বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩০ পি.এম
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা উল্লেখ করেন, ‘কেডিএ কেবল কংক্রিটের ভবন, চওড়া রাস্তা বা বড় বড় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজই করে না। খুলনাকে পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও তারা বদ্ধপরিকর’।
আজ বৃহস্পতিবার জেলার দৌলতপুর কল্পতরু মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন, দৌলতপুরের কল্পতরু পরিত্যক্ত মার্কেটটি অপসারণ করে সেখানে একটি ‘মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
তার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেডিএ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণে, গাছ লাগানোর মতো শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ রেখে দেওয়ার একটি অঙ্গীকার।
খুলনার সকল নাগরিক, যুবসমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে বৃক্ষরোপণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ভয়েস দেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন। আসুন, সবাই নিজেদের বাড়ি, আঙিনা ও ফাঁকা স্থানে অন্তত একটি গাছ রোপণ করি।
সরকারের সহযোগিতায় নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে পুরোপুরি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব নয়।
পরে তিনি সমাজ সেবক শামশাদ আতিক কিশোরের অর্থায়নে দরিদ্র পরিবারের জন্য সেলাই মেশিন ও দর্জিকাজের জন্য কিছু থানকাপড় হস্তান্তর করেন।
পরে তিনি সরকারি দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ করেন।
দৌলতপুর মুহ্সীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেডিএ চেয়ারম্যান।
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম মুর্শিদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মতলুবুর রহমান মিতুল প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদক সেবন করে নিয়মিত পরিবারকে নির্যাতন করায় অতিষ্ঠ হয়ে বাবা নিজেই তার ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছেলে নাহিদ মিয়া (২২) নামের এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা যায়, উপজেলার বাট্টাজোর ইউনিয়নের চন্দ্রবাজ গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রাব্বানীর ছেলে নাহিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছিল। এর কারণে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে ঘটনার দিন বাবাকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন বলে জানা গেছে।
ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে বাবা গোলাম রাব্বানী বলেন, মাদকের নেশায় সে আমাদের উপর নিয়মিত অত্যাচার করে। প্রতিদিনের মত আজ সকালেও মাদক সেবন করে আমাকে মারধর করে। সহ্য করতে না পেরে আমি তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাহিদ মিয়াকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধায় একটি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ২০০ কেজি জিরাসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই অভিযানের সময়, চোরাচালান চক্রের কথিত মূল হোতা শাহিন আলম পালিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা শহরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অভিযান চালানোর সময় জিরাভর্তি একটি ট্রলি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবকের মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম বেড়াডাঙ্গা (গণেশপুর) এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শাহজালাল ইসলাম (২৫) এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার আমতলী এলাকার নাজমুল হকের ছেলে নওশাদ হাসান আতিক (৩০) রয়েছেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রথমেই শাহজালাল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে পলাশবাড়ী ওভারব্রিজ এলাকার নিচ থেকে নওশাদ হাসান আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেখানো তথ্যে পলাশবাড়ীর গণেশপুর বাজারের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে জিরা প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত ৩০টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা এবং ভারতীয় চিহ্নযুক্ত ১০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ৮৮টি বস্তার মধ্যে মোট ২ হাজার ২০০ কেজি জিরা ছিল। এসব জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শাহিন আলম এই চোরাচালান চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রক্টরের পদত্যাগের এক দিনের মাথায় চারজন সহকারী প্রক্টর একযোগে পদত্যাগ করেন। একই দিনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৭৮ দিন পর প্রক্টর কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চার সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।
পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন—প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামীমা নাসরীন জলি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর কবির এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস।
এছাড়া পৃথক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তারকে আগামী দুই বছরের জন্য সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম পদত্যাগ করেন। গত ১২ মে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এর ফলে টানা ৭৮ দিন প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবনিযুক্ত প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের অন্যতম দাবি ছিল প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, যা তারা পূরণ করতে পেরেছেন। তবে তারা আরও ঘোষণা করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে জমি বিরোধের কারণে মা ও মেয়েকে খুনের মামলায় আবুল কালাম নামের প্রধান আসামির বিরুদ্ধে আদালত মৃতুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে, যা চার্জশিট হিসেবে পরিচিত, অভিযুক্ত অপর ২ নারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ আদেশ প্রদান করেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জানিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জানান, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই এলাকার আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদা বেগম এবং ৭ম শ্রেণীতে পড়া কন্যা জন্নাতুল ফেরদৌস প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর আজিজুল হক বাদি হয়ে ২২ জানুয়ারি আবুল কালামকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর অভিযুক্তরা ছিলেন প্রধান আসামির ভাই আবুল তাহের, প্রধান আসামির স্ত্রী হামিদা বেগম এবং আবু তাহেরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
এ মামলাটির অনুসন্ধান শেষে পুলিশ ২০২১ সালের ১৪ জুলাই আবু তাহেরকে অব্যাহতি প্রদান করে এবং অপর ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচারকার্য শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করে। আদেশ প্রদানকালে আসামিদের ৩ জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ