০৬:৪৬ পি.এম
বর্তমানে ১৭৩টি শহরের মধ্যে বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকার বাসযোগ্যতা ক্রমশই নিম্নমুখী।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) দীর্ঘমেয়াদি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এবং বোর্ড সদস্য (ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজোঁ) পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান। তিনি জানান, ঢাকা বর্তমানে বাসযোগ্যতার নিম্নতম পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে নগরের চিত্র এমন বর্ণনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
বিআইপির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বর্তমান অবস্থান ১৭১তম—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকার নগরজীবনেও এর প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বললেন, পরিবহন, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান, জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়গুলো নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
দ্রুত নগরায়ণের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
তিনি শব্দ, দৃশ্য ও আলোকদূষণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, অপরিকল্পিত সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা নগরের নান্দনিকতা, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত ভবনঘনত্ব, জলাবদ্ধতা এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মোট ৯৯ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাত্র ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ সবুজ এলাকা বিদ্যমান, যা বাসযোগ্য শহরের জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।
পরিবহন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এর ফলে আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করতে পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭৬৫ টন বা মোট উৎপাদিত বর্জ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এসব বর্জ্য রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরেছে বিআইপি। সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন যাই ঘটুক না কেন, চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না, উল্লেখ করেছেন তারা।
মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনার সুপারিশও করে বিআইপি।
এই সংগঠনটি খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একীভূত করে সমন্বিত জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ প্রদান করেছে।
এ ছাড়া বলছে, সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অন্যান্য প্রকল্প গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরের বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তার মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন