০৯:৩৮ এম
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনায় সার্বভৌমত্বের প্রকৃত অর্জন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আজ প্রথমবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে অভিনন্দন জানাবেন।
তারেক রহমানের কাছে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও চার বছর পরের জাতীয় বিপ্লবকে ভেতর থেকে প্রত্যক্ষ করার একটি দুর্লভ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার কাছে সঞ্চিত রয়েছে ৭ নভেম্বরের চেতনায় গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐতিহাসিক জন্মলগ্ন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের ডাক দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশ গঠনের কর্মযজ্ঞ তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি সাক্ষী হয়েছেন বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও সংগ্রামী নারী নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার।
তারেক রহমান অকল্পনীয় পীড়নের শিকার হয়েছেন। ১৭ বছরের দলগত নিঃসঙ্গতাপূর্ণ প্রবাসী জীবন এবং ১৩টি মিথ্যা মামলায় ৫৫৪ দিন জেলজীবন জনগণের চোখের সামনে ঘটেছে। এসবই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার জন্য।
আরও পড়ুন: আলা হযরতের দর্শন সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে জরুরি: কনফারেন্সে বক্তাদের মতামত
২০২৬ সালের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র-রাজনীতির দিকে নজর দিলে অস্বস্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ১০ মাসের একটি নির্বাচিত সরকার টিকবে কি না, এমন প্রশ্ন স্বার্থান্বেষী মহল থেকে ছড়ানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নাশকতার চক্রান্ত ও তৎপরতা, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা, বিরোধী দলের ‘অনিবার্য বিপ্লব’ হুঁশিয়ারি, সরকারের তরফে আওয়ামী-জামায়াতের কথিত নৈরাজ্যিক ঐক্যের দাবি, এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সব মিলিয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমান কি রাষ্ট্র-রাজনীতিকে সুস্থির করতে পারবেন? কি তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে দেশকে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনীতি ও মন্দ অর্থনীতির বিষবাষ্প থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হবেন?
ইতিহাসের ভেতর দিয়ে সব জাতি কোনো না কোনো সমস্যার সমাধান খোঁজে। একটি চরম সত্যকে ‘সন্ধান ও লাভ’ করতে চায়। জাতি স্বাধীনতা চায় আত্মস্বার্থে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আত্মমর্যাদা, স্বনির্ভরতা এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ১৯৭১-৭৫ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের তাঁবেদারি এবং অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিকতাকে চরমে নিয়ে যায়। যার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে। ৭৫ সালের আগস্টে পটপরিবর্তন ঘটে। এরপর সার্বভৌমত্ব নাশের চক্রান্ত স্বাধীনতার ঘোষক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করার পর্যায়ে চলে যায়। ৩ নভেম্বর ভারত-সমর্থিত ক্যু ঘটে, তখন সিপাহি-জনতা সমস্বরে তা প্রতিরোধ করে। স্বাধীনতার পর গণমানুষের এই অভাবনীয় স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ছিল।
সেটাই প্রথম এবং নিষ্ঠুর জেলহত্যা এবং ভারতপন্থি ক্যু-এর প্রতিবাদে সার্বভৌমত্বের সংহতিতে বিপ্লবের আবাহন। সেজন্যই বলা হয় ৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নেতৃত্বে। জাতীয় কবি নজরুলের দেখা সেই স্বপ্নের কাণ্ডারি ‘অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ; কাণ্ডারী, আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ’। বাংলাদেশের প্রথম জননির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জিয়ার সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব, দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা, জনসাধারণকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করার পদক্ষেপ এবং নিজের প্রশ্নাতীত সততা তাকে তার সমসাময়িককালের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করে। শেখ মুজিব আমলের ‘এক নেতা এক দেশ’ স্লোগানটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বদলে মুক্ত অর্থনীতি, ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা, একদলীয় শাসনের বিপক্ষে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের বদলে স্বাধীনতার ঘোষণায় বর্ণিত সামাজিক ন্যায়বিচার শব্দগুলোর প্রতিস্থাপন শহীদ জিয়ার অতুলনীয় কৃতিত্ব। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব সত্তায় জাগিয়ে তুলে পথচলার চেতনা নির্মাণে শহীদ জিয়া বলেছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা।
আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে জাতীয় সংগীত অবমাননা করলেন পরীমণি, শাস্তি কী হবে?
এটি এখনো এই রাষ্ট্রের জীয়ন-মন্ত্র এবং ১৯ দফা হচ্ছে রাষ্ট্রিক ও সামাজিক কর্তব্যতন্ত্র। আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের পত্তনের পাশাপাশি পুরানিস্টিক বা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি নিখাদ নিবেদনের প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি। বর্জনবাদী, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসিকতাসম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তার ছিল না। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিধান থেকে ‘দুর্নীতি ও ভোগ’ শব্দটি তুলে দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ পম্পিডু রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিবিদদের পার্থক্য নির্ণয়ে যে মন্তব্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা শহীদ জিয়ার জন্য সর্বতোভাবে প্রযোজ্য। তিনি বলেছিলেন, A statesman is a politician who places himself at the service of the nation. A politician is a statesman who places nation at his service.
শহীদ জিয়া ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, জনগণের অনুরোধে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছেন রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলন গড়ে তোলেন, তরুণ সমাজ জানবাজি রেখে তার নেতৃত্বে লড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়। তার একটাই সাধনা ছিল গণতন্ত্রকে আক্ষরিক অর্থে প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। জীবনে অসংখ্যবার বন্দি হয়েছেন, জেল খেটেছেন, অবরুদ্ধ থেকেছেন, নিজ বাড়ি থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ হয়েছেন, সন্তানসহ অনেক স্বজনের মৃত্যু দেখেছেন। বেগম জিয়াকে শেখ হাসিনা বা এরশাদের দৃশ্যপটের বিপরীতে মূল্যায়ন করলে ভুল হবে। দুটি সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ ও মঈনুদ্দীনের শাসনকে বিদায় করা, ৪৩ বছরের রাজনীতিতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া, সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে ভোট করে জয়ী হওয়া, দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করা, সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাÑএসব মানদণ্ডে খালেদা জিয়ার তুলনায় বিশ্বের নারী নেত্রী এবং অনেক পুরুষ নেতৃত্বকে পাল্লায় তোলা যাবে না।
সর্বোপরি তিনি বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব তারেক রহমানকে তৈরি ও অধিষ্ঠান করে গেছেন। এই পরিবারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অশেষ। ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকালে শহীদ জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয়। ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের আগে ও পরে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্বে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন দেখিনি। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে। শহীদ জিয়া যেমন আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত বান্দা ছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়াও স্বামীর মতো চিরায়ত স্বাধীনতাকামী, জিহাদি সত্তার মানুষ ছিলেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থায় দুজনেই প্রগাঢ় বিশ্বাসী। নিজে সর্বক্ষণ অত্যাচারিত হওয়া সত্ত্বেও দলের মজলুম নেতাকর্মীদের এমনভাবে সান্ত্বনা দিতেন, নিজের কষ্টই ভুলে যেতেন।
তারেক রহমান তার মা-বাবার রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যক্তিগত গুণাবলির অনেক কিছু ধারণ করেন। তার সাদাসিধা পোশাক, অল্প খাবার গ্রহণ, নম্রতা, এবং একটি বিষয়কে দ্রুত আত্মস্থ করার ক্ষমতা অনেকের চোখেই পড়ে। ইসলাম ধর্মের মূল শিক্ষা মানবিকতাকে তিনি মন-মগজে সবসময় ধারণ করেন। নিখাদ দেশপ্রেম তার আপাদমস্তক। তার কাছে দিগনির্দেশক তিনটি দলিল আছে। এক. জিয়ার ১৯ দফা, দুই. বেগম জিয়ার ২০৩০ রূপকল্প এবং তিন, তার নিজস্ব ৩১ দফা। জিয়া ঘোষিত ‘জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় স্বনির্ভরতা’, বেগম জিয়ার ‘(Rainbow Society) রেইনবো সোসাইটি বা রংধনু সমাজ গঠন’ এবং ৩১ দফায় ‘জাতীয় সুশাসন’র ধারণাগুলোর সমন্বয় জাতির জন্য এই মুহূর্তেই কর্তব্যতন্ত্র।
আরও পড়ুন: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত
৭ নভেম্বরে সিপাহি জনতার যে অভ্যুত্থান ঘটে, তাতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার একটি ব্যাখ্যা অনেকেই জানতে চান। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়া যেমন সামরিক অধিকর্তার সত্তা থেকে নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন রাষ্ট্রনেতায়, তেমনি ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাজপথ সামরিক ছাউনি থেকে তা বিস্তৃত হয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কোষে কোষে জমাট বেঁধে গেছে। সেই চেতনায় আদ্যশক্তির জাগরণ সবার কামনা। রাষ্ট্রের কল্যাণে এবং জনগণের প্রত্যাশায় সাড়াদান সশস্ত্র বাহিনীর এক ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষপর্যায়ে শেখ হাসিনার পাশ থেকে সেনাবাহিনীর সরে যাওয়া, এর আগে এরশাদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান ঘটতে দেওয়ার কথা আমাদের সবার মনে আছে।
ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেনÑসেনাপ্রধানের এই ঘোষণা এবং তার দপ্তরে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক জাতিকে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। এর আগে এক শ্রেণির বিপথগামী সিপাহি দিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলাকে জিয়াউর রহমান দমন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যখন পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের অহমবোধকে বাঁচাতে বিদেশিদের বিরুদ্ধে ১৭৫৭ সালে পলাশীর বিদ্রোহ, ১৮৫৭ সালে বাঙালি মুসলমান সৈন্য অধ্যুষিত ‘বেঙ্গল ল্যান্সার্স’ ইউনিট কর্তৃক সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাঙালির পল্টনের ভূমিকা, ৬৫-তে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্টের বীরত্বপূর্ণ লড়াই এবং ৭১-এ স্বাধীনতাযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের নেতৃত্ব বিশ্ব ইতিহাসের অংশ। এরও আগে ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেজর গণির প্রচেষ্টায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যাত্রা এবং সেদিনই তদানীন্তন ব্রিগেডিয়ার আইয়ুব খানের সামনে বাঙালি সৈন্যদের বাংলা ভাষায় কথা বলার দাবি মনে করিয়ে দেয় যে, এসবের মধ্য দিয়ে অভিযাত্রার ধারাপাতই আমাদের জাতীয় ইতিহাস। শুধু ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানই একমাত্র ইতিহাস নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের ভূমিকাও ভুলে যাওয়ার নয়। অতএব আমাদের জাতীয় ইতিহাসের চাল-চলনে সামরিক বাহিনীর একাত্মতা, জাতীয় প্রয়োজনে ভূমিকা রাখা এক ধরনের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। সে জন্য এর স্বীকৃতি ঘটেছে ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে। সাত নভেম্বরের ইতিহাসকে ক্যান্টনমেন্টের কিছু অফিসারের তৎপরতার অধ্যায় মনে করা ভুল। কারণ এই সম্পর্কে যত বই আছে, বিপ্লবের রাজনৈতিক সম্বন্ধীয় লেখালেখি কম। আওয়ামী লীগও ৭ নভেম্বরকে ক্যু-পাল্টা ক্যুর পর্ব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটেছে। এখন অনেকে ২৬ মার্চকে ম্লান রেখে চব্বিশের জুলাইকে তুলে ধরতে চান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ২৬ মার্চ ও ২৪ জুলাইয়ের মাঝে আমাদের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ৭৫-এর ৭ নভেম্বর এবং নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বরের গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য পর্ব।
আজকের ৭ নভেম্বরে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নানা সংকট ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অথচ বর্তমান সংসদের কেউই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনার বাইরে নয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ পলাতক। ভারতের সহায়তায় তারা নাশকতায় লিপ্ত হয়েছে। এর প্রতিরোধের দায়িত্ব কি শুধু সরকারের? বর্তমান সংসদের সবচেয়ে বড় বেনিফিশারি জামায়াতে ইসলামী। তাদের কোনো দায়িত্ব নেই, আছে নানা সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের লিভিং স্পেসে প্রতিদিন জীয়ল থাকা। জামায়াতের কৃতিত্ব যারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছে। কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতাও কাম্য। সংবিধানের বাইরে যাওয়া মানুষ সমর্থন করে না। এই মুহূর্তে তারেক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি দল হিসেবে বিএনপিও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। অতীতে শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহু সংকটকে সমাধান দিয়ে গেছেন। সরকারকে অস্থির হওয়ার বদলে জিয়ার ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার রূপকল্প ২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার নিবিড় পাঠ সমাধান এনে দেবে।
সবচেয়ে বড় কথা, পবিত্র কোরআন শরিফে মহান আল্লাহ রাষ্ট্রীয় বিষয় পরামর্শের মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম কুরতুবি পার্থিব জ্ঞান ও ধর্মজ্ঞানে পারদর্শীদের সঙ্গে আলোচনা করে শাসন পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের নবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনকালের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল আলোচনা ও মতবিনিময়।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
লেখক: উইকলি ইকোনমিক টাইমস সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন