ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার বাসযোগ্যতা সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান বিআইপির


ঢাকার বাসযোগ্যতা সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান বিআইপির

 

বর্তমানে ১৭৩টি শহরের মধ্যে বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকার বাসযোগ্যতা ক্রমশই নিম্নমুখী।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) দীর্ঘমেয়াদি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এবং বোর্ড সদস্য (ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজোঁ) পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান। তিনি জানান, ঢাকা বর্তমানে বাসযোগ্যতার নিম্নতম পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে নগরের চিত্র এমন বর্ণনায় এসেছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বিআইপির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বর্তমান অবস্থান ১৭১তম—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকার নগরজীবনেও এর প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বললেন, পরিবহন, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান, জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়গুলো নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

দ্রুত নগরায়ণের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

তিনি শব্দ, দৃশ্য ও আলোকদূষণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, অপরিকল্পিত সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা নগরের নান্দনিকতা, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত ভবনঘনত্ব, জলাবদ্ধতা এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মোট ৯৯ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাত্র ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ সবুজ এলাকা বিদ্যমান, যা বাসযোগ্য শহরের জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।

পরিবহন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এর ফলে আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করতে পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।

তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭৬৫ টন বা মোট উৎপাদিত বর্জ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এসব বর্জ্য রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরেছে বিআইপি। সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন যাই ঘটুক না কেন, চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না, উল্লেখ করেছেন তারা।

মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনার সুপারিশও করে বিআইপি।

এই সংগঠনটি খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একীভূত করে সমন্বিত জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ প্রদান করেছে।

এ ছাড়া বলছে, সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অন্যান্য প্রকল্প গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরের বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তার মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনের ক্যাথলিক স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে সহপাঠী নিহত, এরপর যা ঘটল...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


ফিলিপাইনের ক্যাথলিক স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে সহপাঠী নিহত, এরপর যা ঘটল...

দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাই স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে তার সহপাঠী নিহত হয়েছে। এরপর ওই শিক্ষার্থী নিজেই আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঘটনার সময় স্কুলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে দুই মাদ্রাসাছাত্র অপহরণের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো ‘নাটক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব,কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ভৈরবে দুই মাদ্রাসাছাত্র অপহরণের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো ‘নাটক’

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুটি মাদ্রাসাছাত্রকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে জানা গেছে যে, ঘটনা আসলে ছিল সাজানো। মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় পাঁচ শিক্ষার্থী মিলে অপহরণের নাটক তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবারের রাতের। ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের নূরে মদিনা ইব্রাহিমিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থী জুনাইদ মিয়া (১৩) ও সাঈদ হাসান (১৫)-কে চনকান্দা মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

জুনাইদ মিয়া অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার সন্তান, অন্যদিকে সাঈদ হাসানও একই এলাকার লোকমান মিয়ার ছেলে। এরপর অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের সঙ্গে আরও তিনজন শিক্ষার্থী মিলে এই ঘটনার সাজানো ছিল। তারা হলো মোসাইদ (১১), পিতা উবায়দুল্লাহ; ইমামুল হক (১৩), পিতা এরশাদ মিয়া এবং সিদরাতুল (১২), পিতা মো. ফারুক। তাদের সূচিত বাড়ি অষ্টগ্রাম থানার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল এলাকায়।

জানা গেছে, মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় একত্রিত হয়ে এই অপহরণের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে জুনাইদ ও সাঈদ ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে যায়। সেখানে প্রতি জন ৫০০ টাকা করে দেয় বলে জানা যাচ্ছে। পরদিন দুপুরে তারা আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে তাদের স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসা ও ঘটনার ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ার ফলে বিষয়টি আসলে সাজানো বলে জানা যায়।

পাঁচজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো লাগছিল না। তাই কয়েকজন মিলে কিছু সময়ের জন্য বাইরে থাকার পরিকল্পনা করেন। পরে অপহরণের মতো একটি ঘটনা সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সবাই মিলে বাইরে গিয়েছিল। আমাদের কেউ অপহরণ করেনি।

আমাকে কেউ জোর করে তুলে নেয়নি। আমরা নিজেদেরই বাইরে গিয়েছিলাম। পরে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটিয়েছিলাম। পরদিন দুপুরে আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসি।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানাচ্ছে, রাতের বেলায় দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আসলে ঘটনাটি ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছায় মাদ্রাসার বাইরে গিয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বলেছিলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্যও উদ্বেগের ছিল। শিক্ষার্থীরা এভাবে না জানানোর সঙ্গে বাইরে চলে যাবে, এটা আমরা চিন্তা করতে পারিনি। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানি, পড়াশোনা ভালো না লাগার কারণে তারা এমন পরিকল্পনা করেছিল। বিষয়টি আমরা গুরুতরভাবে নিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে অপহরণের খবর পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে অনুসন্ধানে বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। শিক্ষার্থীরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সেটাই আমরা গ্রহণ করবো।

এ সম্পর্কে ভৈরব থানার এস আই রাকিব জানান, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তদন্তে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য মেলেনি। তাদের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তারা নিজেদের পরিকল্পনায় মাদ্রাসার বাইরে ছিল। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত একটি কমিটি অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, পেনশন, উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে আলাদাভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একইসাথে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করলেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খান সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

প্রতিবেদন গ্রহণের সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ কথা বলেন, 'অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'

তিনি আরো বলেন, 'কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নিজেদের সুবিধামতো আইন তৈরি করছে: আখতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


সরকার নিজেদের সুবিধামতো আইন তৈরি করছে: আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন যে সরকার নিজেদের সুবিধা মতো আইন তৈরি করছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

 

আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, সরকার (তাদের) উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের সুবিধা মতো আইন তৈরি করা। সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়, সে কারণে অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন তৈরি করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, দেখা যাবে গুমের বিষয় তদন্ত চাপা দেওয়া হবে। সরকার ভালো আইন আনার কথা বললেও বাস্তবে উল্টোপথে হাঁটছে। অধ্যাদেশগুলো যেভাবে শিক্ষিত ছিল সেভাবেই আইন তৈরি করা উচিত। যদি ওই খসড়া আইন পাস হয়, তবে আমাদের লড়াইয়ের পথ আরও দীর্ঘ হবে।

 

এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেছেন, আপনার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবারও বসুন। নতুন করে আইনের খসড়া তৈরি করেন, যাতে গুমের ঘটনা আর না ঘটে এবং ঘটলেও যেন ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।

 

এসময় তিনি মন্তব্য করেন, মানবাধিকার কমিশনকে ভগ্ন কমিশন হিসেবে প্রস্তুত করলে আগের মতো পরিস্থিতি হবে।

 

আখতার হোসেন আরও বলেন, সরকার এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে দলীয়করণ করেনি। আমরা সামনে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%