রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৩ পি.এম
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি আটতলা বাড়ি দখল করার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দেখিয়ে এবং ভাঙচুর চালিয়ে হামলা করেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল ওই বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির মালিকের অভিযোগ, শ্যামলী হাউজিংয়ের তার আটতলা বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘দলবল নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বলে, টাকা দে। বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না?’ এই কথা বলতে বলতে বাসার মূল ফটকে কোপানো শুরু করে। জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বাসার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে খুলতে না পারায় ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।
বাড়িটির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।
গতকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জন লোক তাদের বাড়িটির সামনে আসেন। কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের একটু দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিই এই হামলার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেন দাবি করেন, ‘প্রথমে এসেই তারা বাড়ির মূল ফটকের গেট খুলতে বলেন। সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বের না হওয়ায় বাইরে থেকে বলা শুরু করেন, “টাকা দে! বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।” এই কথা বলতে বলতে চাপাতি, রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা, জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইটের টুকরা দিয়ে দুইতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মনির হোসেনের অভিযোগ, ভাঙচুর চলাকালে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। অথচ পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পরে পৌনে ১০টার দিকে এসে পৌঁছায়। পুলিশ ঠিক সময়ে এলে দুর্বৃত্তদের ধরা সম্ভব হতো। পরে এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তারা জানেন না।
মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা তদন্ত করে দেখছে। কোনো অগ্রগতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
আগেও দখল হয়েছিল বাড়িটি
মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটি দখল ফেরত পান তারা।
মনির হোসেন আরও বলেন, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্ত করে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে কী আছে তারা জানেন না। এর মধ্যে আবার হামলা চালানো হলো। তারা এখন কী করবেন, কার কাছে সাহায্য চাইবেন, বুঝতে পারছেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি শহরে বিতর্কিত ব্রিটিশপন্থী প্রোটেস্ট্যান্ট মিছিল ঠেকাতে রোববার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। মূলত ক্যাথলিক ও জাতীয়তাবাদী একটি এলাকার মধ্য দিয়ে ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো এই মিছিলটি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সব পক্ষকে ‘শান্ত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার ভোররাতে একটি আদালত অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাজ্যের পোর্টাডাউন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিতর্কিত শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীন সংস্থা প্যারেডস কমিশন ৩৫ জন অরেঞ্জম্যানকে রোববার সকাল ৮টা থেকে গারভাঘি রোড দিয়ে নীরবে মিছিল করার অনুমতি দিয়েছে। এই সময় কোনো ব্যান্ড বা সমর্থক উপস্থিত থাকবে না।
বার্নহাম সব পক্ষকে ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানান। বিবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘বড় ধরণের অগ্রগতি’ হয়েছে। ‘আমরা চাই না পরিস্থিতি আবার পেছনের দিকে ফিরে যাক।’
উত্তর আয়ারল্যান্ডে তিন দশক ধরে সংঘাত চলেছে, যা মূলত ক্যাথলিক ও আয়ারল্যান্ডপন্থী রিপাবলিকান এবং প্রোটেস্ট্যান্ট ও যুক্তরাজ্যপন্থী ইউনিয়নপন্থীদের মধ্যে ছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে গারভাঘি রোড এ সংঘাতের অন্যতম প্রধান উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
রোববার ভোরে বেলফাস্টের ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পোর্টাডাউনের গারভাঘি রোড এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষ হেঁটে সমাবেশ করেন। তারা অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিল ঠেকাতে পাল্টা প্রতিবাদে অংশ নেন।
এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল। এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, পুলিশ একটি গির্জা হলে অরেঞ্জ অর্ডারের সমাবেশ আটকে রাখে।
আইরিশ রিপাবলিকান দল সিন ফেইনের নেত্রী ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল গভীর রাতে দেওয়া আদালতের রায়ের নিন্দা জানান। ওই রায়ে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
ও’নিল বলেন, ‘আজ রাতে আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আগামীকালও নয়। কখনোই নয়।’
তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এই সাম্প্রদায়িক মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার গারভাঘি রোডের বাসিন্দাদের অধিকারকে’ তিনি সমর্থন করেন।
পাল্টা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে হাঁটার সময় সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হয়রানি থেকে মুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষায় বাসিন্দা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী রাস্তায় নেমেছে।’
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে শান্তি চুক্তির পর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত সংঘাতের অবসান ঘটে। এরপর থেকে ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এটি ছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মানুষের জীবন মৌলিকভাবে বদলে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা আর পেছনে ফিরছি না।’
মিছিলটি শেষ মুহূর্তের একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জও পার করেছে।
শনিবার বেলফাস্ট হাইকোর্টের এক বিচারক সাময়িকভাবে মিছিলটি বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ‘অতল গহ্বরের কিনারা থেকে সরে আসার’ আহ্বান জানান।
তবে মধ্যরাতের কিছুক্ষণ আগে তিন বিচারকের একটি আপিল আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেন। আদালত বলেন, হাইকোর্টের বিচারক আইনের ভুল ব্যাখ্যা করেছিলেন।
মূল আইনি চ্যালেঞ্জটি আবার হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে আপিল আদালতের রায়ের ফলে রোববার সকাল ৮টায় মিছিলটি শুরু করার আর কোনো বাধা থাকল না।
ব্রিটিশপন্থী ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির স্থানীয় এমপি কার্লা লকহার্ট আপিল আদালতের রায় বাতিলকে ‘ভূমিকম্পসম’ ঘটনা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাসিন্দাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘৩৫ জন মানুষ কোনো ব্যান্ড ছাড়াই নীরবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
মিছিলকারীরা যে গির্জায় যাতায়াত করেন, সেই গির্জার নাম অনুসারে এ সংঘাত ‘ড্রামক্রি বিরোধ’ নামে পরিচিত। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এটি বড় ধরণের উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
মিছিলটি জোর করে আয়োজনের চেষ্টা কিংবা তা ঠেকানোর উদ্যোগ বারবার গুরুতর বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে।
১৯৯৮ সালে প্যারেডস কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরই গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন নিয়ে তিন দশক ধরে চলা ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত সংঘাতের মূলত অবসান ঘটে।
ওই বছর কমিশন অরেঞ্জ অর্ডারকে নির্ধারিত পথের শেষ পর্যন্ত মিছিল করতে বাধা দেয়। এরপর থেকে সংগঠনটির পরবর্তী সব আবেদনও ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
আগস্টে বিষয়টি আবার সামনে আসে। সে সময় প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে হাইকোর্ট কমিশনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। তবে আদালত গারভাঘি রোড দিয়ে মিছিল করার অরেঞ্জ অর্ডারের অধিকার রয়েছে—এমন কোনো রায় দেননি।
এরপর অরেঞ্জ অর্ডার নতুন করে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সীমিত পরিসরে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
অরেঞ্জ অর্ডার একটি ব্রিটিশপন্থী সংগঠন। ১৬৮৯ সালে ক্যাথলিক রাজা দ্বিতীয় জেমসের কাছ থেকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের সিংহাসন দখল করা প্রোটেস্ট্যান্ট ডাচ রাজা উইলিয়াম অব অরেঞ্জের নাম অনুসারে সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের ৩১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট হেরিটেজ রিসার্চ ট্রাস্ট’ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
আজ রোববার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।
এ অনুষ্ঠানটি পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট হেরিটেজ রিসার্চ ট্রাস্ট যৌথভাবে আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুধু সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানে উন্নীত করা সম্ভব নয়। শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতিতে বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং অ্যালামনাইদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।’
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করে বড় আকারের ‘এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভাগীয় অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সবুজ বড়ুয়া ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরু বড়ুয়া।
প্রথম বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- মো. শামীম মিয়া, মোসা. সুমনা খাতুন, বিজয় কুমার, আজহারুল ইসলাম, জয় দাস, মিত্রা রায়, লিটন কুমার, আরিফ জাকির, রুখু খাতুন, মোছা. সুমনা খাতুন ঐশি, আব্দুল আলীম, মোছা. ফারিয়া ইসলাম রিমু, তাঞ্জুল ইসলাম স্বর্ণ, মোছা. সুরাইয়া, মোছা. খুশিকা কামরিন বাঁধন ও আসিফ আহমেদ।
দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- সৌমিত্র বড়ুয়া দিব্য, রিয়াদুল ইসলাম জিসান, মো. মুনতাসির নাছিফ ও মোছা. মোস্তারিনা আক্তার।
তৃতীয় বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- মুহাম্মদ জুনাইদ, সাব্বির রাহমেদ মেহেদী, আশিকুর রহমান, অনিরুদ্ধ রায়, অনিক দাস, তানহা ইসলাম তুনা, মিথী রানী ও ফাহিম আস সামি।
চতুর্থ বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- লক্ষী রানি ও রিয়াজ আহমেদ এবং মাস্টার্সের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হলেন মো. রাকিব ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীও রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোববার বিকালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, স্টুডিওর জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং স্থানীয় অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ ওই জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে অন্যদের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল, যা প্রতিপক্ষের লোকজনের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতের ঘটনার সময় দুই ট্রাকে করে একদল লোক ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন সালমান মুক্তাদির। রাত পৌনে ২টার দিকে স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারে এসে তিনি জানান, হামলায় স্টুডিওটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক ছিলেন এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, কোরআন মুখস্থ করা বা অন্তরে ধারণ করার বিষয় নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল কোরআনের বাস্তব প্রতিফলন। তাই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ করার পাশাপাশি ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও আমানতদারির চর্চা অপরিহার্য।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নুরানী এসোসিয়েশন রংপুর জোনের বদরগঞ্জ উপজেলাধীন ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, হাফেজ হওয়া বা মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়া মানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যেমন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই আলেমদের মসজিদ-মাদ্রাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না; দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি দেশ, সমাজ, অর্থনীতি, প্রশাসন ও সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব দিতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও দক্ষ হতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, প্রশাসকসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের যোগ্য করে তুলে দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে আলেম-ওলামা ও সৎ মানুষের অভাব নেই। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের বাস্তবতা বুঝতে হবে, মানুষের সমস্যা জানতে হবে এবং সেগুলো সমাধানে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সৎ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আলেমদের পারস্পরিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ছোটখাটো মতপার্থক্য নিয়ে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে। বিভেদ সৃষ্টি হলে অন্যরা এর সুযোগ নিতে পারে। তাই কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষা, নৈতিকতা, যোগ্যতা ও আমানতদারির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশ ও মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি জাকারিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, বদরগঞ্জ মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মঈনুদ্দীন তাওহীদ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ