০৭:৫৩ পি.এম
নুসরাত হত্যা মামলার রায় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ জ্ঞাপন করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে, তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও অপপ্রচার নিয়ে অভিযোগ তোলেন এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার বলেন, “নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু আজকের রায়ের মাধ্যমে এটি আবারও হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়েছে। ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’”
তিনি আরও জানান, “আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার
নিরাপত্তায় নিয়োজিত ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, রায়কে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালত নিয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন। খালাস প্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল অন্যতম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা রায়ের ঘোষণা দেন। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে এই রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পড়ে শোনান। রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে আসামি ও ভুক্তভোগীর স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
এর আগে, গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এরপর মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলাটির রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ এর ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে এটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। আসামিরাও আলাদাভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ভুগছে ড. আখতার হামিদ খানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান কেটিসিসিএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন