ১৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তাদের হাটে যেতে হচ্ছে না পাট বিক্রির জন্য। চাহিদার কারণে পাইকাররা বাড়িতে এসে পাট নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ও বাজার পরিদর্শন করে জানা গেছে, জমি থেকে পাটকাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। হাট-বাজারে পাটের ভরা মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পাট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে বাজার চাঙ্গা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী জীবন ঘোষ জানিয়েছেন, তারা গুদাম ভাড়া করে বেশি মুনাফার আশায় পাট কিনে মজুদ করছেন। বেসরকারি কোম্পানি পাট কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে, তখন বিক্রি করবেন।
অন্যদিকে, পাট ব্যবসায়ী বাবুল আখতার বীর জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর এই সময় ট্রাকযোগে এই এলাকার পাট খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যেত। কিন্তু এবার মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন না, স্থানীয়রাই মজুদ করছেন।
যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী শরীফ আলম জানিয়েছেন, চরাঞ্চলে এবছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। নদীপারে হাট হওয়ায় নৌকাযোগে প্রচুর পাট আসছে হাটে।
কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে চাষিদের পাট জাগ দিতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ