রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
এশিয়ান গেমসে আরচারি ইভেন্টের দলগত প্রতিযোগিতায় রোববার বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল এক হতাশাজনক দিন। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ডের নারী, পুরুষ এবং মিশ্র দলগত ছয়টি ইভেন্টের সবগুলোতেই বাদ পড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ওকাজাকি চুয়ো সোগো পার্কে ইরানের বিরুদ্ধে ছেলেদের দলগত কম্পাউন্ড ইভেন্টে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম সেটে তারা জয়লাভ করে ৫৯-৫৭ পয়েন্টের ব্যবধানে। পরবর্তী সেটটি ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে স্কোর ৫৮-৫৮ পয়েন্টে ড্র হয়। তৃতীয় সেটে বাংলাদেশ ৫৬-৫৯ পয়েন্টে পরাজিত হয়। শেষ সেটে লাল-সবুজরা ৫৯-৫৮ পয়েন্টে জয়লাভ করলেও চূড়ান্ত স্কোর ছিল ২৩২-২৩২ পয়েন্ট।
ভাগ্য নির্ধারক শুট-অফে দুই দলের স্কোর সমান ছিল ৩০-৩০। তবে ইরানের তিনটি এক্স শট ছিল, যেখানে বাংলাদেশের দুটি ছিল। ফলে সুক্ষ্ম ব্যবধানে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট অর্জন করে ইরান।
মেয়েদের কম্পাউন্ড দলের প্রতিপক্ষ ছিল কাজাখস্তান। প্রথম সেটটি ৫৫-৫৫ পয়েন্টে ড্র হয়। দ্বিতীয় সেটে বাংলাদেশ ৫৬-৫৭ পয়েন্টে পরাজিত হয়, তৃতীয় সেটে তারা ৫৭-৫৯ পয়েন্টে জয়লাভ করে। কিন্তু চতুর্থ সেটে ৫৮-৬০ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে লাল-সবুজরা ম্যাচ থেকে বাদ পড়ে। চূড়ান্ত স্কোর ছিল ২২৯-২২৮।
কম্পাউন্ড নারী ও পুরুষ দুই দলেরই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে ম্যাচ হারার ঘটনা ঘটে। রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে আব্দুর রহমান আলিফ ও মনিরা আক্তার জুটি থাইল্যান্ডকে ৬-০ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করে। সেখানে তারা স্বাগতিক জাপানের কাছে ১-৫ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে লাল-সবুজদের অভিযান শেষ হয়।
কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টের প্রি-কোয়ার্টারে বাংলাদেশ ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করে, কিন্তু তারা ১৫৮-১৫৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়। রিকার্ভ ছেলেদের দলগত লড়াইয়ে ইরানের কাছে বাংলাদেশ ৫-৪ পয়েন্টে হারিয়ে বিদায় নেয়। মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশ জাপানকে ৫-৪ ব্যবধানে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করে। কিন্তু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত হয়।
গেমসে সোমবার বাংলাদেশ দলের হিমু বাছাড় ছেলেদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে তার প্রতিপক্ষ কাজাখস্তানের আন্দ্রেই তাইয়ুতাইয়ুন। একই ইভেন্টে নেওয়াজ আহমেদ রাকিব ইরানের মিলাদ রশিদিদির বিরুদ্ধে লড়বেন। মেয়েদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত লড়াইয়ে কুলসুম আক্তার মনির প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার নিনো বনিতা প্যারেইরা। বাংলাদেশের আরেক তীরন্দাজ বন্যা আক্তারের সামনে রয়েছে ইরানি বাধা, যেখানে তার প্রতিপক্ষ গিসা বাইবরদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি বাংলা কিউআর ভিত্তিক লেনদেনের বিপরীতে, যা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে, মাসিক ভিত্তিতে এই প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করেছে। এই সার্কুলারে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার আওতায়, ব্যক্তিগত রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের লেনদেনও প্রণোদনার আওতায় থাকবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের বিপরীতে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এর আগে, গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের অনুচ্ছেদ ২-এ বাংলা কিউআর লেনদেনের জন্য প্রণোদনার বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ওই অনুচ্ছেদটি প্রতিস্থাপন করে প্রণোদনার আওতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্ট পয়েন্টও এই সুবিধার আওতায় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সার্কুলারে প্রতিস্থাপিত অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তাদি এবং আগের সার্কুলারের অন্যান্য সব অনুচ্ছেদ অপরিবর্তিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর রাফিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় রুয়েট প্রশাসন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকবৃন্দ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে রুয়েট পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপাচার্য এক শোক বার্তায় বলেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে রুয়েট পরিবার শোকাহত। মহান রাব্বুল আলামিন তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করবার তৌফিক দান করুন।" শোকবার্তায় উপাচার্য শোকসস্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার। দুর্ঘটনার পর তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন। এসময় তারা হাসপাতালের পরিচালকসহ চিকিৎসকবৃন্দের সাথে কথা বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মাথায় তীব্র আঘাতের ফলে রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমে আছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন। তাৎক্ষণিকভাবে রুয়েট প্রশাসন আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রাফিদকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও ময়মনসিংহ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ কয়েক বছর ধরে শীর্ষে বা শীর্ষের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রায় দুই মাস পর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেও ওই দিন দেশের মোট লোডশেডিংয়ের ৪৪ শতাংশই ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ অঞ্চলে হয়েছে।
ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর—এই ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ অঞ্চলে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় রাত ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট। কিন্তু বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪৫৫ মেগাওয়াট। একই সময়ে সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৩২ মেগাওয়াট।
চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সারা দেশে যত লোডশেডিং হয়েছে, তার ৩৭ শতাংশই ময়মনসিংহ অঞ্চলে হয়েছে। অথচ জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৯ শতাংশ এই অঞ্চলের। একই সময়ে ঢাকায় লোডশেডিংয়ের হার ছিল ১৫ শতাংশ এবং ১২ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল খুলনা। ২১ জুলাই থেকে দেশে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়। এর আগে মে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে দেশে যে লোডশেডিং হয়েছিল, তার প্রায় ৫৬ শতাংশই ময়মনসিংহ অঞ্চলে হয়েছিল। অর্থাৎ জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদায় ময়মনসিংহের অংশ মাত্র ৯ শতাংশ হলেও দেশের মোট লোডশেডিংয়ের ৩৭ শতাংশের বোঝা এই অঞ্চলকে বহন করতে হচ্ছে। সস্তা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে চাহিদা পূরণে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
কয়েক বছর ধরেই সংকট
২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মে থেকে জুলাইয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলেও ময়মনসিংহের একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর তালিকায় এ অঞ্চল ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে বা শীর্ষের কাছাকাছি অবস্থান করেছে। ২০২৩ সালের মে থেকে জুলাইয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে নথিভুক্ত মোট লোডশেডিংয়ের ১৮ শতাংশ হয়েছিল ময়মনসিংহে। দেশের নয়টি বিদ্যুৎ অঞ্চলের মধ্যে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের একই সময়ে দেশের মোট লোডশেডিংয়ের ৩২ শতাংশ হয়েছিল ময়মনসিংহ অঞ্চলে। ওই বছরও সব অঞ্চলের মধ্যে ময়মনসিংহে লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ।
তবে ২০২৫ সালে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায়। ওই বছরের মে থেকে জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে মোট লোডশেডিংয়ের ৪৪ শতাংশ হয়েছিল রংপুরে। ময়মনসিংহ ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে—এ অঞ্চলে হয়েছিল ২০ শতাংশ লোডশেডিং।
গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন
ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন তার সক্ষমতার বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফলে চাহিদা পূরণে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে এলাকাভিত্তিক সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে আরপিসিএলের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর বা পিএলএফ ২০২০ অর্থবছরে ছিল ৭০ শতাংশ। ২০২৫ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে দুটি ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ২০২৫ অর্থবছরে ইউনাইটেড ময়মনসিংহের পিএলএফ ছিল ৪২ শতাংশ এবং ইউনাইটেড জামালপুরের ৪৫ শতাংশ।
প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর বা পিএলএফ হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত একটি কর্মদক্ষতা সূচক। নির্দিষ্ট সময়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তার মোট সক্ষমতার তুলনায় কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, তা এই সূচকের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়।
ছয় বছর আগের চিত্র ছিল প্রায় উল্টো। ২০২০ অর্থবছরে আরপিসিএলের পিএলএফ ছিল ৭০ শতাংশ। বিপরীতে ইউনাইটেড ময়মনসিংহের পিএলএফ ছিল ২৯ শতাংশ এবং ইউনাইটেড জামালপুরের ৪৩ শতাংশ।
সস্তা বিদ্যুতের জায়গায় ব্যয়বহুল উৎপাদন
আরপিসিএল দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০২০ অর্থবছরে আরপিসিএল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ৩ টাকা ৪১ পয়সা ব্যয়ে উৎপাদন করেছে। বিপরীতে ইউনাইটেড ময়মনসিংহে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ১১ টাকা ৯৬ পয়সা এবং ইউনাইটেড জামালপুরে ১২ টাকা ২৮ পয়সা। কিন্তু ২০২৫ অর্থবছরে আরপিসিএলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৫১ পয়সা।
তারপরও ফার্নেস অয়েলের বেশি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় আরও বেশি ছিল। ওই বছর ইউনাইটেড ময়মনসিংহে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২৪ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ইউনাইটেড জামালপুরে ২৪ টাকা ২ পয়সা। আরপিসিএলের প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কম ব্যবহারের অর্থনৈতিক প্রভাব। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্দিষ্ট ব্যয় বা ফিক্সড কস্ট বহাল থাকে। ফলে কম সংখ্যক ইউনিট বিদ্যুতের ওপর ওই নির্দিষ্ট ব্যয় ভাগ হয়ে পড়ে এবং প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।
জাতীয় পর্যায়েও একই সংকট
শুধু ময়মনসিংহ নয়, একই ধরনের সমস্যা জাতীয় পর্যায়েও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন প্রায়ই সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বা তার কমে সীমিত থাকে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকটের কারণে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
নতুন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোগ
জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যেই ময়মনসিংহ অঞ্চলে আরও একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলাকার অন্যান্য স্থাপনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য গাজীপুরের ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কম্বাইন্ড-সাইকেল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বা আরপিসিএল।
তবে নতুন প্রকল্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত গ্যাসের নিশ্চয়তা।
ধনুয়া-ময়মনসিংহ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের ওপর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে টেকসই করার ক্ষেত্রে দেশীয় গ্যাসের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে হাই-স্পিড ডিজেল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা হলে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ময়মনসিংহের লোডশেডিং কমাতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না বলেই পৃথক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে।
বাড়ানো হচ্ছে সঞ্চালন সক্ষমতা
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ কালিয়াকৈরকে শম্ভুগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে একটি উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করছে। পাশাপাশি শম্ভুগঞ্জে একটি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যাপ্ত না হলে এই সঞ্চালন অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ময়মনসিংহে আরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। গত বছরের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৪ শতাংশ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সাবস্টেশনটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সঞ্চালন লাইনগুলোর কাজ চলছে। তিনি বলেন, সঞ্চালন লাইনটি সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে স্থানীয় উৎপাদন ঘাটতি, গ্যাস সরবরাহের সংকট এবং সঞ্চালন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাইপলাইন নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ এবং সঞ্চালন অবকাঠামোর কাজ শেষ করা গেলে এ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন শুনানির জন্য আদালত আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, আইনজীবী আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, কিশোরের নাম মামলার এজাহারে নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ৯ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও আদালতকে জানান তারা।
আইনজীবীরা আরও বলেন, কিশোর শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। সে গাড়ির হর্ন দিয়েছিল, কিন্তু নিহত ব্যক্তি তা শুনতে পাননি। এই বিবেচনায় তারা জামিনের আবেদন করেন।
বিচারক জবাবে বলেন, মামলাটির বিষয়ে ব্যাপক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এটি জামিন অযোগ্য মামলা।
এ সময় আইনজীবীরা কিশোরের বিবেচনায় জামিন দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং পরিবার আদালতে উপস্থিত রয়েছে। জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
পরে বিচারক নিহত মেহেদী হাসান মিমের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তার বড় ভাই, বাবা ও মামা আদালতে উপস্থিত হয়ে কাঠগড়ার সামনে দাঁড়ান।
বিচারক বলেন, ঘটনাটি গুরুতর। একটি সমাজ এ মামলায় ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলাটির ব্যাপক গণমাধ্যম কাভারেজ হওয়ায় আদালতকে সব দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পরে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আগামী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন ধার্যের অনুরোধ করেন। এরপর আইনজীবীরা আগামী রবিবার অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্যের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে গুলশান থানার বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম গাড়ির চাপায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটিকে দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোর বের হয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শারীফ গাড়িটি চালাচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে বলে পুলিশ জানায়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ