ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেপিতে গভর্নরের শাসন সংবিধানের অপব্যবহার: ফজলুর রহমান


কেপিতে গভর্নরের শাসন সংবিধানের অপব্যবহার: ফজলুর রহমান

খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপের আশ্রয় নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামিয়াত উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কেন্দ্র ও কেপি প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সংঘাত কমাতে, গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘অসহযোগিতার’ অজুহাত দেখিয়ে কেপিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ফজলুও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) বুধবার দেওয়া ভাষণে মাওলানা ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, কেন্দ্র সরকার দাবি করছে যে তারা সংবিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে নতুন মার্কিন হামলার শঙ্কায় জ্বালানি তেলে রেকর্ড দরবৃদ্ধি, ব্রেন্ট ১১৮ ডলার প্রতি ব্যারেল

সরকারের এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে। সাধারণ আইনের অপব্যবহারের মতোই, এখানে সংবিধানের অপব্যবহার করা হয়েছে।

প্রবীণ এই রাজনীতিক জোর দিয়ে বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করার মাধ্যমে জনগণের রায়ের পরিবর্তে ‘জোরপূর্বক’ ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাদেশিক সরকারের ওপর আমার নিজস্ব দ্বিমত বা ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু বিপ্লব ঘটিয়ে সবকিছু উল্টে দিয়ে পরিবর্তন আনার পথ এটি নয়। কোনো পরিবর্তনের জন্য আপনাদের অবশ্যই জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে।’ সংবিধান ও সংসদের পবিত্রতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফকেও দায়ী করেন।

জেইউআই-এফ প্রধানের এই অভিযোগের জবাবে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন মাত্র ছয় মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা কেবল সন্ত্রাসবাদপ্রবণ কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলায় কার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া যুদ্ধ ও কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার তুরস্ক যাচ্ছেন জেলেনস্কি

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে যেকোনো একদিকে অবস্থান নিতে হবে-হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, না হয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আফগানিস্তানের সমর্থক হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বালুচিস্তানের পরিস্থিতি কেপির চেয়ে ভিন্ন। কেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি ইসলামাবাদের অভিমুখে লংমার্চ করতে প্রদেশের সরকারি তহবিল ও সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আফ্রিদি এমনকি সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন।’

ভাষণে সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশ রক্ষা ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ বন্ধে একটি নতুন 'মেথাক-ই-জমহুরিয়ত' (গণতন্ত্রের সনদ) স্বাক্ষরের আহ্বান জানান ফজলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সহনশীলতা দিন দিন শেষ হয়ে আসছে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে গণকবরের প্রস্তুতি

কেপিতে একই সাথে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি ইতিহাসে প্রথম কোনো ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি, যেখানে পুরো প্রদেশের বদলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তা কার্যকর করা হয়েছে। ১২টি জেলায় বিশেষ পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত জরুরি অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘প্রদেশের অর্ধেক অংশে গভর্নরের শাসন এবং বাকি অর্ধেক অংশে জরুরি অবস্থা চলছে।’

ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআই-এর লংমার্চ চলাকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফজলু জানান, পিটিআই নেতারা তাঁকে বিষয়টি মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি জানান, পিটিআই এবং পিএমএল-এন (পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী তখন পিটিআই-কে লংমার্চ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

ফজলু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘পরদিন সকালে (উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইসহাক দার আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না এবং কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করা ছাড়া উপায় নেই।’

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে এসআরবির মাদক অভিযানে হামলা, ২৬ জন কারাগারে পাঠানো

১১ অক্টোবরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি একটি ফোন পান, যেখানে তাঁকে জানানো হয় যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কেপিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইসহাক দার আবারও আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই চুক্তিতে রাজি নয়। তারা যেকোনো মূল্যে সেখানে গভর্নরের শাসন জারি করতে চায়। আমি তখন বলেছিলাম, গতকাল থেকে আমাদের নেওয়া সব প্রচেষ্টা মাটি হয়ে গেল। আমি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করল।’

নিজের সব উদ্যোগই ‘রক্তপাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে’ ছিল উল্লেখ করে ফজলু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে বালুচিস্তানে কমিশনারদের অপহরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, সেখানকার পরিস্থিতি কি কেপির চেয়েও খারাপ নয়?

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সফল হয়েছে-মন দাবি কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে করে?’

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ২

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, যাঁরা তাঁর দলের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জানা উচিত যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর দল বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দলের শহীদদের এবং অবদানকে এখন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রে জরুরি অবস্থা জারির কয়েক দিন পর ফজলু অভিযোগ করেছিলেন যে সরকার প্রদেশগুলোকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কেপি সরকারের অসহযোগিতার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তোপের মুখে পড়ার পর ফজলু স্পষ্ট করেন, সরকারের নীতির সমালোচনা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার জন্য নয়, বরং নীতি সংশোধনের জন্য করা হয়েছে।

তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার দল শহীদদের দল। আপনারা আমাদের শহীদদের দেখতে পান না, আর আমাদের ত্যাগ নিয়ে মশকরা করা হচ্ছে।’

জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, পাকিস্তান দেশের প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ কোনো ব্যক্তির একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। খনিজ সম্পদ বণ্টন সম্পর্কিত সরকারের নীতির নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় সেনাঘাঁটিতে হামলার পর ৪৮ ‘যোদ্ধাকে’ হত্যা

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের এই ‘সংবিধান লঙ্ঘন ও আগ্রাসন’ প্রতিরোধে তাঁর দল রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত করছে এবং জেইউআই-এফ কখনো কোনো সীমারেখা অতিক্রম করেনি।

সরকারকে শক্তির নীতি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে আমরাও মুখোমুখি হতে তৈরি। আমরা মরতে রাজি আছি। আপনাদের হাতে মরতে রাজি আছি, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় অপরাধী হিসেবে মরতে রাজি নই। আপনারা যদি সংঘাত চান, তবে আমরা এখানেই প্রস্তুত হয়ে বসে আছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র হচ্ছে মায়ের মতো, কিন্তু এই মা তার সব সন্তানদের সাথে সমান ও ন্যায্য আচরণ করছেন না।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে কেপিতে জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলগুলো। ফজলুর রহমানের পাশাপাশি 'তেহরিক-ই-তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তান'-এর প্রবীণ নেতা মেহমুদ খান অচাকজাই এবং রাজা নাসির আব্বাসও সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। গভর্নরের শাসন জারির আগে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই তাঁদের নেতার মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দিলে কেন্দ্র ও পিটিআই-পরিচালিত কেপি সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ফজলুর রহমানকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কেপিতে নতুন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে না পেরে এবং গভর্নর পদ না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ লাহোরে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, এই রাজনীতিক নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে কয়েক দশক ধরে ‘এস্টাবলিশমেন্টের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’ পরদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যকে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও 'চরিত্রহনন' বলে মন্তব্য করে প্রত্যাখ্যান করেন মাওলানা ফজলুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষার কারণে ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সময় ১০টা ১০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। তবে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মুম্বাইভিত্তিক কেডিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেডিয়া মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সমন্বয়ের কারণে স্বর্ণের দামে এই পতন ঘটেছে।

এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত সুদের হারে পরিবর্তন পিছিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৮ শতাংশ। ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৮৪ শতাংশ।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।

বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) দিকে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি পরিমাপে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

এদিকে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ১৫ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম একই হারে কমে ১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৭০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬ সালের জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬ সালের জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির গুলশান ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে জব ফেয়ারের শুভ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মীর মোহাম্মদ আজাদ, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল-এর ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘এক্সিলেন্স বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ‘অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ এই মেলার আয়োজন করে।

এবারের জব ফেয়ারে পুঁজিবাজার, জীবনবিমা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও বিনোদনসহ একাধিক খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছিল লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড, স্টার সিনেপ্লেক্স, ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, সম্ভব জবস, আবুল খায়ের গ্রুপ এবং ক্যারিয়ার প্রো বিডি।

দিনব্যাপী মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন এবং জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সেতুবন্ধন জোরদার করতেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের চাহিদা বুঝে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইথিওপিয়া রাশিয়া থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


ইথিওপিয়া রাশিয়া থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেল

রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান অর্জন করেছে আফ্রিকার রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। এ ছাড়া, রাশিয়ার তৈরি চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মস্কোয় অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই যুদ্ধবিমানগুলো তার দেশের কাছে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমানগুলোর দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধে সহায়তা করবে। অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় কাজ করবে।

তবে, এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি কবে নাগাদ ইথিওপিয়ায় পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।

ইথিওপিয়ার কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহ রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী জেনসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইথিওপিয়ার বিমানবাহিনীর ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করা হয়।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার দেশগুলোর প্রধান অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এই ক্ষেত্রে মহাদেশটিতে দেশটি তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কো আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে। বুধবার শুরু হওয়া রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের মডেল তৈরি করছে গ্রামীণ ডানোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের মডেল তৈরি করছে গ্রামীণ ডানোন

যখন একটি কমিউনিটি একটি ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট শুরু করে, তখন এর পেছনে থাকে একটি সহজ লক্ষ্য, যা হলো মানুষের জীবনকে উন্নত করা। তবে এই ধারণাকে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনে পরিণত করতে কেবল অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, একসঙ্গে কাজ করা, নিয়মিত কাজের খোঁজ রাখা এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা। এসব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অপরিহার্য।

ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের কাছে কাজের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব এবং সময়, অর্থ ও অন্যান্য রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কাজের প্রোগ্রেস ট্র্যাক করা যায়, শুরুতেই সমস্যা চিহ্নিত করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের উন্নতি করা যায়। এভাবে কাজ করলে প্রোজেক্ট থেকে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হয় এবং ভবিষ্যতে অন্য কমিউনিটিতেও একই ধরনের কাজ করা সহজ হয়।

পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোসিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস প্রোজেক্ট ও প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের কাজের স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি যারা প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, নতুন আইডিয়া, প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের কাজ অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।

এ বছর জনপ্রিয় শক্তি+ ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেড বাংলাদেশ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস-এ দুটি চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। আইডিই বাংলাদেশের সঙ্গে পার্টনারশিপে সিলেটে পরিচালিত ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ (টিএলটিএন) প্রোজেক্টটি ‘চ্যাম্পিয়ন প্রোজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। একইসঙ্গে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন প্রোজেক্ট ম্যানেজার অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পূর্বা চৌধুরী জয়া।

গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা বলেছেন, “আমাদের কাছে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট এর অর্থ হলো কমিউনিটির প্রয়োজন বোঝা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর হতে পারে এমন সমাধান তৈরি করা। ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এই বোঝাপড়াকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে এবং এর মাধ্যমে মানুষ, সম্পদ ও কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন কাজ কার্যকর হচ্ছে তা বোঝা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে এমন মডেল তৈরি করা, যা আরও বেশি কমিউনিটিতে প্রয়োগ করা যায়।”

আইডিই বাংলাদেশ বাস্তবায়িত টিএলটিএন প্রোজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিল পুষ্টি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, ফর্টিফায়েড খাবার সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আরও ভালো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম গড়ে তোলা। এই প্রজেক্টের বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু একটি কাজের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষা, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রোজেক্টটির মাধ্যমে স্কুল ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কমিউনিটি আলোচনায় মায়েদেরও যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষামূলক ভিডিও, ইন্টার‌্যাকটিভ সেশন ও কুইজের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি সম্পর্কে শেখানো হয়েছে। এতে শিশুরা পুষ্টির বিষয়গুলো আরও সহজে বুঝতে পেরেছে এবং শুধু শুনে শেখার বদলে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মা ও কমিউনিটির অন্য সদস্যদের যুক্ত করতে ৫৮টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এসব বৈঠকে পুষ্টি নিয়ে আলোচনা, প্রশ্ন করা এবং একসঙ্গে শেখার সুযোগ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি সাতটি স্কুল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু ও তাদের পরিবারের নিজ নিজ কমিউনিটিতে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে।

প্রোজেক্টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ৬৪ জন নিউট্রিশন উদ্যোক্তাকে ট্রেনিং দেওয়া। এই ট্রেনিংয়ে তাদের পুষ্টি, প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা, হাইজিন, কমিউনিকেশন, সেশন পরিচালনা ও সেলস সম্পর্কে শেখানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে প্রোজেক্টিটি কমিউনিটির মানুষের কাছে পুষ্টি বিষয়ক প্রোডাক্ট ও তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

এসব অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে প্রোজেক্টটি সরাসরি ১ হাজার ৭৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ২৫০ জন মায়ের কাছে পৌঁছেছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে ৫ হাজারের বেশি কমিউনিটি সদস্য এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু একবার খাবার বা তথ্য দিয়ে অপুষ্টির সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, পরিবারের জন্য ভালো খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং কমিউনিটিতে এমন কিছু বিশ্বাসযোগ্য মানুষ গড়ে তোলা দরকার, যারা নিয়মিত পুষ্টি বিষয়ক তথ্য ও জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

বিশ্বের অনেক জায়গায় এখনও অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা। তাই টিএলটিএন প্রোজেক্টটি শুধু একটি সফল স্থানীয় উদ্যোগ নয়, বরং অন্যান্য পিছিয়ে থাকা কমিউনিটিতে পুষ্টি নিয়ে কাজ করার জন্যও একটি ভালো মডেল হতে পারে। তবে একটি ভালো উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে কেবল ভালো আইডিয়া থাকলেই হয় না, ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টও প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন স্পষ্ট লক্ষ্য, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কাজের দায়িত্ব সঠিকভাবে ভাগ করে দেওয়া, ভালো পার্টনারশিপ, নিয়মিত মনিটরিং এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ। এসব বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললে একটি প্রোজেক্ট শুধু একবারের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এমন একটি মডেল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে অন্য জায়গাতেও ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নত করা যায়।

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এর গুরুত্ব তুলে ধরে পূর্বা চৌধুরী জয়া বলেছেন, “ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট শুধু সময়মতো কার্যক্রম শেষ করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য থাকা, যাদের জন্য কাজ করা হচ্ছে তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং সঠিক পার্টনারদের একসঙ্গে নিয়ে আসাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় ঠিকভাবে করা গেলে একটি প্রোজেক্ট আরও গোছানো ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ে।”

সুতরাং, টিএলটিএন প্রজেক্টের ‘প্রোজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দেখিয়েছে, একটি প্রোজেক্ট সফল করতে শুধু ভালো মডেল থাকলেই হয় না, সেটি বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ মানুষও দরকার। পাশাপাশি প্রোজেক্টটি দেখিয়েছে, কীভাবে কমিউনিটির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতা তৈরি করা যায়। এই অভিজ্ঞতা অন্য কমিউনিটির প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো গেলে, একটি সফল প্রোজেক্টের সুফল শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%