শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫০ পি.এম
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ ভাওয়াইয়া গানের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে। সংগঠনটির জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন।
১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি একটি সাধারণ টিনের চালাঘরে ভাওয়াইয়া গানের চর্চা ও সাধনা চালিয়ে আসছে। এই সাদামাটা ঘর থেকেই গড়ে উঠেছেন দেশ-বিদেশে পরিচিত কয়েকশ ভাওয়াইয়া শিল্পী।
দীর্ঘদিন টিনের ঘরে কার্যক্রম পরিচালনার পর অবশেষে সংগঠনটির জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, দেশের বিশিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অনুদান দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে একটি বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমিতে নির্মিত হবে ভবনটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভূপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমান।
বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আধুনিক বহুতল ভবনটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া গানের চর্চা আরও বেগবান হবে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উন্নত পরিবেশে সংগীতচর্চার সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি সরকারি দপ্তরের দরজায় সাধারণ মানুষের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বার্তা টাঙিয়েছেন। তার কার্যালয়ের দরজায় লেখা রয়েছে, ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’ এই উদ্যোগটি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় এ বার্তা দেখা যায়। প্রবেশপথে নেমপ্লেটের পাশে টাঙানো বার্তায় জানানো হয়েছে, সেবাপ্রত্যাশীদের কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদা অনুমতি নিতে হবে না কিংবা জুতা খুলে রাখতে হবে না।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগটি উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের ইউএনওর কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে এটি কার্যকর।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি বলেন, "কেউ কেউ দালালের দ্বারস্থ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। বরুড়া ইউএনওর কার্যালয়ের এই বার্তা মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াবে।"
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শওকত আলী বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রাখতে এমন নির্দেশনা প্রশংসার দাবিদার। ইউএনও মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। আল্লাহ তাকে জনসেবায় আরও অবদান রাখার তৌফিক দিন।’
স্থানীয়দের মতে, সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সরকারি দপ্তরে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এমন জনবান্ধব উদ্যোগ প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ ও মানবিক করবে।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি দপ্তর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬-এর সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের একটি দল। একই আয়োজনে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মঞ্জুর এলাহী অডিটোরিয়ামে বিশ্ব গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির শিরোনাম ছিল ‘Enhancing Media Literacy Among Homemakers in Khulna: Addressing Misinformation and Promoting Responsible Digital Media Use’। প্রকল্পটি খুলনার গৃহিণীদের মধ্যে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হয়, যাতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা এবং অনলাইনে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তৈরি করা যায়।
প্রকল্প দলের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম। তিনি অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। পুরস্কার গ্রহণ করেন দলের নেতা এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
মাজিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সবার জন্য অপরিহার্য। সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার জন্য শিক্ষার্থীদের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া এবং তা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে শেখার সুযোগ পায়।
মিফতাহুল ইসলাম মাহিন বলেন, “এই অর্জন আমাদের পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল। প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহিণীদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা তৈরি এবং দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।”
প্রকল্প দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সানজিদা আক্তার, মো. নাঈম শেখ, তানিয়া তাবাসসুম, জাহিদা সুলতানা রিমা, আশরাফুল আলম, রুকাইয়া আফিয়া নেহা, আহমেদ মোস্তফা, সাবিনা ইয়াসমিন তিথি ও শেখ এশানুল হক।
‘Media and Information Literacy Skills for 21st-Century Youth’ শীর্ষক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির তথ্য অধ্যয়ন বিভাগ। এতে সহযোগিতা করেছে ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয় ও মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (MILNetBD)। সহায়তা প্রদান করেছে জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’-এর প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা আন্দ্রেস দেল কাস্তিয়ো সানচেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্দেশ্যে আগামী রোববার থেকে মজুরি বোর্ড গঠন এবং এর কার্যক্রম শুরু হবে।
আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন।
শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় এবং সরকার কাজ করবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বাসসকে জানিয়েছেন, আজ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামীকাল তারা চূড়ান্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করে জানাবেন।
মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার শ্রম ভবনে গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান শ্রমসচিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় ‘আন্তর্জাতিক নারী সংসদ (আইডব্লিউপি) ও আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর একটি হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‘গ্রাসরুটস টু গ্লোবাল : উইমেনস ইকোসিস্টেম’ প্রতিপাদ্যে জমকালো আয়োজনের এ সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের ২০০ জনেরও বেশি নারী নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ অংশ নেন।
সম্মেলনে নারীর জীবন ও স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার, তৃণমূল থেকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে চারটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারীর স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, আইনি সুরক্ষা, বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট খাতে নারীর অংশ গ্রহণ, পুঁজির প্রাপ্যতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এই আয়োজনে স্পন্সর পার্টনার রূপায়ণ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাতুল প্রপার্টিজ। অনুষ্ঠানে রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও রাতুল প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান নওরিন জাহান মিতুল বক্তব্য দেন। তিনি রিয়েল এস্টেট খাতে নারীদের আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করেন। নওরিন জাহান মিতুল বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে রূপায়ণ গ্রুপ। সমাজে মেয়েরা এগিয়ে গেলেই এগিয়ে যাবে দেশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নেতৃত্বে অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।’
আলোচনায় আরো অংশ নেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সরওয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ অব কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওয়ালিদ মুকাই আলী ও রাতুল প্রোপার্টিজের সিইও মোজাম্মেল হক আকন্দ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫টি বিভাগে ৩০ জন নারীকে ‘আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তৃণমূল ও সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রভাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় ‘লুমিনারি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্টের জুরি বোর্ড বিজয়ীদের নির্বাচন করে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যারেনা ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট লিমিটেডের (এজিই) চেয়ারম্যান সৈয়দ ইকবাল রিজভী বলেন, ‘ব্যবসা, জনপ্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী সংসদের আয়োজন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব ও অর্জন বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হবে।’
ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্টের সভাপতি নমিতা ঘিমিরের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেল ঘিমিরে বলেন, ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগের সংযোগ তৈরি করাই এ প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য। ঢাকার এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরবে।’
গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্কের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর জুলিয়ানা আভো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়নের নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করছে না। কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদোন্নতি ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পাশাপাশি ইএসজি রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, যাতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রকৃত অবস্থান ও অভিজ্ঞতা উঠে আসে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের উদ্যোক্তা অ্যারেনা ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট লিমিটেড (এজিই)। সহযোগিতায় ছিল প্রজেক্ট ১০০ ও ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্ট। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতে এবং ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ