মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ এম
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কোন সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের মধ্যে কোনোটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাসরিনের নমুনার মিল না পাওয়ায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও নাসরিনের পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বলেও তিনি জানান।
শহরের শ্যামলী এলাকার শনাক্ত হওয়া চার সদস্যের পরিবারে রয়েছেন, গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্যদিকে, নিহত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া লাশগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সিআইডি লাশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এর ফলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের লাশ শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজের তালিকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে একজনের অবস্থান এখনো অজানা। তিনি স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭)। উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
রিমন ঘোষ বলেন, ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।
নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নাসরিনের বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাঠকের প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার নামে পরিচিত এক ব্যক্তি আমার ঠিকানায় উকিল নোটিশ দিয়েছেন। উকিল নোটিশটি পাওয়ার পর আমার পরিবারের সদস্যরা অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এখন আসলে উকিল নোটিশটি কী এবং আমি কী পদক্ষেপ নিতে পারি?
আইনজীবী: উকিল নোটিশের অর্থ এই নয় যে, এটি মামলা। যখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তখন সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে বাদী যে নোটিশটি পাঠায়, সেটিকে লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ বলা হয়। তবে এটি মামলা নয়, বরং মামলা-মোকদ্দমা করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
একজন আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় উকিল নোটিশের মাধ্যমে। পারিবারিক বিষয়, জমিজমা কিংবা আর্থিক বিষয়ে যেকোনো আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে উকিল নোটিশ পাঠানো হতে পারে। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয় এবং অনুরোধ করা হয় যে, এ সময়সীমার মধ্যে বিরোধের সমাধান করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে বিবাদী বা আসামির বিরুদ্ধে কোন ধারায় বা কী ধরনের মামলা করা হবে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
নোটিশ পেলে করণীয়
যদি কেউ উকিল নোটিশ পেয়ে থাকেন, তাহলে অস্থির না হয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন। নোটিশ প্রেরকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, অন্যথায় একজন আইনজীবীর কাছে গিয়ে উকিল নোটিশটি দেখান এবং আপনার সঙ্গে নোটিশ প্রেরকের আসলে কোনো ধরনের বিরোধ রয়েছে কিনা, সেটি স্পষ্ট করুন। এই ক্ষেত্রে আইনজীবী আপনাকে আইনি পরামর্শ দেবেন। এর মাধ্যমে আপনার বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা হওয়ার আগেই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
মিথ্যা ঘটনায় নোটিশ হলে
অনেক সময় নোটিশ প্রেরকের মৌখিক কথার ভিত্তিতে আইনজীবী উকিল নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এসব ক্ষেত্রে আইনজীবীর জন্য যাচাই-বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদি নোটিশটি মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে আপনি আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উকিল নোটিশের জবাব দিতে পারেন।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পল্টনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিছিলে হামলার অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১০টায় দলের এক নেতার জেলমুক্তির উপলক্ষে পুরানা পল্টনের সড়কে মিছিল চলাকালীন স্লোগান দিচ্ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। সেই সময় জয় সমাজতন্ত্র স্লোগানকে জয় বাংলা স্লোগান মনে করে কিছু মানুষ তাদের উপর হামলা চালায়।
এই হামলার ফলে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিপিবির দুই সদস্য বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।
হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের সরকার দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলের কেউ সেখানে নেই। থাকলেও বহিস্কৃত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীস্থ পাটুয়ারটেকে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
তবে নিখোঁজের তালিকায় থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। এর ফলে আগুনে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের বাইরে মুক্তার পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পরিবারের চারজন হলেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারের ছয় সদস্য হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭) ও ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নাফিস তেহামি জেরিফ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
মুক্তার ডিএনএ মেলেনি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের কোনো নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। মুক্তা সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা জেলা শাখার সাবেক নেতা।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টে তার স্ত্রীসহ তিন বান্ধবী উঠেছিলেন। আগুন লাগার আগে তার স্ত্রীর দুই বান্ধবী কক্ষ থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তা তখন কক্ষে থাকায় ভেতরে আটকা পড়েন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ফয়সাল বলেন, সোমবার তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার কাছে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। পরে তিনি সন্ধ্যায় তার দুই স্বজন নিয়ে আবারো ঘটনাস্থলে যান।
এর আগে তদন্ত কমিটির প্রধান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানিয়েছিলেন, নিখোঁজ মুক্তার অবস্থান শনাক্ত করতে তার মুঠোফোন নম্বরের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজের তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যার মধ্যে গরমিল দেখা দেয়। মুক্তার ডিএনএ না মেলায় সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত তিনতলা টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কক্সবাজার শহর থেকে রিসোর্টটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার আটটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উদ্ধার কাজের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন পর্যটককে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। এরপর রিসোর্টের অন্তত পাঁচজন কর্মীকে দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন তারা।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাঁঠালবাড়ীতে, কুড়িগ্রামে, ঢাকাগামী একটি বাসের ধাক্কায় মনিকা (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এটি ঘটেছে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে, কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী বিদ্যা কানন স্কুলের সামনে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কোচ যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এই ঘটনায় অটোরিকশার চারজন যাত্রী আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু মনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর শাহে নেওয়াজ জানিয়েছেন, হাসপাতালে তিনজন আহত রোগী এসেছিলেন। এর মধ্যে এক শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ