রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১০ পি.এম
উজানের ঢল এবং অবিরাম বৃষ্টির ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে। এদিকে চারপাশে পানি থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ চরম পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানি জমে যাওয়ায় অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
যদি পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্ভোগও বাড়ছে। চারপাশে পানি থাকায় ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্কে বাসিন্দারা রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পানি ঢুকে পড়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তাদের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতপুরে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন জানান, পানিতে নিমজ্জিত ফসলি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত বুধবার সাড়ে ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই বিতরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বহুল আলোচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফাহাদ খন্দকার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
রবিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে ইউনিমার্ট রেস্টুরেন্ট বরিশাল জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান এমপির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ব্যবসায়ী ফাহাদ খন্দকারের এ যোগদান বাকেরগঞ্জ বিএনপির হাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু, বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান, কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিম, বিএনপি নেতা শামীম গাজীসহ অনেকে।
যোগদান অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহবায়ক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ফাহাদ খন্দকার ঢাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি বিএনপিতে যোগদান করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানাই। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় লড়াই করে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অনেক কীর্তিমান সন্তানদের বিসর্জন দিয়েছে দল ও দেশের জন্য। সেই দলের জন্য মানুষের আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা, এত জুলম নির্যাতনের পরেও দলটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সেই দলে যোগদানকারী ফাহাদ খন্দকারের সফলতা কামনা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় বিভিন্ন সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে র্যাব-৫ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে আব্দুস সালাম সরকার (২৬) নামে এক যুবককে।
গ্রেফতারটি ঘটে রোববার ভোর ৫টার দিকে, যখন র্যাব প্রসাদপুর গ্রামের ‘সরকার কম্পিউটার ও অনলাইন পয়েন্ট’ নামক দোকানে অভিযান চালায়।
রোববার সন্ধ্যায় র্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, আব্দুস সালাম সরকার এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে ডিজিটাল ডিভাইস, বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন। তারা সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করতেন।
র্যাব আরও জানায়, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নির্বাচন অফিসে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুবাদে আব্দুস সালামের কাছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে ধারণা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে এসব তথ্য সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। অভিযানের পর আব্দুস সালামের মোবাইল ফোন যাচাই করে একাধিক সিডিআর এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের একাধিক সর্বশেষ লোকেশন পাওয়া যায়। এসব তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সালাম ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নওগাঁর মান্দা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা শৈলেন্দ্র নাথ বাইন শারীরিক অসুস্থতা এবং বার্ধক্যজনিত কারণে দলের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে অক্ষম হওয়ার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন।
তিনি রোববার বিকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পদত্যাগের কথা জানান।
শৈলেন্দ্র নাথ বাইন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং গোপালপুর ইউনিয়নের পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম; কিন্তু বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে চলাফেরায় অসুবিধা হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারছি না। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তো কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামী লীগের সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করলাম।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগামী ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা, মাঠ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ প্রদান করা এবং কাকরাইল মসজিদ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থি অনুসারীরা। তাদের সাত দফা দাবি রয়েছে।
সাদপন্থিরা একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শফিক বিন নাঈম।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তাবলিগ জামাত একটি শত বছরের পুরোনো অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও অরাজনৈতিক মেহনত। তবে বাংলাদেশে ২০১৮ সাল থেকে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে সংঘাত ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। সাদপন্থিদের অভিযোগ, জুবায়েরপন্থি হিসেবে পরিচিত একটি পক্ষ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যানারে অপপ্রচার চালিয়ে তাবলিগের পরিবেশ অশান্ত করছে।
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের বিষয়ে সাদপন্থিরা বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইজতেমা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য টঙ্গীর ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেন। তাদের দাবি, ময়দানের মালিকানা সরকারের; কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক মালিকানা নেই। তাই উভয় পক্ষকে সমানভাবে ময়দান ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
তাদের ভাষ্য, লাখ লাখ দেশি মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক বিদেশি মেহমানের অংশগ্রহণের কারণে টঙ্গী ময়দানের বাইরে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। বিকল্প কোনো মাঠে ইজতেমা করলে বিদেশি মেহমানদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেন তারা।
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সংঘটিত সংঘাতের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থিরা দাবি করেন, তাদের জোড় কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কারণে সংঘর্ষে তাদের দুই সাথী ইসমাইল মন্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল মারা যান। এ ঘটনায় তাদের পক্ষের মুরব্বিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সিআইডি ও পরে পিবিআই তদন্ত করে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তাদের অভিযোগ, এরপরও ওই ঘটনায় তাদের দায়ী করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনা নিয়েও নিজেদের দায় অস্বীকার করেন সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাবলিগের দুই পক্ষসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে জুবায়েরপন্থিদের ময়দান ছাড়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তাদের আরও দাবি, ১৫ ডিসেম্বর ময়দান না ছাড়ার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর পর ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনায় বেলাল হোসেন নিহত হন। সাদপন্থিদের বক্তব্য, নিহত বেলাল হোসেন তাদের অনুসারী ছিলেন। তবে ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী না করার আহ্বান জানানো হয়।
টঙ্গী ময়দানে ভবিষ্যতে ইজতেমা না করার বিষয়ে সাদপন্থিরা কোনো মুচলেকা দিয়েছে এমন দাবিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের কাছ থেকে ময়দানের মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য তাদের পক্ষ থেকে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা ইজতেমা না করার কোনো মুচলেকা দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে আগের একটি পত্রে উল্লিখিত শর্তে তারা একমত নয় বলে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী ৯ ফেব্রুয়ারির পত্রে ওই শর্ত উল্লেখ না থাকায় মুচলেকার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
মাওলানা সাদকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, মাওলানা সাদ নিজে নিজে আমির হয়েছেন, আল্লাহ ও নবীর শানে বেয়াদবি করেছেন কিংবা আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন—এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাকে বাংলাদেশে এনে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কাকরাইল মসজিদ নিয়েও নিজেদের দাবি তুলে ধরে তারা বলেন, ‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ’ এর নামে মসজিদটি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তাই সেটি তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের সব মসজিদে কোনো পক্ষকে অন্য পক্ষের দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে বাধা না দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশনার দাবি করা হয়।
তাবলিগের দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষকে টঙ্গী ময়দানে নিজ নিজ ইজতেমা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, গত পাঁচ বছর নিজামুদ্দিন অনুসারীরা দ্বিতীয় ধাপে ইজতেমা করায় এবার তাদের প্রথম ধাপে ইজতেমার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে, টঙ্গী ময়দান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, উভয় পক্ষের জন্য সমতা নিশ্চিত করা, কাকরাইল মসজিদ বুঝিয়ে দেওয়া, দেশের সব মসজিদে বাধাহীনভাবে তাবলিগের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং তাবলিগের বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা।
এ সময় ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়জুর রহমান, মুফতি বোরহান, ড. মো. রেজাউল করিম, তৌহিদুল হক সোহেল, মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম, প্রফেসর মনজুরুল হক, তারেক মাহমুদ, প্রফেসর নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রফেসর আব্দুল হান্নান ও সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ