ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রকাশ্যে জাতীয় সংগীত অবমাননা করলেন পরীমণি, শাস্তি কী হবে?


প্রকাশ্যে জাতীয় সংগীত অবমাননা করলেন পরীমণি, শাস্তি কী হবে?

ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘টক অব দ্য টাউন’ হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি, আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অকারণে হেনস্তা করার পর, তিনি দেশের জাতীয় সংগীতের বিকৃত ব্যবহার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করার পর, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পরীমণি। এ সময়, তার সঙ্গে থাকা কালো পোশাক পরা ১১ জন বডিগার্ড বিচারপ্রার্থীদের ওপর অকারণে চড়াও হন। এই পরিস্থিতিতে, সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করেন যে, পরীমণির বডিগার্ডের আঘাতে তার মাথা ফেটে গেছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সকালে এমন তাণ্ডব করার পর, রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন ছড়ান পরীমণি। ওই দিনই, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপত্তিকর ও অশোভন একাধিক শব্দ ব্যবহার করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এই বিতর্কিত স্ট্যাটাসের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও জুড়ে দেন।

আরও পড়ুন: আলা হযরতের দর্শন সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে জরুরি: কনফারেন্সে বক্তাদের মতামত

জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার সম্পর্কে জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হামিদ খান মন্তব্য করেন, "এক্ষেত্রে অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহীর মামলা হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে দেশের আইন অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির সাজাপ্রাপ্ত হবেন।"

প্রকাশ্যে দেশের জাতীয় সংগীতের অবমাননা করা হলে কিংবা এর বিতর্কিত ব্যবহার হলে এর সুস্পষ্ট শাস্তি বাংলাদেশে রয়েছে। ‘বাংলাদেশের সংবিধান’র অনুচ্ছেদ ৪-এ জাতীয় সংগীতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তবে এতে সরাসরি শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ নেই।

জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার’ (১৯৭২)-এ। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় সংগীতের অবমাননা করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এর গাম্ভীর্য ও সম্মান নষ্ট করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য অপরাধীকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

২০১০ সালে এ অর্ডারের সংশোধিত আইনে অপরাধীর শাস্তি আরও দ্বিগুণ করা হয়। ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০ আইন অনুযায়ী) জাতীয় সংগীত, পতাকা বা প্রতীকের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হায়দরাবাদে মুসলিম নামের কারণে ডেলিভারি বয়কে পেটালো উগ্রবাদীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


হায়দরাবাদে মুসলিম নামের কারণে ডেলিভারি বয়কে পেটালো উগ্রবাদীরা

ভারতের হায়দরাবাদে, শুধুমাত্র মুসলিম নাম থাকার কারণে ব্লিনকিট-এর এক ডেলিভারি এক্সিকিউটিভকে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় উগ্রবাদীদের একটি দল, যার মধ্যে ওয়্যারহাউস ম্যানেজারও ছিলেন, জড়িত ছিল।

আক্রান্ত যুবকের নাম হাবীব আনসারী। বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা হাবীব গত পাঁচ বছর ধরে হায়দরাবাদের গোলকুন্ডা এলাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানে ডেলিভারি বয়ের কাজ করেন।

ঘটনাটি ঘটে ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে। একটি অর্ডার ডেলিভারি শেষ করার পর, রাইদুর্গাম থানার অন্তর্গত পঞ্চবটী কলোনিতে অবস্থিত ব্লিনকিট ওয়্যারহাউসে ফেরার সময় হাবীব চিৎকারের শব্দ শুনে থামেন।

সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে নাম জিজ্ঞাসা করে। হাবীব যখন জানায় যে সে মুসলিম, তখনই দলটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।

আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে হাবীব দৌড়ে রাস্তার পাশে একটি খাবারের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে এবং গ্রাহক ও রাঁধুনির সামনে থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এনে ফের মারধর করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হাবীবের ওপর চালানো এই হামলার নৃশংস মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

পরবর্তীকালে ৬ নভেম্বর (রবিবার) আনসারি ‘মজলিস বাঁচাও তাহরিকের (এমবিটি) মুখপাত্র আমজাদ উল্লাহ খানের দ্বারস্থ হন।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে খান জানান, হামলার সময় আনসারি তার ভাইকে সাহায্যের জন্য ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পুরো ঘটনার অডিও তার ফোনে রেকর্ড হয়ে গিয়েছিল। আনসারি বলেন, “আমার ভাইয়ের কাছে নিজের অবস্থান বলার আগেই তারা ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। তবে ফোনটির কল কেটে যায়নি।”

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত আনসারিকে উদ্ধার করে রায়দুর্গম পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে একজন সাব-ইনস্পেক্টর তার টিমকে আনসারির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন।

থানায় ফিরে আনসারি দেখতে পান, তাঁকে আক্রমণকারী ব্যক্তিরাও সেখানে উপস্থিত রয়েছে। পুলিশের সামনেই তারা আনসারিকে কোনো মামলা দায়ের না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আনসারির অভিযোগ, “তারা আমাকে বলে যেন আমি কোনো অভিযোগ না করি, অন্যথায় তারা আমাকে মেরে ফেলবে। এ কথা বলার সময় পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।”

তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ করেন, পুলিশের এক কনস্টেবল তার কাছ থেকে জোর করে ১,৫০০ টাকা আদায় করেন এবং ঘটনাটি রিপোর্ট না করার জন্য চাপ দেন। এমনকি ওই পুলিশ সদস্য তার ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এমবিটি মুখপাত্র আমজাদ উল্লাহ খান অভিযোগ করেন, এত কিছুর পরও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে তেলেঙ্গানায় একটি স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে—যেখানে মুসলিমদের ঘিরে ধরে অমুসলিমদের দ্বারা প্রহার করা হচ্ছে। পুলিশ এসব মামলা সমাধানে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। এফআইআর হলেও কোনো তদন্ত বা গ্রেপ্তার হয় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখ চাষে কৃষকদের তিক্ততা, গুড় উৎপাদনে ঝুঁকছেন তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


আখ চাষে কৃষকদের তিক্ততা, গুড় উৎপাদনে ঝুঁকছেন তারা

রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন। গত কয়েক বছরে লাভের অভাবে অনেক কৃষক এই চাষ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। চিনিকল কর্তৃপক্ষের গড়িমসি এবং উৎপাদিত আখ সময়মতো বিক্রি করতে না পারার কারণে চাষিদের মধ্যে আখ চাষ নিয়ে এক ধরনের তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে। একসময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আকারে আখ চাষ হলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে চিনি ও গুড়ের বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা আবারও আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে অধিকাংশ চাষি আখ থেকে গুড় উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড় আলমপুর, কুমেদপুর, ভেন্ডাবাড়ী, টুকুরিয়া, চৈত্রকোল, চতরা, কাবিলপুর, রামনাথপুর, রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একসময় ব্যাপকভাবে আখ চাষ হতো। এসব এলাকার অনেক কৃষক আখ চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু রংপুর চিনিকলের আওতাধীন মহিমাগঞ্জ চিনিকল কর্তৃপক্ষের আখ ক্রয় নিয়ে নানা অনিয়ম ও গড়িমসির অভিযোগে কৃষকরা ধীরে ধীরে আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।

চাষিদের অভিযোগ, জমিতে আখ উৎপাদনের পর তা চিনিকলে বিক্রি করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতো। সময়মতো আখ বিক্রি করতে না পারায় জমিতেই পড়ে থাকত উৎপাদিত আখ। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ত, অন্যদিকে আখের গুণগত মানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হতো কৃষকদের। এ কারণে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভ কম হওয়ায় অনেকেই বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একসময় পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ইক্ষু বা আখ চাষ করা হতো। বর্তমানে তা কমে মাত্র ২৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। একসময়ের আখ চাষের বিস্তৃত এলাকা এখন অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে গুড়ের বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। চাষিরা জানান, নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় অনেকে আখ চাষ করছেন। কেউ কেউ নিজেরা গুড় তৈরি না করে সরাসরি গুড় তৈরির কারখানার মালিকদের কাছে আখ বিক্রি করছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি মণ আখ ২৫০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য জানিয়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে আখ মৌসুমে পীরগঞ্জের আখের একটি বড় অংশ নবাবগঞ্জ এলাকার গুড় ব্যবসায়ীরা নগদ টাকায় কিনে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাতটি গুড় তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। ফলে চিনিকলে আখ সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে গুড় উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক নিজেরাই আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি করছেন। পরে বাজারদর ভালো পাওয়ার আশায় সেই গুড় সংরক্ষণ করে রাখছেন।

তাতালপুর গ্রামের আখচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ইক্ষু বা আখ চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তিক্ততা বিরাজ করছে। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে তুলনা করলে আখ চাষে অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে বর্তমানে গুড়ের বাজার ভালো। গুড় উৎপাদনের কারখানার মালিকরা জমি থেকেই নগদ টাকায় আখ কিনছেন। এতে কৃষকরা আগের তুলনায় স্বস্তি পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষকের নিজস্ব গুড় তৈরির মাড়াই মেশিন রয়েছে। তারা নিজেদের উৎপাদিত আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি করছেন এবং পরবর্তী সময়ে বিক্রির জন্য তা মজুত রাখছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে আখ থেকে গুড় উৎপাদন করে কৃষকরা লাভের আশা করছেন।

খালাশপীর এলাকার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, লোকসানের দিন শেষ। কৃষক এখন যে ফসলে বেশি লাভ পান, সেই ফসল চাষেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। বর্তমানে গুড়ের বাজার ভালো থাকায় অনেক কৃষক নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় গুড় উৎপাদনের জন্য আখ চাষ করছেন।

কৃষকদের মতে, চিনিকলে আখ বিক্রির অনিশ্চয়তা থাকলেও গুড় উৎপাদন ও সরাসরি বাজারজাত করার সুযোগ থাকায় আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদিত আখ সময়মতো বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে পীরগঞ্জে আবারও আখ চাষের পরিধি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় চাষিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরের মনিরামপুরে খালে প্লাস্টিকের বস্তায় মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


যশোরের মনিরামপুরে খালে প্লাস্টিকের বস্তায় মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

যশোরের মনিরামপুরে খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রঞ্জন মন্ডল (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বস্তাবন্দি মরদেহ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মশিয়াহাটীর হেলারঘাট এলাকার একটি খাল থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত রঞ্জন মন্ডল ছিলেন কালিচরণপুর গ্রামের মৃত হরিপদ মন্ডলের পুত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে হেলারঘাট এলাকায় গেলে তারা খালের মধ্যে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখতে পান। সন্দেহ হলে তারা বস্তার কাছে গিয়ে দেখেন, ভেতরে একটি মানুষের মরদেহ রয়েছে। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক, মনিরামপুর থানার ওসি মো. আবু সাঈদ এবং নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জসহ পুলিশের একটি দল, যারা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে ছিল কালো প্যান্ট, হলুদ শার্ট ও সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি। মরদেহের চোখে পাওয়ারের চশমা, পায়ে চকোলেট রঙের স্যান্ডেল এবং ডান হাতে তামার আংটি ছিল। তল্লাশির সময় শার্টের পকেট থেকে একটি কলম ও ডায়েরি উদ্ধার করা হয়।

মনিরামপুর থানার ওসি মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলা হযরতের দর্শন সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে জরুরি: কনফারেন্সে বক্তাদের মতামত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


আলা হযরতের দর্শন সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে জরুরি: কনফারেন্সে বক্তাদের মতামত

সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে আলা ইমাম আলা হযরতের সংস্কার ও দর্শন আজকের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বক্তারা আলা হযরত কনফারেন্সে মতামত প্রকাশ করেন যে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ইমামে আযম ও আলা হযরত গবেষণা পরিষদের আয়োজনে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযার ১০৮ তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান আলকাদেরীর সভাপতিত্বে একুশে পদকপ্রাপ্ত, পিএইচপির চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী। প্রধান বক্তা ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পীর মুফতি মোস্তাক আহমদ ওয়েসী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাইখুল হাদীস কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন আশরাফী বলেন, ইন্টোরিম সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে যেভাবে তৌহিদী জনতা নাম দিয়ে মাজারে ধারাবাহিক হামলা চলছে, তা দেশের ৮০ পার্সেন্ট সুফিবাদী গোষ্ঠীকে হতাশ করেছে। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, সুফিবাদীরা কি ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত নয়? তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা আল্লাহর অলি, দরগাহ মাজারে হামলার বিচার না করার একটি অশনিসংকেত। হামলাকারীদের যত দ্রুত বিচার করা হবে, ততই দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে। নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়ে মাজারে হামলা ও কবর থেকে লাশ তুলে আগুন দিয়ে পোড়ানো তৌহিদী জনতা এটি কি নতুন ধর্মের নাম কিনা, তা জানতে চান তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সুফি মিজান বলেন, বর্তমানে ইসলাম শিক্ষা অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামের সঠিক শিক্ষা না থাকার কারণে মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলে-মেয়েরা মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা নব্য ফেরকা এসব ধ্বংসের জন্য অনেকাংশে দায়ী। কঠিন এই সময়ে আলা হযরতের মতো মহামনীষীর পথ ও জীবন-কর্ম অনুসরণ জঙ্গিবাদের কবর রচনা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আলা হযরত যেভাবে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়ে সারা বিশ্বে মানবতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তা আমাদেরকেও অনুসরণ করতে হবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হকের উপস্থাপনায় আলোচনা করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান কাদেরী, মুফতি হাফেজ মুনিরুজ্জামান কাদেরী, পীর মহিউদ্দিন লতিফী, খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী, পীর হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান, মাও. আনম মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, অধ্যক্ষ আবু জাফের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মাও. মোশাররফ হোসেন হেলালী, পীর গিয়াস উদ্দীন তাহেরী, ড. মাসুম বাকি বিল্লাহ, অ্যাডভোকেট মাহবুব উল আলম আশরাফী, মাওলানা আব্দুর রহমান আলক্কাদেরী, পীর জিহাদ উদ্দীন নুরী, আবদুল মালেক বুলবুল, ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অধ্যাপক ড. এমদাদুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মাওলানা ইকরাম হুসাইন, অধ্যাপক আহমদ রেযা, পীরজাদা মাহবুব উল্লাহ হামিদী, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান, মাওলানা নাজমুস সাদাত ফয়েজী, মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ আখঞ্জী, পীর আতাউল মোস্তফা, আবুল হোসেন, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী প্রমুখ।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান যুব সমাজ যেভাবে ঈমান-আক্বিদা বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তি ভক্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হচ্ছে, ইমাম আলা হযরতের লিখনীগুলো সামনে রাখলে এবং গভীরভাবে স্টাডি করলে নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ তৈরী হতো। প্রথিতযশা আলেমরা যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন, তা পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না করে হুট করে মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া মূর্খতার পরিচায়ক। অথচ আলা হযরতের নিকট যখন কোন ফতোয়া তালাশ করা হতো বা জানতে চাওয়া হতো, তিনি গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে তা সমাধান বা সঠিক পথ বলে দিতেন। ‘চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভির (রাহ.) দর্শন ও গবেষণা আজ প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ইমাম আলা হযরত সমাজ ও রাষ্ট্রকে শান্তিময় বিশ্ব গড়ার, মানবতার মুক্তির জন্য আমরণ কাজ করে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, তাৎক্ষণিক লেখনি ও বক্তব্যের মাধ্যমে বাতিলের ওপর কুঠারাঘাত করতে সময়ক্ষেপণ করেননি ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভি।’ প্রতিটি মুহূর্তে তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছেন।

কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল আজহারী, অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তার, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল, মাওলানা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু হানিফ, মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যক্ষ আবু নাসের মুহাম্মদ মুসা, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান সরকার, মুহাম্মদ ইমরান হুসাইন তুষার, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, কাজী মোবারক হোসাইন ফরায়েজী, মুফতি মাহমুদুর রহমান চিশতী, সৈয়দ মুহাম্মদ মাঈনুদ্দীন হেলাল, মুফতি শহীদুল্লাহ্ জিহাদী, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা আনছারী, মুফতি ইয়াকুব হোসাইন আলকাদেরী, মাওলানা হাফেজ মুঈন উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ আশরাফী, মাওলানা ফরহাদুল ইসলাম বুলবুলি, মাওলানা মুঈন উদ্দিন আল কাদেরী, মারুফ বিল্লাহ আশেকী, মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ মজুমদার, মুফতি ইদ্রিস হুসাইন, অধ্যক্ষ আহমদ আলী হেলালী, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সাইফ, মুফতি শেখ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন প্রমুখ।

শেষে মিলাদ-কিয়াম এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%