ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী


উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্মেলন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে হবে। ৫ শতাধিক ইউএনও সরাসরি সরকারের প্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউএনওদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন আরও উজ্জীবিত হবে, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে, উপজেলা উন্নয়নে সব ধরনের বাধা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নানা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউএনওদের নিয়ে এ সম্মেলন এক দিনের হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজনের রেওয়াজ রয়েছে। ডিসিরা মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের সামনে তুলে ধরেন। একইভাবে ইউএনওরা যদি সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি সরকারের জন্য জানা সহজ হবে। এ কারণে ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সারা দেশের ইউএনওদের নিয়ে এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রতি বছর ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন। ওই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবা প্রদানে ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: মামুনুল হকের হাতে ‘উত্তরাধিকার’ সংখ্যা তুলে দিল ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর ডিসি সম্মেলনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্মেলন আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইউএনও সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি হবে এমন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ভেন্যু এখনও ঠিক হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ওসমানী উদ্যান বিবেচনায় রয়েছে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ অগ্রাধিকার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। গ্রামগঞ্জে যারা প্রবাসে আছেন, তারা যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, এজন্য প্রবাসী কার্ড নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে। শুধু নামমাত্র গাছ লাগিয়ে দায় শেষ করা নয়, বরং বৃক্ষরোপণ যেন সত্যিকারভাবে উপকারে আসে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। সরকারের খাল খনন সংক্রান্ত বাধা ও কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কার্যাবলির সমন্বয়, সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের কাছ থেকে এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নানা বিষয়ে শুনতে পারবেন। ইউএনওদের সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার ফলে প্রান্তিক উন্নয়ন, সমস্যা বা এলাকার রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকলেও সেটি তুলে ধরার সুযোগ থাকবে ইউএনওদের।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সম্মেলনে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারীসহ আটক ১২

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, "এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন। কাজেও গতি আসে। মাঠের সমস্যা সরাসরি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীও লিখিত তথ্যের চেয়ে বিষয়গুলো সরাসরি শুনতে পারেন।"

তিনি আরও বলেন, "এরশাদ শাসনামলে এটি হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে নিয়ে একত্রে নয়, বিভাগ অনুযায়ী। আমি মনে করি, সব ইউএনওকে নিয়ে আলোচনা করলে জনসভার মতো হতে পারে, সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটা কয়েকটা জেলা বা বিভাগওয়ারি হলে আরো কার্যকর হবে। সরকারপ্রধান এবং ইউএনওদের যোগাযোগ কার্যকর হবে বেশি।"

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও পড়ুন: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮।

ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ প্রদান করা হলো—

জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৪৭ মিনিটে।

আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৩টা ৫০ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৫টা ৩১ মিনিটে।

এশার নামাজ শুরু হবে ৬টা ৪৫ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪৭ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে ৫টা ৩১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৫টা ৫৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন একটি ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সকালে স্কুলশিক্ষার্থী, রিকশাওয়ালা এবং চাকরিজীবীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে ঘুণ্টিঘর এলাকায়। রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুণ্টিঘর হয়ে ওঠে আরও জমজমাট। তবে ঢাকায় মাদক কারবারের জন্য এটি একমাত্র হটস্পট নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘুণ্টিঘরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি মাদকের হটস্পট রয়েছে। যেখানে প্রশাসনের চোখের সামনেই গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ নিত্যনতুন মাদক বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কিছু স্থানে ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো ভয়ংকর মাদকদ্রব্যও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিরাপদে সেবন করার জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার চক্রও রয়েছে।

গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর প্রকাশ্যে আসার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ঢাকা শহরে মাদকের কোনো হটস্পটের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে অস্ত্র ও জনবল সংকটের কারণে একক অভিযানে ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা নিজেদের জন্য হুমকি বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। তারা নতুন কৌশলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনোভাবে মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে চান। অন্যদিকে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। ডিএমপির ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় ৩ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির তালিকা করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ অভিযানের কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও ৩ শতাধিক কারবারি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও পার্শ্ববর্তী মুন্সিরটেক ছাড়াও রাজধানীজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি হটস্পট রয়েছে। যেখানে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে প্রতিবাদ করেন না। কারণ প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর হামলা করে বসে কারবারিরা। এমনকি গুলি করতেও দ্বিধা করে না তারা। ঘুণ্টিঘরের মতো অন্যান্য স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে সবুজবাগের ওহাব কলোনি, কড়াইল বস্তি, পল্লবীর জেনেভা ক্যাম্প, শাহআলী মাজার, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, ভাটারা বালুর মাঠ, কারওয়ান বাজার থেকে নাখালপাড়া রেললাইন, হাজারীবাগের গণকটুলি সিটি কলোনি, উত্তরা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশ এলাকা, কোতোয়ালি সুইপার কলোনি, স্বামীবাগ রেললাইন, লালবাগের শহীদনগরের ৪ ও ৫ নম্বর গলি, ডেমরা সারুলিয়া নদীরপাড়, শ্যামপুর আইজি গেট বস্তি, কদমতলীর ওয়াসা রেলগেট, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও কাফরুল কাঁঠাল মাঠ এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ানবাজার-নাখালপাড়া রেললাইন এলাকা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের হটস্পট হিসেবে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর এফডিসি রেলগেটের কাছে তিন কিশোরকে দেখা যায়, যারা কাগজে মোড়া গাঁজার পুঁটলি পলিথিনে ভরে ছোটাছুটি করছে। তারা যাতায়াতকারী লোকদের বলছে ১০০ না ২০০। লাগবে নাকি সিদ্ধি? অনেকেই তাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছে। শুধু রেলগেট নয়, এফডিসি রেলগেট থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত মাদকের বাজার। এই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা হাঁক দেন। ক্রেতারা টাকা হাতে দাঁড়ালে তারা গাঁজা, ইয়াবা বের করে দেন। কেউ কেউ রেললাইনের পাথরের নিচে মাদক লুকিয়ে রাখেন। গ্রাহক এলে বের করে বিক্রি করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে কিছুটা দূরে গিয়ে নতুন ক্রেতা খুঁজতে থাকেন।

রাজধানীর অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। এখানে কয়েকজন শীর্ষ কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মাদকের কারবার একদিনের জন্যও থামানো যায়নি। ক্যাম্পের মুরগিপট্টি, বাবর রোড, আল ফালাহ মডেল ক্লিনিক গলি, হুমায়ুন রোডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন হয়ে থাকে। ক্যাম্প এলাকায় ঢুকলেই নারী-শিশুদের হাতে ইয়াবা ও হেরোইন দেখা যায়। অপরিচিত কেউ ক্যাম্প এলাকায় প্রবেশ করলে নজরদারিও করেন কারবারি চক্রের সদস্যরা। পল্লবীর এডিসি ক্যাম্প, কেটিসি ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, মাদরাসা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প, কনসাল ক্যাম্প, থার্টিনাস ক্যাম্প, কালাপানি বস্তি, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, মুড়াপাড়া ক্যাম্প, এমসিসি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, শাহপরান ক্যাম্পও মাদকের অন্যতম হাব। ফোর স্টার গ্রুপের ছত্রছায়ায় কারবারিরা এসব ক্যাম্পে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পল্লবীতে মাদকের কলকাঠি নাড়ছে রাজিয়া বেগম, ফতেহ, লাভলী বেগম, নাদিম, জুম্মন, হালিমা, সাহাজামান, বট রনি, আফসানা, রুমা, রজনী আক্তার ও শাহিনুর বেগম। মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে গলাকাটা মনু, চোর জানু ওরফে জানে আলম, সারফু আরমান, তাজ, আনোয়ার হোসেন কাল্লু, চাপাই আরিফ, সিডি স্বপন। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে রহিমা, মনিরুল হক রবিন, মিনু, স্বামীবাগ রেললাইনে আমির হোসেন, কড়াইল বস্তির মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে জিল্লুর রহমান, এরশাদ মিয়া, টোকাই আনোয়ার, লিটন, বরিশাইল্লা নাসির, মিজানুর রহমান, আইলশা মনির, ঘাড় কাটা বাবুল ও রনি। সবুজবাগ ওহাব কলোনির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে ফর্মা বাবুল, মো. শামীম, আশিকুর রহমান শান্ত, সুফিয়া ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি নিয়ন্ত্রণ করছে হারিছ মিয়া, সজল হোসেন, শাওন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন, মানিক ও কানা সোহেল।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, রাজধানীতে মাদকের হটস্পটগুলোর নতুন তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জোরদার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ডিএমপি সব সময় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর থেকে গত ৬ মাসে ৫ শতাধিক মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবুও এখানে মাদকের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই ঘুণ্টিঘরসহ ঢাকায় এরকম যতগুলো হটস্পট রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির অস্তিত্ব রাখা হবে না।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটে ডিএনসির একার পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকি। তাই অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঘুণ্টিঘরের পর ওহাব কলোনিতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভাটারা বালুর মাঠেও অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আপাতত মাদক কারবার বন্ধ রয়েছে জানার পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের ডিডি মো. রাজিউর রহমান বলেছেন, কড়াইল বস্তি থেকে আট শীর্ষ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো শীর্ষ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের পরবর্তী টার্গেট মিরপুর এলাকা। এরপর ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএমের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির জবাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


পিএমের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির জবাব

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আমার দেশ-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব হিসেবে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে, সংস্থাটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং আওয়ামী সিন্ডিকেটের মালিকানার মূল অভিযোগগুলো এড়িয়ে গেছে।

পাঁচ সপ্তাহ পর পাঠানো প্রতিবেদনে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার বৈধতা ও কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে দীর্ঘ সাফাই গাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেবা চালু করতে না পারায় নতুন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর আমার দেশ-এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে পৃথক পৃথক লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন কোম্পানি সামিট, সিডিনেট ও মেটাকোর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ ছিল যে, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। আবেদনের সময়সীমা দুই দফা বাড়িয়ে ১০ মে ২০২২ পর্যন্ত করা হয় যাতে সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।

মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মূল্যায়নে শীর্ষস্থান অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠান হলো, সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (৯২.৪৬ নম্বর), সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (৮৭.৬৪ নম্বর), মেটাকোর সাবকম লিমিটেড (৮৬.৪৮ নম্বর)।

পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদনক্রমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই তিন প্রতিষ্ঠানকে পৃথক তিনটি লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসি দাবি করেছে, সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এবং কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

কনসোর্টিয়াম গঠন ও আইনি ব্যাখ্যার বিতর্ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একক কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার পরিবর্তে তিনটি স্বতন্ত্র ক্যাবল স্থাপন করতে গেলে তিন গুণের বেশি ব্যয় হতো। এই উচ্চ ব্যয় এড়াতে তারা যৌথভাবে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার আন্ডারওয়াটার ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।

গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ট্রাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে কমিশনে তথ্য দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও পূর্বানুমোদন নেওয়ার কোনো আইনি বাধা বা বাধ্যবাধকতা নেই বলে প্রতিবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে গাইডলাইনের নির্ধারিত ক্যাপাসিটির তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ারে উচ্চতর ক্যাপাসিটি (১৫.২ টিবিপিএস) অর্জিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় কেবল পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে সেবা চালুতে ব্যর্থতা

গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার পর ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।

অথচ বিটিআরসির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কোনো অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকায় নির্ধারিত রোল-আউট সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের ৩১০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি

প্রতিবেদনে প্রক্রিয়াগত বৈধতা ও নিয়মনীতির দীর্ঘ বর্ণনা থাকলেও আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত মূল প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থেকে গেছে।

২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনের আওয়ামী সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশ সম্পর্কিত অভিযোগগুলো প্রতিবেদনে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে পলাতক সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানি সিডিনেট প্রতিষ্ঠাই করা হয় লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর অথচ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায় কিন্তু বাদ পড়ে ফাইবার এট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বিটিআরসি।

এছাড়া কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে প্রদান করা হয়েছে ভুল ব্যাখ্যা। লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে সুস্পষ্টভাবে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা আছে এবং আবেদনকালেই কনসোর্টিয়াম হিসেবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর ন্যূনতম দুই ফাইবার পেয়ার থাকার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, কোনোভাবেই ক্যাপাসিটির সঙ্গে সমতুল্য নয়, এ ধরনের তুলনা করতে প্রয়োজন হবে লাইসেন্সিং গাইডলাইনের সংশোধন। তাছাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিকে সংযোগ অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হিসেবে গাইডলাইনে উল্লেখ করা থাকলেও ভবিষ্যতে তা বিস্তার করা হবে বলে বর্তমান অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তাছাড়া, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করেই রোল-আউটের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়াকে খাত সংশ্লিষ্টরা বিটিআরসির দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী সিন্ডিকেটের প্রভাব, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক নির্দেশনায় লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্সিং গাইডলাইনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি ছাড়াই সরকার প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে দেবে?

রাজনৈতিক নির্দেশনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রতিবেদনে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি, আর নির্দেশনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যৌথ আবেদনের বদলে পরবর্তী সময়ে একক কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি কী—এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩ পর্যটকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩ পর্যটকের

মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে একটি বড় ট্রাকের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। হতাহতদের মধ্যে দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক আল-আহরাম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ১৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ মহাসড়ক থেকে বাস ও ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছে। একটি ক্রেনের সাহায্যে বড় বাসটিকে সরানো হয়েছে; সংঘর্ষের পর বাসটির সামনের পুরো অংশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ইস্পাত ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিল। রাস্তার পাশে যাত্রীদের আসনগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং ট্রাকটির পেছনের অংশে বাসের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছিল।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আহতদের গিজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা বিরল নয়। প্রায়ই বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে সিনাই অঞ্চলে একটি বাস দুর্ঘটনায় ১০ জর্ডানি পর্যটকসহ মোট ২২ জন নিহত হন। তার আগের মাস আগস্টে উত্তর মিশরে কৃষি শ্রমিক বহনকারী দুটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছিল।

সূত্র: আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%