০৮:২৭ পি.এম
বরিশালে গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা চালানোর জন্য ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা ঘটেছে পুলিশী নির্যাতনে গ্রেফতার হওয়া আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার পর। হামলার ফলে ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেছেন, হামলার পর থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ‘ড. রাফি-বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও চারা বিতরণ
তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় অংশগ্রহণকারী অন্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের কাছে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুল্লশী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকেলে কয়েক শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে: শিমুল বিশ্বাস
এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশের ছয়জন সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানও আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেছেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে এবং এ মারধরের কারণে রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মৃত্যুর খবরটি গুজব বলে দাবি করেছেন থানার ওসি এবং তিনি জানিয়েছেন রিয়াজ নিজেই থানার হাজতের দেয়ালে মাথায় আঘাত করে আহত হয়েছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ আছেন।
আরও পড়ুন: রৌমারীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জন নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন