ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে ট্রেইনি এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার নিচ্ছে


ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে ট্রেইনি এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার নিচ্ছে

দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বিমান রক্ষণাবেক্ষণ খাতে পেশাগত ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য একটি চমৎকার নিয়োগের সুযোগ প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটি 'ট্রেইনি এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার' (TAME) পদে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

আবেদনকারীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ (GPA) কমপক্ষে ৪.৫০ থাকতে হবে। এছাড়া ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও রসায়ন-এই চারটি বিষয়ে প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: আজ শেষ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া

জিসিই (O/A Level) পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও রসায়নে ন্যূনতম 'বি' (B) গ্রেড থাকতে হবে। এছাড়া, প্রকৌশল স্নাতক (B.Sc. in Engineering) ডিগ্রিধারীরাও এই পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন, যদি তারা উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করেন।

আবেদনের সময়সীমা

আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিমান রক্ষণাবেক্ষণ পেশায় নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে ইচ্ছুক প্রার্থীরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এই বিশেষ নিয়োগ সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: ইউনাইটেড ফাইন্যান্সে ১০-১২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বি-স্ট্রং প্রকল্পে কেনাকাটা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


বি-স্ট্রং প্রকল্পে কেনাকাটা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের (বি-স্ট্রং) আওতায় কেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় অধিক দামে পণ্য ক্রয়, ভুয়া বিল তৈরি, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়োগে অনিয়মের মতো বিষয়গুলো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

এ সকল অনিয়ম ও তহবিল তছরুপের অভিযোগের ফলে ভেতরে অসন্তোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে গণমাধ্যমে নাম প্রকাশে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পিডি প্রকল্পের কেনাকাটা, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল-ভাউচার প্রস্তুত, সরকারি গাড়ির ব্যবহার এবং অফিসের সুযোগ-সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কারো আপত্তি তিনি আমলে নিচ্ছেন না। প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু দালিলিক প্রমাণ পর্যালোচনা করেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কেনাকাটা ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয়, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনদের প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে পণ্য ও সরঞ্জাম কেনার অভিযোগও রয়েছে। নিরপেক্ষ ঠিকাদার কাজ পেলেও কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা কিংবা দরপত্র কার্যক্রম স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট টেন্ডারের নথি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং পরিশোধের কাগজপত্র যাচাই করলে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

বেশি দামে কেনার অভিযোগ

প্রকল্পের আওতায় এসি, আসবাব, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের সঙ্গে ক্রয়মূল্যের বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে পণ্য কেনার অভিযোগও রয়েছে।

দেখা গেছে, একই ধরনের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত বাজারমূল্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। নিয়মিত কেনাকাটার বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় নানা অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

পিডির কার্যালয় যেন আবাসিক কক্ষ

বি-স্ট্রং প্রকল্প কার্যালয়ের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারবাড়িতে অবস্থিত প্রকল্প কার্যালয়ে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বৈদ্যুতিক চুলা ও পানি গরমের জন্য ওয়াটার হিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের অর্থে অফিসের বাথরুম সংস্কার করে উন্নতমানের ঝরনা স্থাপনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়া এবং গোসলসহ দৈনন্দিন নানা কার্যক্রম চলে পিডির অফিস কক্ষে। ফলে পিডির কার্যালয়টি কার্যত একটি আবাসিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সিসিটিভি ফুটেজ, বিদ্যুৎ বিল এবং অফিস ব্যবহারের নথি পরীক্ষা করার জোরালো দাবি উঠেছে।

সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার

প্রকল্পের তিনটি মাইক্রোবাসের মধ্যে একটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও অন্যগুলো প্রকল্প পরিচালকের স্বামী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গাড়ির লগবুকে দাপ্তরিক সফরের তথ্য থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিগত কাজে সেগুলো ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি কোনো কোনো মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি ভ্রমণ ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি বিল তৈরি এবং তা অনুমোদনে চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সংশ্লিষ্ট সময়ের ভ্রমণসূচি, অফিস আদেশ, গাড়ির লগবুক ও জ্বালানি বিল যাচাই করলেই এর সত্যতা মিলবে।

নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ

প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল ও গ্রহণের সনদ মাঠপর্যায়ে যাচাই করা জরুরি।

শ্রমিকের বেতন ও পরামর্শক নিয়োগে অনিয়ম

প্রকল্পের অনিয়মিত শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আগা আজাহারুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক মূল্যায়নে নির্ধারিত নম্বরের ভিত্তিতে পিছিয়ে থাকলেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার পিডির

অভিযোগের বিষয়ে বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন আমার দেশকে বলেন, "আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি অফিসটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে কাজ করি না। প্রকল্প কীভাবে ভালোভাবে চলবে, সেদিকেই সবার ধ্যান-জ্ঞান।"

ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার ভালো দক্ষতা রয়েছে। তাই অনিয়ম করার সুযোগ নেই। দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো ঠিকাদারকে আমি চেনেনা। প্রকল্পের কোনো কিছুই আমি ব্যক্তিগতভাবে বা পরিবারের সুবিধার জন্য ব্যবহার করি না।"

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

প্রকল্পের কেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার, গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার, ভ্রমণ ভাতা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, গত কয়েক বছরের দরপত্রের নথি, ক্রয়াদেশ, অর্থ পরিশোধের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, গাড়ির লগবুক ও মাঠপর্যায়ের সরবরাহের তথ্য নিরীক্ষা করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান আমার দেশকে বলেন, "প্রত্যেকটি প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অসংগতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, তিন বছর মেয়াদি বি-স্ট্রং প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অংশে প্রকল্পটির বরাদ্দ ১৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর অগ্রগতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতির চেয়ে কম বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডুমসডে গ্লেসিয়ার দ্রুত গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


ডুমসডে গ্লেসিয়ার দ্রুত গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা

অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ, যা ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ নামে পরিচিত, বিজ্ঞানীদের পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় দ্রুত গলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ এই হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পূর্বের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

নতুন মডেলের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই হিমবাহের গলনের ফলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন।

পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত থোয়াইটস হিমবাহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত হিমবাহ হিসেবে পরিচিত। এটি কয়েক দশক ধরে গলছে এবং পেছাচ্ছে। এর গলনের ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রায় ৪ শতাংশ অবদান রয়েছে। যদি হিমবাহটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে, তবে এর বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুই ফুটের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে ঝুঁকি শুধু এই হিমবাহের বরফ গলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। থোয়াইটস অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরকে আটকে রাখার ভূমিকা পালন করে। এটি ভেঙে পড়লে এর পেছনে থাকা বরফ দ্রুত সমুদ্রে প্রবাহিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে ফিলিপিন্সের ম্যানিলা পর্যন্ত বহু উপকূলীয় এলাকা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন এবং নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষকরা হিমবাহের গলন ও বরফস্তরের পরিবর্তন বোঝার জন্য নতুন একটি মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলে হিমবাহের নিচে সমুদ্রের পানির চলাচল এবং এর ফলে বরফ গলার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি সোমবার নেচার কমিউনিকেশন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

হিমবাহের যে অংশ সমুদ্রতল ছেড়ে উঠে ভাসমান বরফস্তরে পরিণত হয়, তাকে গ্রাউন্ডিং লাইন বলা হয়। উপগ্রহের তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এ অঞ্চলের নিচে কখনো কখনো কয়েক মাইলজুড়ে বিস্তৃত একটি এলাকা থাকে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সমুদ্রের পানি সেখানে ঢোকে ও বেরিয়ে যায়। এতে বরফস্তর ওঠানামা করে এবং তুলনামূলক উষ্ণ পানি হিমবাহের নিচে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই প্রক্রিয়ায় বরফ দ্রুত গলে।

নতুন মডেলে এই প্রক্রিয়াটি যুক্ত করার ফলে হিমবাহটির সম্ভাব্য গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হিসাব আগের চেয়ে বেশি এসেছে। গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা আর না বাড়লেও ২১০০ সাল নাগাদ থোয়াইটস হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি আগের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।

হিমবাহের নিচের ভূমি সমুদ্রের দিকে ক্রমে ঢালু হয়ে নেমেছে। ফলে বরফ গলে গেলে উষ্ণ পানির সংস্পর্শে আরো বেশি বরফ আসবে, যা গলনের গতি বাড়াতে পারে। সমুদ্রতলের দুটি উঁচু শৈলশিরা বর্তমানে হিমবাহটিকে আটকে রেখেছে। কিন্তু বরফ গলার কারণে এই বাধা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গবেষকদের হিসাবে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ হিমবাহটি মুজিনো রিজ নামের একটি শৈলশিরা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ঢালু সমুদ্রতল ধরে হিমবাহটি দ্রুত পেছাতে পারে এবং পরবর্তী বড় শৈলশিরায় গিয়ে থামতে পারে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের অধ্যাপক এরিক রিগনো বলেন, নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বন্যার ঝুঁকি ও মানুষের বিপদের আশঙ্কা আগের ধারণার চেয়ে বেশি।

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন বিজ্ঞানী টেড স্ক্যাম্বোসের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস তৈরিতে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো গবেষণা দরকার। বিশেষ করে হিমবাহের নিচের অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।

ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের সামুদ্রিক ভূ-পদার্থবিদ রবার্ট লার্টারও বলেছেন, হিমবাহের নিচের গ্রাউন্ডিং অঞ্চলে কীভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাজ করে, তা আরো ভালোভাবে জানতে হবে। তার মতে, গবেষণাপত্রে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে থোয়াইটস হিমবাহের নিচের পরিবেশ তার চেয়ে বেশি জটিল।

এ বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে বিজ্ঞানীরা ২০২৮ সালে হিমবাহের গ্রাউন্ডিং লাইনে গিয়ে যন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। এসব যন্ত্র দিয়ে হিমবাহের নিচে সমুদ্রের পানি কীভাবে ঢোকে ও বেরিয়ে যায়, তা রেকর্ড করা হবে।

রিগনো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংবেদনশীল বরফস্তরগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরেই জানেন। তবে হিমবাহের নিচের পরিস্থিতি সম্পর্কে সাম্প্রতিক নতুন তথ্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পৃথিবীকে উষ্ণ করে এমন দূষণ এখনই কমানো জরুরি। তা সত্ত্বেও অতীতে ঘটে যাওয়া ক্ষতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের হুমকি ডাকভোট ইস্যুতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


ট্রাম্পের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের হুমকি ডাকভোট ইস্যুতে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে দেশের বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করছে, ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যারা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে যে, যদি তাদের ভোট গণনা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় আইন ভঙ্গের কাজে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন।

শুক্রবার, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সহকারী আইন উপদেষ্টা পিটার বলিঞ্জারকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে এ ঘটনা ঘটেছে।

কিছু দিন আগে, বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কথিত ‘অ-মার্কিন’ নাগরিক ভোটারদের একটি তালিকা যাচাই করতে বলেছিল। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে এসব ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে মামলা করে বিচার বিভাগ।

শুক্রবার প্রকাশিত চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া একটি অপরাধ। তিনি বলেন, "জেনেশুনে এ কাজে সহায়তা করাও বেআইনি।"

ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ম্যাককটার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চিঠিটি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘তাদের সবাইকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে যেতে হবে!!!’

ম্যাককটারের চিঠির অনুলিপি পেয়েছেন শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধন ও রেকর্ড বিভাগের প্রধান ডিন লোগান। কাউন্টির আইন উপদেষ্টার কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

ওয়েবারের কার্যালয় এ বিষয়ে আগে দেওয়া একটি বিবৃতি দেখার পরামর্শ দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে ওয়েবার বলেন, বিচার বিভাগের অঙ্গরাজ্যগুলোর সুরক্ষিত ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এতে নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে।

এর আগে মঙ্গলবার ওয়েবার ও লোগানকে পাঠানো চিঠিতে ম্যাককটার জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যাদের সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে, তাদের একটি তালিকা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত একটি পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসব ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আইন উপদেষ্টা ডওয়েন আর. হ্যারিসন বৃহস্পতিবার বলেন, বিচার বিভাগের অনুরোধ রাখা কাউন্টির পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে তালিকাটি তৈরি করেছে, তা ব্যাখ্যা করেনি। তবে শুক্রবারের চিঠিতে ম্যাককটার দাবি করেন, তালিকাটি তৈরি করতে বিচার বিভাগ অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে যাচাই করেছে।

জুলাই মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার প্রশাসন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অ-মার্কিন নাগরিকের বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, তাদের মধ্যে কতজন সত্যিই ভোট দিয়েছেন।

এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ব্যবস্থায় ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তিকেও অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বাড়িয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল অনুযায়ী, ভোটার তালিকা পর্যালোচনার কাজ দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর চাপ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেছে। এসব তালিকা দ্রুত পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারবিরোধী অপতৎপরতার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


সরকারবিরোধী অপতৎপরতার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার

পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ (ইউএফটিবি) শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিমা জামান প্রমাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রমার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী অপতৎপরতা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম গোপনে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় প্রমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল প্রমা তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আড়ালে চলে যান। যদিও জনসম্মুখে তিনি আসেননি, তবে গোপনে সরকারবিরোধী অপতৎপরতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ (ইউএফটিবি) রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%