১০:৪৯ এম
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, নৌবহর ও সেনা মোতায়েনের ফলে ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন করে হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানে হামলার সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে ঘটতে পারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই সপ্তাহের শেষ দিকে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।"
টম ব্যারাক সিরিয়াবিষয়ক দায়িত্ব পালনকালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরের সময় এই সাক্ষাৎকার দেন। যদিও ইরানবিষয়ক বিষয়ে তার সরাসরি দায়িত্ব নেই, তথাপি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে ইরানে মক্কা জোটের চার সিদ্ধান্ত
এদিকে, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর পর তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকার পর ট্রাম্পও ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি পূর্বে বলেছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এমন হামলা হবে না।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে ব্যারাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে পশ্চিমাপন্থি শাহের শাসনের অবসানের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শত্রু হিসেবে পরিচিত।
ব্যারাক মন্তব্য করেন, "আপনারা যদি বিশ্ব, আমাদের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সেই পরিণতি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।"
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?
তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে আগ্রহী নন।" ব্যারাকের ভাষায়, "শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি সমস্যা থাকে। আর তা হলো, পরিবর্তনের পরের দিন কী ঘটবে?" সূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন