ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং সিভিল সার্জনদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির, অর্থাৎ ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

এজন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ, ছাড়কৃত পদের সংখ্যা, নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের সংখ্যা এবং নিয়োগের তারিখ সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। যদি কোনো পদে নিয়োগ না হয়ে থাকে, তবে তার কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়লার ভাগাড় থেকে বাগান: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ডিসি ফরিদার উদ্যোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ময়লার ভাগাড় থেকে বাগান: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ডিসি ফরিদার উদ্যোগে

একসময় বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ছিল, যা সহ্য করা কঠিন দুর্গন্ধ এবং মারাত্মক পরিবেশদূষণের সৃষ্টি করেছিল। দুই দশকের পরিচিত সেই চিত্র আজ বদলে গেছে, যেখানে এখন হাজারো সবুজ গাছপালা ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ শোভা পাচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ‘রূপান্তর’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দীর্ঘদিনের বর্জ্যস্তূপকে সবুজে রূপান্তরিত করার উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানান।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আমিনবাজারে নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ। আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে এবং মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।’

আমিনবাজারের এই উদ্যোগকে চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও বিস্তৃত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন, যাতে বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বর্জ্যের ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় ৩ মাসের প্রচেষ্টায় জমে থাকা বিপুল বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

বর্জ্য অপসারণের পর জমি প্রস্তুত করা হয়, মাটির সুরক্ষায় প্যালাসাইডিং, পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন এবং সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয়েছে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ঘাস। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম, ৭০০টি রঞ্জনসহ মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে ২ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রাতের আলোকসজ্জার জন্য ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকা এখন দূষণমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি

মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংসদে আস্থা ভোটে জয়লাভ করেছেন।

দেশের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, রবিবার অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত অধিবেশনে তার যোগ্যতা ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার পর তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

কেতাবচি এখন প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত : এবি পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত : এবি পার্টি

“জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, কারণ তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। তিনি উল্লেখ করেন, এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তাঁর মতে, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না। জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার অনেক কিছুই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে, যেন জুলাই সনদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে, সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

তাঁর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল, গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

ভূমি খাতে অন্যায় ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসাথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান মিনু জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভূমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ আসছে। ভাইয়ে-ভাইয়ে, ভাই-বোনে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। জমির মালিকানা, হস্তান্তর এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সারা দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিকদের আস্থা অর্জনে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সব নাগরিকের সম্মান সবার আগে। মন্ত্রণালয়ের স্বয়ংক্রিয় সেবাগুলো চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেবার মান যাচাই করতে তিনি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ফোন করে সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, আমাদের দুটি সেবা কেন্দ্র রয়েছে। প্রথম কেন্দ্রটির কার্যক্রম ভালোভাবে চলতে দেখে আমরা চিন্তা করি, ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রম যেখানে বেশি পরিচালিত হয়, সেখানে আরেকটি কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। সে পরিকল্পনা থেকেই দ্বিতীয় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যে, প্রায় দুই মাসের মধ্যেই আমরা এটি চালু করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ভূমিসেবার জন্য যেসব স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো নাগরিকেরা এখানে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ভূমি-সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে প্রাথমিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি পরিসরে এসব সেবা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%