রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫২ পি.এম
ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে একটি প্রতিবেদনে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'-এর সদস্য মহসেন হায়দারি গত বৃহস্পতিবার কাতারের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক 'আল আরাবি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য প্রকাশ করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাবার ওপর প্রথম দফার হামলায় খুব কাছ থেকে বেঁচে যাওয়ার পর মুজতবা খামেনিকে চিকিৎসার জন্য তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ডে হামলা চালায়। এতে ৮৬ বছর বয়সী এই সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরবর্তী দিনগুলোতে তেহরানের অন্তত তিনটি ভিন্ন হাসপাতালে বোমারু হামলা চালানো হয়।
মহসেন হায়দারি 'আল আরাবি'কে বলেন, "তিনি (মুজতবা) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তেহরানের তিনটি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছিল।" হায়দারি আরও জানান, "মুজতবা খামেনি তৃতীয় হাসপাতালটিতে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকে তাঁকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার করা হয়।"
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার পর ৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি এক অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তাঁর কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। সাক্ষাৎকারে হায়দারি মুজতবাকে "আড়ালের মানুষ" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার হওয়ার আগে পর্যন্ত মার্চ মাসের ৮ তারিখে নিজেকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি সম্পর্কে মুজতবা নিজেই অবগত ছিলেন না। তবে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর আইনি ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
যেভাবে নির্বাচিত হলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংস্থাটিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারিতে ছিল। প্রাথমিক হামলার পর, প্রতিনিধিরা কোনো পূর্ব নির্ধারিত এজেন্ডা ছাড়াই গোপনে চিঠি লিখে নিজেদের ভোট জমা দেন। পরবর্তীতে তাঁদের একটি গোপন স্থানে তলব করা হয়। ওই বৈঠকে মুজতবা খামেনি ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
হায়দারি আরও বলেন, "আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম যে মুজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং দেশ পরিচালনায় সক্ষম। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় যোগ্যতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতা—এর সবই তাঁর মধ্যে বিদ্যমান।"
মুজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা নানা গুঞ্জনের পর এসব তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে আগস্ট মাসে মার্কিন মন্তব্যকারী গ্লেন বেকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছিলেন, "আমার মনে হয় না তিনি মারা গেছেন।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, "তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। তাঁর শরীরের বাম পাশ—হাত, পা সবটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি খুব গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, তবে আমার মনে হয় না তিনি মারা গেছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের একাংশের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, প্রকৌশল অনুষদ, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রথমে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তারা বিষয়টি মেনে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর বাসায় যাওয়ার সময় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর ফের হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম মজুমদার গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। তাঁর হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত ভেঙে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিব, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাকিল এবং একই বর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবির জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন আইসিটি বিভাগ পর্যন্ত আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তালা খুলে দিলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আসা ব্যক্তিদের ধাওয়া করেন।
ধাওয়া করতে করতে তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে পৌঁছালে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে লাইব্রেরিতে। আমরা শুরুতেই বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এর পর কীভাবে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানাব। তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
তবে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার গাজীপুরে ডুয়েটের উপাচার্যের সভাকক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘স্ট্রেন্থেনিং স্টার্ট-আপ, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তবমুখী ও বাজার উপযোগী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি নীতিগতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।"
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আরও জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "স্টার্টআপ সংস্কৃতি উন্নয়নে চলতি বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।" তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে জিডিপিতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে অর্থায়ন, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনা শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।"
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ডুয়েট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।"
তিনি বলেন, "কার্যকর একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা গড়ে তোলা গেলে দেশের উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।" এ ধরনের আলোচনা তিন মাস পরপর আয়োজন করার এবং ছয় মাস পরপর ইউজিসিতে প্রতিবেদন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পকে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে নেওয়া ডুয়েটের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে উদ্ভাবনী ধারণাকে পণ্যে রূপ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর নির্মাণ করা হয়েছে।"
প্যানেল আলোচনায় ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ডুয়েটের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সুবিধা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান।
গোলটেবিল আলোচনায় বিডিরেন, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, আকিজ সিরামিকস, উর্মি গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, জেনকোর সল্যুশনস, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসাল্ট্যান্টস, মাসকো গ্রুপ, ডিক্যাথলন, র্যাঙ্কন অটো ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরে শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে ‘দ্য ফিউচার অব ইয়ুথ ইন বাংলাদেশ ইন দ্য পারস্পেকটিভ অব অন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে জেনকোর সল্যুশনসের সিইও ও ডুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী জিশান আহাম্মদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি আটতলা বাড়ি দখল করার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দেখিয়ে এবং ভাঙচুর চালিয়ে হামলা করেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল ওই বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির মালিকের অভিযোগ, শ্যামলী হাউজিংয়ের তার আটতলা বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘দলবল নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বলে, টাকা দে। বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না?’ এই কথা বলতে বলতে বাসার মূল ফটকে কোপানো শুরু করে। জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বাসার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে খুলতে না পারায় ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।
বাড়িটির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।
গতকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জন লোক তাদের বাড়িটির সামনে আসেন। কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের একটু দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিই এই হামলার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেন দাবি করেন, ‘প্রথমে এসেই তারা বাড়ির মূল ফটকের গেট খুলতে বলেন। সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বের না হওয়ায় বাইরে থেকে বলা শুরু করেন, “টাকা দে! বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।” এই কথা বলতে বলতে চাপাতি, রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা, জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইটের টুকরা দিয়ে দুইতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মনির হোসেনের অভিযোগ, ভাঙচুর চলাকালে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। অথচ পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পরে পৌনে ১০টার দিকে এসে পৌঁছায়। পুলিশ ঠিক সময়ে এলে দুর্বৃত্তদের ধরা সম্ভব হতো। পরে এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তারা জানেন না।
মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা তদন্ত করে দেখছে। কোনো অগ্রগতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
আগেও দখল হয়েছিল বাড়িটি
মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটি দখল ফেরত পান তারা।
মনির হোসেন আরও বলেন, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্ত করে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে কী আছে তারা জানেন না। এর মধ্যে আবার হামলা চালানো হলো। তারা এখন কী করবেন, কার কাছে সাহায্য চাইবেন, বুঝতে পারছেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি শহরে বিতর্কিত ব্রিটিশপন্থী প্রোটেস্ট্যান্ট মিছিল ঠেকাতে রোববার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। মূলত ক্যাথলিক ও জাতীয়তাবাদী একটি এলাকার মধ্য দিয়ে ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো এই মিছিলটি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সব পক্ষকে ‘শান্ত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার ভোররাতে একটি আদালত অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাজ্যের পোর্টাডাউন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিতর্কিত শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীন সংস্থা প্যারেডস কমিশন ৩৫ জন অরেঞ্জম্যানকে রোববার সকাল ৮টা থেকে গারভাঘি রোড দিয়ে নীরবে মিছিল করার অনুমতি দিয়েছে। এই সময় কোনো ব্যান্ড বা সমর্থক উপস্থিত থাকবে না।
বার্নহাম সব পক্ষকে ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানান। বিবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘বড় ধরণের অগ্রগতি’ হয়েছে। ‘আমরা চাই না পরিস্থিতি আবার পেছনের দিকে ফিরে যাক।’
উত্তর আয়ারল্যান্ডে তিন দশক ধরে সংঘাত চলেছে, যা মূলত ক্যাথলিক ও আয়ারল্যান্ডপন্থী রিপাবলিকান এবং প্রোটেস্ট্যান্ট ও যুক্তরাজ্যপন্থী ইউনিয়নপন্থীদের মধ্যে ছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে গারভাঘি রোড এ সংঘাতের অন্যতম প্রধান উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
রোববার ভোরে বেলফাস্টের ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পোর্টাডাউনের গারভাঘি রোড এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষ হেঁটে সমাবেশ করেন। তারা অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিল ঠেকাতে পাল্টা প্রতিবাদে অংশ নেন।
এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল। এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, পুলিশ একটি গির্জা হলে অরেঞ্জ অর্ডারের সমাবেশ আটকে রাখে।
আইরিশ রিপাবলিকান দল সিন ফেইনের নেত্রী ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল গভীর রাতে দেওয়া আদালতের রায়ের নিন্দা জানান। ওই রায়ে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
ও’নিল বলেন, ‘আজ রাতে আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আগামীকালও নয়। কখনোই নয়।’
তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এই সাম্প্রদায়িক মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার গারভাঘি রোডের বাসিন্দাদের অধিকারকে’ তিনি সমর্থন করেন।
পাল্টা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে হাঁটার সময় সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হয়রানি থেকে মুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষায় বাসিন্দা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী রাস্তায় নেমেছে।’
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে শান্তি চুক্তির পর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত সংঘাতের অবসান ঘটে। এরপর থেকে ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এটি ছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মানুষের জীবন মৌলিকভাবে বদলে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা আর পেছনে ফিরছি না।’
মিছিলটি শেষ মুহূর্তের একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জও পার করেছে।
শনিবার বেলফাস্ট হাইকোর্টের এক বিচারক সাময়িকভাবে মিছিলটি বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ‘অতল গহ্বরের কিনারা থেকে সরে আসার’ আহ্বান জানান।
তবে মধ্যরাতের কিছুক্ষণ আগে তিন বিচারকের একটি আপিল আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেন। আদালত বলেন, হাইকোর্টের বিচারক আইনের ভুল ব্যাখ্যা করেছিলেন।
মূল আইনি চ্যালেঞ্জটি আবার হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে আপিল আদালতের রায়ের ফলে রোববার সকাল ৮টায় মিছিলটি শুরু করার আর কোনো বাধা থাকল না।
ব্রিটিশপন্থী ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির স্থানীয় এমপি কার্লা লকহার্ট আপিল আদালতের রায় বাতিলকে ‘ভূমিকম্পসম’ ঘটনা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাসিন্দাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘৩৫ জন মানুষ কোনো ব্যান্ড ছাড়াই নীরবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
মিছিলকারীরা যে গির্জায় যাতায়াত করেন, সেই গির্জার নাম অনুসারে এ সংঘাত ‘ড্রামক্রি বিরোধ’ নামে পরিচিত। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এটি বড় ধরণের উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
মিছিলটি জোর করে আয়োজনের চেষ্টা কিংবা তা ঠেকানোর উদ্যোগ বারবার গুরুতর বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে।
১৯৯৮ সালে প্যারেডস কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরই গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন নিয়ে তিন দশক ধরে চলা ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত সংঘাতের মূলত অবসান ঘটে।
ওই বছর কমিশন অরেঞ্জ অর্ডারকে নির্ধারিত পথের শেষ পর্যন্ত মিছিল করতে বাধা দেয়। এরপর থেকে সংগঠনটির পরবর্তী সব আবেদনও ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
আগস্টে বিষয়টি আবার সামনে আসে। সে সময় প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে হাইকোর্ট কমিশনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। তবে আদালত গারভাঘি রোড দিয়ে মিছিল করার অরেঞ্জ অর্ডারের অধিকার রয়েছে—এমন কোনো রায় দেননি।
এরপর অরেঞ্জ অর্ডার নতুন করে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সীমিত পরিসরে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
অরেঞ্জ অর্ডার একটি ব্রিটিশপন্থী সংগঠন। ১৬৮৯ সালে ক্যাথলিক রাজা দ্বিতীয় জেমসের কাছ থেকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের সিংহাসন দখল করা প্রোটেস্ট্যান্ট ডাচ রাজা উইলিয়াম অব অরেঞ্জের নাম অনুসারে সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ