বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২১ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চটি হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেব না।"
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, "সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।"
মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, ১১ দলীয় এই কর্মসূচিতে কেউ যদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, "কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?"
রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অপোজিশন সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায় করে, প্রতিবাদ করে। কিন্তু ৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।"
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সেই নজিরও গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া মেজরিটির জোরে তারা সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা খর্ব করে দিয়েছে।"
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, "আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।"
তিনি বলেন, "আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কুরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?"
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।"
তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।
লংমার্চের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে প্রথম পথসভা হবে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায়। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে। এরপর লংমার্চ যাবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময়ের দিকে পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি। এরপর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যারা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।"
লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।"
এ জন্য প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে জোটের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ বা অ্যাসোসিয়েট মেম্বার করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তবে এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইইউ-কানাডা চুক্তিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করলে ইউরোপের ওপর ভারী শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার ফ্রান্সে একটি ভাষণে উরসুলা ভন ডার লিয়েন উল্লেখ করেন, বদলে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক জোটগুলোর সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে পাশে রেখে তিনি এই প্রস্তাব দেন। কার্নি এই উদ্যোগকে একটি ‘অনন্য জোট’ হিসেবে বর্ণনা করে ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প পূর্বে একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর প্রস্তাব দিলে কার্নি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ভৌগোলিক সীমানার কারণে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা ইইউর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে পারবে না। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্যকে জোরদার করবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করবে, এবং সমরাস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিতে একযোগে কাজ করবে। পাশাপাশি, ইউরোপের জ্বালানি ও জরুরি খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণে কানাডা গ্যাস ও ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। কানাডিয়ানদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত বসবাসের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
নতুন এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জোটের খবর প্রকাশিত হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘হাস্যকর’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আরও কঠোর শুল্ক চাপানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট সাড়া না মেলায়, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এখন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
তবে, মায়াবতী এবং ওয়েইসির মধ্যে জোট চূড়ান্ত হয়েছে এমন কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মায়াবতী জানিয়ে ছিলেন যে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিএসপি একাই লড়বে।
অন্যদিকে, ওয়েইসি গত কয়েক মাস ধরে বিজেপিকে ঠেকাতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। ওয়েইসির বক্তব্যে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, তার দল উত্তরপ্রদেশে আবার বিজেপি সরকার দেখতে চায় না। তিনি জোট নিয়ে আলোচনা করতে এখনই উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছেন, কারণ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে আলোচনা করার কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে, তিনি সমাজবাদী পার্টির উদ্দেশে বলেছেন, যদি এআইএমআইএম ভোটে লড়লে তাদের ক্ষতি হয় বলে মনে করা হয়, তাহলে সেই ক্ষতি এড়াতে একসঙ্গে লড়াই করা উচিত।
কিন্তু সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এখনও সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই বিএসপির দিকে ওয়েইসির নজর নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত জুলাই মাসেও ওয়েইসি অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী উভয়ের কাছেই জোটের প্রস্তাব রেখেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলিত ও মুসলিম ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, বিএসপি এবং এআইএমআইএম যদি কোনোভাবে সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে নির্বাচনি ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া স্বাভাবিক।
এআইএমআইএম ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। জুনে দলটি প্রায় দুইশ আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল এবং একই সঙ্গে জোটের দরজাও খোলা রাখার কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, বিএসপি এখন কঠিন রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মায়াবতী তার ভাইয়ের ছেলে আকাশ আনন্দকে দলের সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত বিএসপির সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, ওয়েইসি যদি মায়াবতীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন, তাহলে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের সমীকরণের বাইরে আরেকটি রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হতে পারে।
তবে, সেই সমীকরণ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আসন সমঝোতা, ভোটের স্থানান্তর এবং স্থানীয় সংগঠনের শক্তির ওপর।
এদিকে, বিরোধী ভোটের বিভাজন নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। আবার বিজেপির নেতারাও ওয়েইসির সম্ভাব্য জোটকে রাজনৈতিক আক্রমণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন।
ফলে, ওয়েইসি এবং মায়াবতীর সম্ভাব্য সমঝোতা শুধুমাত্র দুই দলের ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, বরং উত্তরপ্রদেশের সামগ্রিক নির্বাচনি সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন শাখার ডিসি আখতার হোসেন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
আখতার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, "প্রশাসনিক কারণে রাকিবুল ইসলামকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের সিআরও শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।"
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ওসি রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার পর ডিএমপি ওসি রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানায়। তবে ভাইরাল অডিওটির বিষয়ে এখনও ওসি রাকিবুলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অডিও রেকর্ডটিতে বর্তমান সরকার ও পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে নানা নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন রুলির (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। ছিনতাইকারীর ব্যাগ ধরে হেঁচকা টান দেওয়ার ফলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত খোকন ও রাজিব আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামি খোকন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে এবং রাজিব ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাদের জবানবন্দি শেষে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
আজ শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার পুলিশ তাদেরকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর তারা স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন, যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেকর্ড করা হয়।
গত ২৯ আগস্ট রাতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন তার স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। এদিন ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে রিকশায় করে স্বামীর সঙ্গে রনজিনা ফার্মগেটের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে আসতেই একটি মোটরসাইকেলে এসে রিকশার পেছন থেকে রনজিনার ব্যাগ ধরে হেঁচকা টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এই ঘটনায় তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে রনজিনাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৪/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ