১০:৪৭ পি.এম
সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্বামীর হাত ধরে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ। স্বামী ও এক সন্তান নিয়ে অনেক বছর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে সেই গৃহবধূ এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যেই ভারতে ফেরত চাওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে গৃহবধূর পরিবার এবং মানবাধিকার কমিশন।
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতে গোবিন্দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদা ফকির। তার স্বামী ৪৫ বছর বয়সী জুম্মান ফকির, যিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে গাড়ির পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, সাইদা পরিচারিকার কাজ করতেন। চলতি বছরের ১৯ জুলাই সাইদা ফকির বাজার করার জন্য বের হন। সেই সময় মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর মুম্বাইয়ের একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। ঘটনার খবর পেয়েই মহারাষ্ট্রের চেম্বার থানায় যায় তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। সাইদার জন্মের সনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের প্রমাণপত্র, জমির দলিলসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তদন্তকারীদের সামনে তুলে ধরেন তারা। ঘটনার তিনদিন পর, ২৩ এপ্রিল সাইদা ফকিরের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে মুম্বাই পুলিশ আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকেই সাইদা পরিবারকে জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পরে চাষের জমি ও কাদার মধ্যে দিয়ে তিনি কয়েক কিলোমিটার পথ হাঁটার পর প্রধান সড়কে আসেন। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখে সহায়তা করেন। সাতক্ষীরার এক পরিবার সাইদাকে আশ্রয় দেয় এবং খাবার ও পোশাক দেয়। তিনি এই সময়ে বলেন, তিনি ফের ভারতে ফিরতে চান, বিশেষ করে তার ১২ বছরের স্কুলছাত্র পুত্র সন্তানের সাথে দেখা করতে চান।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান
মঙ্গলবার সাইদার স্বামী জুম্মান ফকির দাবি করেন, তিনি এবং তার স্ত্রী জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা। ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে রয়েছেন সাইদা ফকির, সেখানে পরিচারিকার কাজ করে জীবনযাপন করেন। প্রথমে তাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জুম্মানের প্রশ্ন, একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সাইদার নথিপত্র না দেখেই তাকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে সীমান্ত দিয়ে পুশইন করেছে মুম্বাই পুলিশ।
প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা তাদের পরিবারের সদস্যকে ফিরিয়ে পেতে চান এবং প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তার চাচা। তাদের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সাইদার নাম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
‘পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন এই বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করেছে। সাইদার প্রকৃত নাগরিকত্ব যাচাই করে তাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় তারা।
আরও পড়ুন: মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা
সংগঠনটির সচিব আসিফ ফারুখ জানিয়েছেন, ভারতে বসবাসের উপযুক্ত নথি, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসহ একাধিক নথিপত্র তার পক্ষে পাঠানো হয়েছে। বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) আলাদা করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে অনৈতিকভাবে বাংলাদেশি আখ্যায়িত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন