বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০৮ পি.এম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানির স্তর আবার বাড়তে শুরু করেছে, ফলে নদীভাঙন আবার শুরু হয়েছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া, রেলওয়ে বাজারের সামনে, মাওলানার গেট উপজেলা আলিপুর, চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা মালামাল সরানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিবছর বন্যার সময় পানির বৃদ্ধি ঘটলে নদীভাঙন শুরু হয়, এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, সারণপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। তাঁর সাথে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তাঁরা ভাঙনকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। পানির বৃদ্ধির কারণে কয়েক দফা বোনা মাসকলাই ডুবে গেছে। কৃষকদের বীজ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপদে পড়েছেন।
কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূরুল্লাহ ও মৃত ইয়াহিয়া চেয়ারম্যানের ছেলে মাসুদ জানান, "আমাদের এলাকার বাড়িঘর, দোকান, বহুতলা পুরাতন মসজিদটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পদ্মানদীর তীর সংরক্ষণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।" নদীভাঙনে চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল সরকার বলেন, “নদী যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমার যা কিছু ছিল সব তো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু শেষ হয়ে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি কোথায় যাবো, তা ভেবে পাচ্ছি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “পৌর এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত কথা বলে বালুর বস্তা ফেলে কিছুটা রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভাঙন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম ও স্থাপনা। পদ্মাপাড়বাসী ইয়াসিন আলী মাঝি জানান, রেলবাজার ঘাটের সামনে এক যুগ ধরে পলিমাটি পড়েছিল, কৃষকগণ চিনা, বাদাম, পাট, আম, করলা, পটল, মসুরি, ভুট্টা, কালাইসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। কিন্তু পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে জমিগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি বটগাছ নদীতে ভেসে গেছে। দোকানগুলো কয়েক দফা সরিয়ে লাভ হচ্ছে না, আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর ধার স্রোতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়ে বিকট শব্দ করে নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
যুগে যুগে পদ্মার ভাঙন নিঃস্ব করেছে শত-সহস্র মানুষকে। অতীতের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি যেন কঠিন বাস্তবতা হয়ে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ভাঙনকবলিত মানুষের ঘরে। ফলে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করার তাগিদ জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়রা। বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
আশঙ্কা করেছিল নদীপারের বাসিন্দারা—প্রত্যেক বছরের মতো এবারও গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেবে তীব্র ভাঙন। সেই শঙ্কা সত্যি করে কিছুদিন ধরে প্রবল স্রোতের কারণে উপজেলার পদ্মাপাড়ের চর আষাড়িয়াদহ, চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া, জামাইপাড়া, চর দিয়ার মানিকচকসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ধান, পাট, ভুট্টাসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার, পানিতে তলিয়ে গেছে এক হাজার বিঘা জমির ফসল।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মেম্বার জোহরুল ইসলাম জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পদ্মায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তবে গত চার থেকে পাঁচ বছর যাবত প্রচুর পরিমাণ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বহু স্থাপনা। নদীভাঙনের ফলে বহু মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের জমিজায়গা যদি পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যারা কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, কোথায় ফসল উৎপাদন করব, আমরা খাবো কী, কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবো? তাই আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করে বলছি, আমাদের চর অঞ্চলের মানুষকে, জমিনকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করুন এবং দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ যেন শুরু করেন।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন নতুন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১নং ও ২নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার চোখের সামনে মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
ভাঙনের ভয়ে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গোদাগাড়ীর অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলোতে চলে গেছে। সেখানে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতিবছর বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়, এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবুও এই জনপদ অঞ্চলে হয়নি এখনও স্থায়ী বাঁধ।
পদ্মা নদীর ভাঙন একটি গুরুতর সমস্যা, যা গোদাগাড়ী চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। ভাঙনের কারণে অনেকে তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা বলেন, প্রতিদিনই নদীর পানি বাড়ছে, ভাঙন বন্যা তীব্র হচ্ছে, কয়েক শ বিঘা জমির মৌসুমি ধান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একতরফা ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছিল ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সরসেরগঞ্জ থানার একটি গ্রাম ফারাক্কা। এখানেই গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ১১৯টি লকগেটবিশিষ্ট যে বাঁধ দেওয়া হয়, সেটাই ফারাক্কা বাঁধ। ফারাক্কা থেকে ১৮ কিলোমিটার ভাটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁকা পয়েন্টেই গঙ্গা হয়েছে পদ্মা।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি মোতাবেক পানির যে হিস্যা পাওয়ার কথা আমাদের, তা আমরা পাচ্ছি না। গত বছর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ কমেছিল।
চলমান ৩০ সাল চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বক্তব্য খোলামেলা। শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ এত কমে আসে যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কীভাবে? আর বর্ষা মৌসুমে মরণ বাঁধ ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারছে ভারত। প্রতিবছর বন্যার সময় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীভাঙন শুরু হয়। এবার শুরু হয়েছে।
রাজশাহী-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আমি গত কয়েক দিন পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকায় গেছি। ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর ভাঙন, পানি বৃদ্ধি দেখেছি, অসহায় মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা স্থায়ী বাঁধের ব্যাপারে বলেছেন। বন্যার পানি কমে গেলে স্থায়ী বাঁধের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে দাবি জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।
সংস্কারের ব্যাপারে এ সংসদ আরও বলেন, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৬ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমহারে কাজ হবে ইনশাআল্লাহ।
উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উনারা আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মানদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ইনশাআল্লাহ অচিরে হয়ে যাবে।
গোদাগাড়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম মোমিনুল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে মোবাইল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অতিক্রম করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধানে এখনও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও, পাঁচটি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা মাত্র ২,৬৫০টি। ফলে, প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০০১ সালে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আবাসিক সুবিধা সেই তুলনায় বাড়েনি। এর ফলে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস, হোস্টেল অথবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনার ব্যয়ের পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নোবিপ্রবির পাঁচটি আবাসিক হলে মোট ২,৬৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ৪৩০টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে ৫১১টি, হযরত বিবি খাদিজা হলে ৪৩৫টি, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ৬১০টি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হলে ৫২০টি আসন রয়েছে। এসব আসনের মধ্যে ডাবলিং ও ফ্রেশার্স রুমের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের মধ্যে দুটি ছাত্রদের এবং তিনটি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। আসনসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আবাসিক হলের একটি আসন অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যেন ‘সোনার হরিণ’। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য মেস বা ভাড়া বাসার অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর আবাসন সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট শূন্য আসনে অনূন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকলেও, তা সহনীয় মাত্রা নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসন ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের পড়াশোনার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজভীর আহমেদ বলেন, “বগুড়া থেকে নোয়াখালীতে পড়াশোনা করতে এসেছি আমি। আমাদের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের আবাসিক হল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হলে সিট না পাওয়ায় আমার মাইজদীতে থাকতে হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে, এক প্রকার হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। একজন স্টুডেন্ট হিসেবে আমি লেখাপড়ায় করব নাকি এগুলো নিয়ে টেনশন করব!”
বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ারিয়া বিনতে দেলোয়ার বলেন, “শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সুদূর ময়মনসিংহ থেকে নোয়াখালীতে আসা। বিশ্ববিদালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি থাকার বিষয়টিও একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত হল না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে মেসে থাকতে হচ্ছে যার জন্য বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিবারের ওপর চাপ পড়ে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত সমস্যা, বাসে ভিড় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে হয়রানি ইত্যাদি পরিস্থিতির জন্য পড়াশোনায় ব্যাহত ও বিলম্ব সৃষ্টি হয়।”
আবাসিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে আবাসিক হলের সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ছেলেদের জন্য দুটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি মোট চারটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্যও একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, প্রকল্পগুলো অনুমোদন করিয়ে এনে ধীরে ধীরে আবাসিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই বছরের বেশি সময় পর ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিবিআই উত্তরাস্থ ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জের চক সিংহড়া এলাকায় অটোরিকশাচালক মো. রাহুল (১৯) নিখোঁজ হন। তিনি ওই এলাকার একটি ওয়ার্কশপে বসবাস করতেন। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ভাড়ায় চালিত অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি ঘাসের জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মো. আঃ রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তভার পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা জেলার ওপর ন্যস্ত হয়। পিবিআইয়ের তদন্ত দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মো. সমেজ (৩২) ও মো. সবুজ মিয়া (২৮)কে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোড়া (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার আসামিরা রাহুলের পূর্বপরিচিত ছিলেন। ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাহুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর অটোরিকশাটি ছিনতাই করে বিক্রি করার পরিকল্পনাও ছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের একটি খোলা মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন আসামি আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে রাহুলকে ইয়াবা সেবন করানোর পর তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর মরদেহটি অটোরিকশায় করে একটি গ্যারেজে নেওয়া হয় এবং সেখানে দুই দিন রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে মরদেহটি ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকেই পরবর্তীতে রাহুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে পাওয়া টাকা আসামিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
গ্রেপ্তার আসামি মো. সবুজ মিয়া ও মো. লালন মোড়া আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই ঢাকা জেলা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সই করা নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। যখন তাদের এই আচরণের কারণ জানতে চাওয়া হয়, তখন তারা মারমুখী হয়ে ওঠেন।
এছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান দাবি করেন যে, তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে আনোয়ার প্রধানের এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তার সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, "আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে শোকজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমাকে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। আমি হোয়াটসঅ্যাপেই শোকজের জবাব দেব।"
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, "অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। দলের নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এল নিনো আবহাওয়াগত অবস্থা বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ডব্লিউএমও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।
এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
এনডিটিভির বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে।
জাতিসংঘের এই অঙ্গসংস্থা আরও জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ মাত্রা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, এল নিনো এরইমধ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত তীব্র হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
সাধারণত এল নিনো দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং একবার দেখা দিলে ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর বিপরীত পর্যায়কে বলা হয় লা নিনা।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গিয়ে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে তীব্র করে। বর্তমানে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে থাকায় এবার নির্গত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরইমধ্যে বেড়েছে। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ