ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির


নতুন দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। সে সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও অন্যান্য সব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের নিকট অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় নেওয়া রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আর নেই

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তার এ অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান ড. খলিলুর রহমান।

গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটে ড. খলিলুর রহমান সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে হারিয়ে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ সালে এ পদ পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ পদে দায়িত্ব পাওয়া এক বিশাল গৌরবের।

আরও পড়ুন: ২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ভুয়া, সতর্কতা জারি

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। শামা ওবায়েদ ইসলামও পদে বহাল থাকেন।

২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনিবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করবেন। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে থাকাকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম, জরুরি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয়েও অতিরিক্ত ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখবেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।

আরও পড়ুন: তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যা দুর্গতদের কোটি টাকা অনুদান দিলেন কে-পপ তারকা লি নো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


নেপালের বন্যা দুর্গতদের কোটি টাকা অনুদান দিলেন কে-পপ তারকা লি নো

বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের প্রিয় কণ্ঠ তিনি। কনসার্টের মঞ্চে যেমন সুরে সুরে মুগ্ধতা ছড়ান, তেমনি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেও পিছপা হন না। জনপ্রিয় দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড ‘স্ট্রেই কিডস’-এর তারকা গায়ক লি নো এবার নেপালের ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্ব হারানো দুর্গত মানুষের জন্য বাড়ালেন মানবিকতার হাত।

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের দুর্গত পরিবার ও শিশুদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন’-এর মাধ্যমে ১০ কোটি দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (বাংলাদেশি টাকায় ৯০ লাখ) অনুদান দিয়েছেন লি নো। তার এজেন্সি জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বার্তায় এই কে-পপ তারকা জানান, তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস কঠিন সময়ে দুর্গতদের কিছুটা হলেও মানসিক শক্তি জোগাবে। এই অর্থ মূলত দুর্গতদের জরুরি খাবার, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও অস্থায়ী আশ্রয় তৈরিতে ব্যয় হবে।

দাতব্য কাজে লি নো-র যুক্ত থাকা নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত শিশুদের সহায়তার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবিলা, চিকিৎসাসেবা ও প্রাণী কল্যাণেও তিনি একাধিকবার বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন।

বর্তমানে বিশ্বভ্রমণ ও সংগীতচর্চায় দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সম্প্রতি তার দল ‘স্ট্রেই কিডস’-এর নতুন অ্যালবাম বিলবোর্ড ২০০ তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। তবে সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব মাতানোর মাঝেও আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে নতুন করে ভক্তদের হৃদয় জয় করলেন এই তরুণ তারকা।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ বছরের সাব্বিরের জীবন বাঁচাতে দুয়ারে দুয়ারে কাঁদছেন মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


১৬ বছরের সাব্বিরের জীবন বাঁচাতে দুয়ারে দুয়ারে কাঁদছেন মা

সাব্বির হোসেনের বয়স মাত্র ১৬ বছর। যেখানে সহপাঠীদের সঙ্গে বই-খাতা হাতে স্বপ্নের ডানা মেলার কথা, সেখানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিয়তির কঠিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি। জীবন ও মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণকে বাঁচানো সম্ভব, যদি দ্রুত তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়। চিকিৎসকরা আশাবাদী, বলেছেন, সঠিক সময়ে কেমোথেরাপি পেলে সাব্বির নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সব চেষ্টা থমকে গেছে; স্বজনদের নীরব হাহাকার এখন আশার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে।

সাব্বির ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামের হতদরিদ্র আলমসাধু চালক সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি হরিণাকুন্ডু লাল মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের ৯০১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বেডে বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্প্রতি পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি মরণব্যাধি একিউট লিউকেমিয়া (এএমএল) বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত।

চিকিৎসকদের মতে, সাব্বিরের বয়স কম হওয়ায় নিয়মিত কেমোথেরাপি দেওয়া হলে তিনি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। তবে ক্যানসারের সুচিকিৎসার খবর পরিবারটির জন্য আনন্দের হলেও, চিকিৎসার ব্যয়ভার তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া একজন বাবার পক্ষে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের খরচ বহন করা একেবারেই অসম্ভব। ধারদেনা করে প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু টাকা জোগাড় করা গেলেও, মূল কেমোথেরাপি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু করার মতো কোনো সঙ্গতি পরিবারের নেই।

ছেলের এই ক্রমশ ক্ষয়ে যাওয়া দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মমতাময়ী মা মিতা খাতুন। তিনি সন্তানকে বাঁচানোর আকুল আকুতি নিয়ে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে, সাব্বিরের দুই বোন খাদিজা ও হাজেরা এবং বড় ভাই মিথুন বাড়িতে দিন-রাত চোখের পানি ফেলছেন। ভাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে এই একটিমাত্র আশায় দিন কাটছে তাদের।

একটি সম্ভাবনাময় উদীয়মান জীবনকে অকালে ঝরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং এই অসহায় পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে সমাজের দানশীল, হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রবাসী ভাইদের প্রতি করুণ আকুতি জানিয়েছেন অসুস্থ সাব্বিরের মা। আপনার বা আমাদের সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা ১৬ বছরের তরুণ সাব্বিরকে আবার নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে। সাহায্য ও যোগাযোগের ঠিকানা: রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ও সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ করুন: মোবাইল / বিকাশ: ০১৭১১-২০৪৮০৪ (রোগীর পরিবার)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করলেন বিভাগীয় কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করলেন বিভাগীয় কমিশনার

 

নড়াইলের লোহাগড়ায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অফিসিয়াল কাজের অগ্রগতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা প্রশাসক ডঃ মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।

সভায় প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ও সরকারি প্রকল্পগুলি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। কাজের মান, সেবার মান বাড়াতে হবে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"

মতবিনিময় সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনমুন সাহা, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোঃ জসিম, উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাসুম খান, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আলী আকবর, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুশান্ত কুমার মজুমদার, আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসাইন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিনা খাতুন সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ রোপন করেন এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফেরত আনা ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফেরত আনা ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবি

 

খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা জানিয়েছেন, যারা এখনও গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসেননি, তাদেরকে অবিলম্বে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং তাদের পরিবারকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত না থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবারকে এই বিষয়টি জানাতে হবে। এই বিষয়ে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গুমের সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসবে। বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ এর ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে একটি বিতর্কহীন এবং সুন্দর আইন প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এবং অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে একজন জেলে ও মোটরসাইকেল রাইডারকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় যে, এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মিরাজকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশে গুমের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। বক্তারা গুমের সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে আরও জানানো হয়, গত ৩ অগাস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছিল। গত ২৭ অগাস্ট এই খসড়া আইনের কিছু পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। এই আইনের ১৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী পরিচালনা করতে পারবে না এবং এই ক্ষেত্রে সরকার উক্ত অভিযোগের তদন্তভার অভিযুক্ত বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাহিনী বা আন্ত:বাহিনীর তদন্ত দলের কাছে অর্পণ করতে পারবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ পুলিশসহ যেকোনো শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক গুমের তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হবে।

অন্যদিকে, এই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারীর ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে এটি বিচারহীনতার পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে গুমের অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত করবে।

সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মানববন্ধনকালীন সমাবেশে বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জি এম রাসেল ইসলাম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো ইমরান হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হান্নান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক বাপ্পি খাঁন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রায়হান মোল্লা, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মুজাহিদুর রহমান, মিশারুল ইসলাম মনির, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্নিগ্ধা সুলতানা মুন্নি, নাবা আক্তার শারমিন, গালিব হাসান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%