ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ


মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলতে এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো সহজ হবে এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানিয়েছেন, "প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তাদের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: পাতায়ায় বাংলা খাবারের চাহিদা বাড়লেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে বাংলাদেশি কর্মীরা

এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ভালো বলতে পারবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এ অঙ্ক ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার এবং অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা জটিলতার কারণে বৈধ রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে।

আরও পড়ুন: সৌদি কারাগারে ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গত ৮ অক্টোবর এমএমএ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।

প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জন দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হয়।

আরও পড়ুন: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের মাধ্যমে এমএমএর সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা এবং নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

মালদ্বীপে বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি।

এত বড় বাংলাদেশি কর্মীসমাজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শরীয়তপুরের মারুফ, মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে আগে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যোগ হওয়ায় বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, যার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া তিন বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরবেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ১,৫৫১ লঘু অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


চট্টগ্রামে ১,৫৫১ লঘু অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন

॥ রেদ্ওয়ান আহমদ ॥

চট্টগ্রাম, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালতের তত্ত্বাবধানে শর্তসাপেক্ষে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৫১ জন লঘু অপরাধীকে কারাগারে না পাঠিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করেছে প্রবেশন ব্যবস্থা। এই অপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত রেখে তাদের সংশোধনের পাশাপাশি দেশের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ কারাগারগুলোর ওপর চাপ কমানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।

২০১৬ সালে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রবেশন কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ১ হাজার ৫৫১ জন অপরাধী এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। প্রবেশন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৯২ জন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, যা দেশের একক কোনো প্রবেশন কার্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া, শর্ত পূরণ করে ৫৫৯ জন তাদের দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রবেশন একটি আইনি ব্যবস্থা, যেখানে আদালত কোনো অপরাধীর কারাদণ্ড স্থগিত রেখে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়। এই সময় একজন প্রবেশন কর্মকর্তা তার আচরণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।

এ ব্যবস্থায় জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার একটি উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ (প্রকৃত নাম নয়)। ২০২৩ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ভালো ফলাফল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আবদুল্লাহ। পরে তৎকালীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

তবে তার জীবনের গতিপথ বদলে যায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর একটি আদেশে। আদালত তাকে আটক রাখার পরিবর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন।

আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ। নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং আচরণ পরিবর্তনে তাকে সহায়তা করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল্লাহ আগের অভ্যাস ত্যাগ করে নতুনভাবে জীবন গড়ার উদ্যোগ নেন। পরে আদালত ও প্রবেশন কার্যালয় তার শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করে তাকে দণ্ড থেকে অব্যাহতির যোগ্য বলে বিবেচনা করে।

শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে আবদুল্লাহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রমাণ করে, যথাযথ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে তরুণ অপরাধীরাও নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

চট্টগ্রাম সিএমএম আদালত ও এর অধীনস্থ আদালতগুলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগ্য আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে রাখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা অপরাধীদের সমাজে পুনঃএকীভূত হতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমায় এবং লঘু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।

প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে বই পড়া, গাছ লাগানো, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদাচরণ, মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং হাসপাতালে মাদক পরীক্ষা করানোর মতো বিষয় থাকতে পারে।

১৯৬০ সালের অপরাধী প্রবেশন অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে যোগ্য পুরুষ অপরাধীরা প্রবেশনের সুযোগ পেতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী অপরাধীরাও এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে, শিশু আইন, ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী, আইনের শর্ত সাপেক্ষে অপরাধের ধরন নির্বিশেষে শিশু অপরাধীদের প্রবেশনে রাখার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৬ হাজার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রায় ৬ হাজার বন্দি রয়েছেন, যা কারাগারটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কিংবা সাজা ভোগ শেষে পুনরায় অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এই তথ্য অপরাধীদের কার্যকর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তিনি বলেন, প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ শর্ত মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন বলে তার ধারণা। তবে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে মূল দণ্ড ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হতে পারে।

তবে জনবলের সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তার অভাব ও সীমিত অর্থায়নের কারণে প্রবেশন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ বাসসকে বলেন, প্রবেশনকে কেবল একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং সমাজ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, লঘু অপরাধে জড়িত কিছু ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং একপর্যায়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতেও তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ তাদের সহজে গ্রহণ করতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রবেশন অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা।’

আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই ৬৬ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাঈদ আহসান খালিদ বলেন, প্রবেশনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কারাগারে বন্দির অতিরিক্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পেতে পারে।

এ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ সম্পর্কে অনেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীর পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এটি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকেই শাস্তির স্বাভাবিক পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, কারাগার পরিচালনায় বিপুল ব্যয় হয়। অন্যদিকে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রবেশন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সমাজের জন্য অধিক কল্যাণকর বিকল্প হতে পারে।

প্রবেশন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে আরও প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ, তদারকি ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, আর প্রবেশন তাকে মানুষ হিসেবে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দেয়।’

প্রবেশনকে কেবল আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক সংস্কারের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানিতে ইরানি ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


জার্মানিতে ইরানি ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল

জার্মানির আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফিন ইরানের ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল করেছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এই পদক্ষেপটি নিষেধাজ্ঞার কারণে নেওয়া হয়েছে।

আগে সেপ্টেম্বর মাসে, বাফিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক সেপাহর জার্মান শাখাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল।

বাফিন জানিয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন এবং চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছর ব্যাংক সাদেরাতের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল।

সংস্থাটি আরও জানায়, গত মাসে হামবুর্গের একটি আদালত ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার জন্য একজন লিকুইডেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করেছে।

বাফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটিতে ১৩ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ২৪ লাখ ইউরো, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ডলার।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি, উদ্বেগ তুরস্কের সমালোচকদের নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


ইউরোপে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি, উদ্বেগ তুরস্কের সমালোচকদের নিয়ে

নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সমালোচক এবং গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তুর্কি গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে সংগৃহীত তথ্য তুরস্কে চলমান ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট তৈরি করা একটি গোপন নথিতে তিনটি নর্ডিক দেশে বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর বিবরণ রয়েছে। নথিটি তুরস্কের আন্তালিয়া প্রাদেশিক পুলিশ বিভাগের। এতে ২৪ জুন নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই বিক্ষোভগুলো ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সদর দপ্তরের বাইরে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, তুরস্ক যেন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের রায়গুলো বাস্তবায়ন করে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও ছিলেন।

নথিতে বলা হয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও পোস্ট পর্যালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের নামের তালিকা তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অংশগ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবির স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা হয়। পরে এসব তথ্য তুরস্কের জাতীয় পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগে পাঠানো হয়।

আদালতে পাঠানো হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন

নথি অনুযায়ী, তুরস্কের জাতীয় পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ ১১ আগস্ট প্রাদেশিক পুলিশ ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তালিয়া প্রাদেশিক পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা ১৯ আগস্ট একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে বিদেশে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে আগে থেকে কোনো বিচারিক কার্যক্রম চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালত ও কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানোর নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তালিয়া পুলিশের তৈরি একটি তদন্ত প্রতিবেদন সেখানকার দ্বিতীয় উচ্চ ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হয়েছিল। ওই নথিতে অন্তত একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণের তথ্য যুক্ত করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, তুরস্কের জাতীয় পরিচয় নম্বর ও অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য প্রকাশ করেনি নর্ডিক মনিটর। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক।

নজরদারির তথ্য প্রথম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নথিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ছবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনার কথা বলা হলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সরাসরি গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে প্রকৃত গোয়েন্দা তৎপরতার উৎস আড়াল করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন; নথি থেকে সরাসরি গোপন মাঠপর্যায়ের নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।

গুলেন আন্দোলন ঘিরে বিরোধ

গুলেন আন্দোলন তুরস্কের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি ধর্মভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও আন্তধর্মীয় সংলাপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে দেশটির বাইরে পর্যন্ত আন্দোলনটির বিস্তার ঘটেছিল।

২০১৩ সালে তুরস্কে দুর্নীতির তদন্ত ঘিরে এরদোয়ান সরকারের সঙ্গে আন্দোলনটির বিরোধ তীব্র হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য তুরস্কের সরকার গুলেন আন্দোলনকে দায়ী করে। আন্দোলনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড়, তদন্ত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুলেন আন্দোলন অবশ্য অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেই কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট প্রমাণ, ব্যক্তিগত দায় এবং ন্যায়বিচারের স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত অনেক ব্যক্তি তুরস্কের ধরপাকড়ের পর দেশ ছেড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় বা অন্য ধরনের আইনি সুরক্ষাও পেয়েছেন। কিন্তু বিদেশে বসবাসের পরও তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সাম্প্রতিক নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আগেও উঠেছে নজরদারির অভিযোগ

বিদেশে বসবাসরত এরদোয়ান সরকারের সমালোচকদের বিষয়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়। নর্ডিক মনিটর ২০২৬ সালের ১১ জুন প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ২০২৫ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির অভিযোগ তুলেছিল।

তুর্কি সরকারি নথির বরাতে বলা হয়, স্ট্রাসবুর্গের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সংগ্রহ করা তথ্য তুরস্কের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমেও ওই তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

নরওয়েতে তুর্কি দূতাবাসের মাধ্যমে এরদোয়ান সরকারের সমালোচক ও গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আগে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে নর্ডিক মনিটর জানায়, নরওয়েতে বসবাসরত তুর্কি ও নরওয়েজীয় নাগরিকদের বিষয়ে কূটনৈতিক সূত্রে সংগ্রহ করা তথ্য তুরস্কের একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কারণ, বিদেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তির তথ্য নিজ দেশে ফৌজদারি মামলায় ব্যবহৃত হলে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিংবা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কারণে কেউ নজরদারি বা তদন্তের আওতায় এলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের আইনি সুরক্ষা রয়েছে। এসব দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীদের তথ্য অন্য একটি দেশের কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করে নিজ দেশের তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহার করলে তা আন্তদেশীয় নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

নতুন নথির বিষয়ে আরেকটি প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট তিন দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এসব বিক্ষোভের ওপর তুর্কি কর্তৃপক্ষের নজরদারি কিংবা সংগৃহীত তথ্য তুরস্কের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি জানত কি না। নর্ডিক মনিটরের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

তুর্কির নিরাপত্তা সংস্থা, প্রাদেশিক পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের যে প্রক্রিয়ার বিবরণ নথিতে রয়েছে, তা বিদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করে নিজ দেশের তদন্তে ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। তবে নজরদারির সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের মূল উৎস এবং সংশ্লিষ্ট তিন দেশের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে আরো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তুর্কি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নর্ডিক মনিটরের প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: নর্ডিক মনিটর, ওয়াইএলই নিউজ ও তুর্কিশ মিনিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই : স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন, "আমি আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।" তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতায় থাকার সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সভ্য মানুষের জন্য নির্বাচনে আসার অনুকূল ছিল না। যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাহস পেতেন না। অর্থ, বিত্ত-বৈভব এবং জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও, অযোগ্য, অসৎ ও সমাজের নিকৃষ্ট মানুষের প্রভাবের কারণে ভালো মানুষেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না।

বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্পিকার আরও বলেছেন, "আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া একান্ত জরুরি।" তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষ কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া বিকল্প কোনো কিছুর চিন্তা করার সুযোগ না থাকে।

ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে মানুষ কাজ করতে পারছে না। স্পিকার বলেন, "ভোলার মানুষ ভোলার গ্যাস ভোগ করবে—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।" এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত।

এ সময় জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%