ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক


যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, নৌবহর ও সেনা মোতায়েনের ফলে ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন করে হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানে হামলার সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে ঘটতে পারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই সপ্তাহের শেষ দিকে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।"

টম ব্যারাক সিরিয়াবিষয়ক দায়িত্ব পালনকালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরের সময় এই সাক্ষাৎকার দেন। যদিও ইরানবিষয়ক বিষয়ে তার সরাসরি দায়িত্ব নেই, তথাপি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে ইরানে মক্কা জোটের চার সিদ্ধান্ত

এদিকে, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর পর তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকার পর ট্রাম্পও ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি পূর্বে বলেছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এমন হামলা হবে না।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে ব্যারাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে পশ্চিমাপন্থি শাহের শাসনের অবসানের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শত্রু হিসেবে পরিচিত।

ব্যারাক মন্তব্য করেন, "আপনারা যদি বিশ্ব, আমাদের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সেই পরিণতি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।"

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?

তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে আগ্রহী নন।" ব্যারাকের ভাষায়, "শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি সমস্যা থাকে। আর তা হলো, পরিবর্তনের পরের দিন কী ঘটবে?" সূত্র: আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসের গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


প্যারিসের গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে ঘটে যাওয়া এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শুক্রবার সকালে ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

মাখোঁ মন্তব্য করেছেন, এ হামলা ফরাসি প্রজাতন্ত্র ও জাতির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। তিনি উল্লেখ করেন, "বর্ণের কারণে এভাবে নির্বিচারে কাউকে হত্যার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।"

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, হামলাকারী একটি গাড়িতে বসে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। প্রথমে প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ এলাকায় এবং পরে পাশের লা ভেরিয়ের শহরে হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী অভিবাসী বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকতে পারেন।

আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি কিশোরীও রয়েছে।

হামলার ঘটনাস্থল ত্রাপ পরিদর্শনকালে মাখোঁ বলেন, ভুক্তভোগীদের গায়ের রং কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি জনগণকে এ ধরনের আদর্শের বিস্তার ঠেকাতে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।

তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর (পিএনএটি) জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কেভিন টি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তার বয়স ৩৯ বছর। পিএনএটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে তার বিরুদ্ধে চারটি অপরাধের দণ্ডাদেশ ছিল, তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের রেকর্ড থেকে মুছে গিয়েছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে পরিচিত ছিলেন। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির তালিকায় তার নাম ছিল না। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর বিএফএমটিভিকে জানিয়েছে, তাকে ফ্রান্সের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের তালিকায়ও রাখা হয়নি।

শুক্রবার সন্দেহভাজনের নিকট পরিবারের একজন সদস্যকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএনএটি।

ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ বলেছেন, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়িতে বসে বিভিন্ন স্থানে যাদের সামনে পেয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের একটি রেনো ক্লিও গাড়িতে করে কয়েকটি এলাকায় ঘুরে গুলি চালান ওই ব্যক্তি। মেয়র বলেন, হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন এবং যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে হচ্ছে।

মেয়র আরও জানান, ত্রাপ এলাকায় একটি পেট্রলপাম্প, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠের কাছে গুলি চালানোর পর হামলাকারী পাশের লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যান।

পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, শহরটির মধ্য দিয়ে যাওয়া এন১০ মহাসড়কে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আহত ১২ বছর বয়সী কিশোরীর মা ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের শরীরে আটটি গুলির ক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশপ্রধান বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন, হামলায় পুরোনো ধরনের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্রটি দিয়ে একাধিক গুলি ছোড়া হয়েছিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়াঁর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।

পিএনএটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সামরিক পর্যায়ের বা একাধিক গুলি ছুড়তে সক্ষম ‘ক্যাটাগরি এ’ অস্ত্র রাখার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ঘটনাটিকে বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে ভুল হবে না: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে ভুল হবে না: জামায়াত আমির

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার পরও, দলের দুর্বলতা ভোট রক্ষায় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "জনগণ আমাদের বলেন– ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না।" তখন তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের দুর্বলতা ছিল।" ভবিষ্যতে যেন একই ভুল না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট রক্ষায় ভুল না করার জন্য জামায়াতের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন, "কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।" সিটি নির্বাচনে দিনরাত একাকার করে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করা যায় যে, আর ভুল হবে না।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না।" তাই, তিনি সকলকে প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দলের আমির বলেন, "একসময় ঢাকায় অবস্থা অনেক দুর্বল ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।" তিনি বলেন, "আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না।" প্রতিবাদ করার এবং যেখানে সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "রুকন পদ-পদবি নয়, জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান।" তিনি সতর্ক করেন, "এককে ক্ষমতা মনে করলে ভুল করব।" সভাপতির বক্তব্যে উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, "রুকন সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানের দিক থেকে উন্নত ও সুশৃঙ্খলা হতে হবে।"

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ১৩ হাজারের বেশি রুকন গোপন ভোটে আমির নির্বাচন করেন। ২০২৭-২০২৮ সালের কমিটিতে আমির পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন। সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে হামলার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে হামলার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, সেনা ও নৌবহর মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গালফ নিউজও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে দুই পক্ষ স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা শুরু হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যালোনির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিও নির্বাচনে চাপের মুখে পড়তে পারে।

ম্যালোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে ওয়াশিংটনকে বিপুলসংখ্যক নৌসামরিক সম্পদ নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে। তাই কূটনীতি অথবা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান প্রয়োজন।

শুক্রবার ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চাইলে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সম্ভব। তবে তিনি ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করা হবে, নাকি দেশটিকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন।

এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হতে পারে। ইসরাইলে মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে এমন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ব্যারাকের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার বেশ কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। একই সঙ্গে, ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ক্যাম্পবেল জানান, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে আগের হামলার মতো শক্তি প্রদর্শন করেছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে নতুন হামলা ঠিক কখন শুরু হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন বলে মনে করেন ক্যাম্পবেল। তাঁর মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দেওয়াই যদি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এত বিস্তৃত সামরিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

ক্যাম্পবেল আরও বলেন, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্প কম। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অভিযানে হাজার হাজার, এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কয়েক দশ হাজার সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এত বড় বাহিনী নিরাপদে মোতায়েন করার মতো জায়গা বর্তমানে সীমিত।

ম্যালোনির মতে, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন অভিযান শুরু হলে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে—এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সামরিক অভিযান বাড়ালেই সংঘাতের সমাধান হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। ম্যালোনির মতে, শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষের হামলা বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতের আগে ইউরোপে রেকর্ড সর্বনিম্ন গ্যাস মজুদ, সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


শীতের আগে ইউরোপে রেকর্ড সর্বনিম্ন গ্যাস মজুদ, সংকটের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে ইউরোপ শীত মৌসুমে রেকর্ড কম গ্যাস মজুত নিয়ে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মহাদেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বার্লিনে বুধবার অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।

বিরল আরও বলেন, শীতের আগে ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকে। কিন্তু এবারের শীত মৌসুমে গ্যাসের মজুত ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। শীত তীব্র হলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, চলতি বছর এবং আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য সহজ হবে না।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। সাধারণত এই সময়ে মজুত থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ। এ অবস্থায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইইউর জ্বালানিমন্ত্রীরা।

ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থায় নতুন নিয়োগপ্রার্থীদেরও প্রায়ই প্রশ্ন করতেন, প্রণালিটি আজই বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা কী পদক্ষেপ নেবেন।

তার মতে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিরল বলেন, এসব পদক্ষেপ আগে নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখন সরকারগুলো তাড়াহুড়ো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে উল্লেখ করেন আইইএ প্রধান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংঘাতের প্রভাব আগামী কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনুভূত হবে।

বিরল আরও বলেন, ইউরোপে শুধু গ্যাস নয়, ডিজেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ কমেছে। পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এ ঘাটতি ইউরোপের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।

আইইএ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। বিরলের মতে, জ্বালানি সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ আগেই নেওয়া হলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হতো। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%