বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৭ পি.এম
হবিগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিবকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় স্থানীয় চিলড্রেন পার্কে, যা পরিচালনা করে হবিগঞ্জ নাগরিক সমাজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব।
সভায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আহমদুল রহমান আব্দাল, হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. কামাল উদ্দিন সেলিম, হবিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের জেলা সেক্রেটারী মো. আব্বাছ উদ্দিন, হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শামছুল হুদা, চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কোহিনুর আলম, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বাবুল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
সভার শুরুতেই নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) কর্তৃক নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই ডাল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এবং মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্যিক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদন লাভ করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় এই ব্যয়ের পরিমাণ ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মসুর ডাল সরবরাহের জন্য আহ্বান করা উন্মুক্ত দরপত্রে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে খুলনার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’ কাজটি পায়।
টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে এই ডাল ক্রয় করা হচ্ছে।
বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির জন্য ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।
নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল যুক্ত হলে সংস্থার মজুদ আরো শক্তিশালী হবে, যা সরকারের নিয়মিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীদের মাঝে দ্রুত বিতরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি বা পরীক্ষা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার স্থান, নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ এবং একটি নিরাপদ ঠিকানা। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের কাছে সেই ঠিকানার গল্প এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কারণে কেউ দূরের মেসে অবস্থান করছেন, কেউ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করছেন। আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসন-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সীমিত সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ, শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ।
পুরান ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট কেবল থাকার জায়গার সমস্যা নয়। এটি তাদের সময়, অর্থ, পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যস্ত শহরে অস্থায়ী জীবন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে পুরান ঢাকার ব্যস্ততা। সরু সড়ক, যানবাহনের চাপ, মানুষের ভিড় এবং প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জীবন চলে। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও অনেকের দিন শেষ হয় না। শুরু হয় বাস ধরার তাড়া, যানজট পেরিয়ে বাসায় ফেরার সংগ্রাম অথবা মেসে ফিরে যাওয়ার দীর্ঘ পথ।
কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় থাকেন, আবার কেউ মিরপুর, উত্তরা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ কিংবা মুন্সিগঞ্জের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসেন। ফলে দিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় রাস্তায় কেটে যায়।
দীর্ঘ যাত্রার প্রভাব কেবল সময়ের ওপরই পড়ে না, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা কিংবা গবেষণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিদিনের যাতায়াতও শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর অনেকের শরীর ও মনে ক্লান্তির ছাপ থাকে।
হল কেবল থাকার জায়গা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি অংশ। একজন শিক্ষার্থীর কাছে হলের অর্থ কেবল একটি বিছানা বা মাথা গোঁজার জায়গা নয়। হল মানে রাত জেগে পড়াশোনা করার সুযোগ, পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সঙ্গে প্রস্তুতি, অসুস্থ হলে পাশে কাউকে পাওয়া কিংবা ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়ার সুযোগ।
হল অনেকের কাছে দ্বিতীয় একটি পরিবার। এখানে বন্ধুত্ব, স্মৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কও আরও গভীর হয়। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল না থাকায় তাদের বড় অংশকে বাইরের মেস অথবা পরিবারের বাসার ওপর নির্ভর করতে হয়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।
পুরোনো সংকট, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে জগন্নাথ কলেজের অধীনে থাকা কয়েকটি হল পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সময়ের সঙ্গে এসব আবাসিক স্থাপনা নিয়ে দখল, নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা সংক্রান্ত নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা নতুন করে হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে আইনি সহায়তা ও উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের— বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে জবিয়ানদের কাছে হলের দাবি কেবল একটি আন্দোলনের বিষয় নয়, এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশ্ন। সরকার যায়, প্রশাসন যায় কিন্তু জবিয়ানদের এই হলের সমস্যা সমাধান হয় না। শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থমকে যায় জবিয়ানদের জীবন।
মেসজীবনে বাড়ছে খরচ, চাপ পড়ছে পকেটে
হল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মেসে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় সিট ভাড়া করে থাকেন অনেকে।
মেসে থাকার সঙ্গে যুক্ত হয় বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ও যাতায়াতের খরচ। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটামুটি একটি মেসে থাকা ও দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ পরিবারের সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেন, আবার কেউ নিজের খরচ চালাতে টিউশনি বা অন্য কাজ করেন।
ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক টিউশনি করতে হয়। এতে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও কমে যায় পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের সময়।
মেসজীবনের সমস্যা কেবল অর্থনৈতিক নয়। ব্যক্তিগত পরিসরের অভাব, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভাবতে হয়।
প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে রাস্তায়। আবাসন সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে যাতায়াতে। দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের একটি বড় অংশ চলে যায় রাস্তায়। ঢাকার যানজট, গণপরিবহনের ভিড় এবং দীর্ঘ যাত্রা মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই অনেকের দিনের শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়।
সকালে বাস ধরার জন্য তাড়াহুড়া, এরপর যানজট পেরিয়ে ক্লাসে পৌঁছানো এবং দিন শেষে আবার একই পথ ধরে বাড়ি ফেরা— এই বাস্তবতা অনেক শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের সঙ্গী। বাসায় ফিরে আবার অনেককে টিউশনি করতে হয়। ফলে পড়ার টেবিলে বসার মতো মানসিক ও শারীরিক শক্তি অনেক সময় অবশিষ্ট থাকে না। ক্লান্ত শরীর তখন চায় শুধু একটু বিশ্রাম।
এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষাজীবনেও। ক্লাসের বাইরে লাইব্রেরিতে সময় দেওয়া, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় অনেকের হাতে থাকে না। বিকেল গড়াতেই অনেক শিক্ষার্থীর চিন্তা থাকে— কীভাবে দ্রুত বাস ধরবেন, কখন বাসায় পৌঁছাবেন এবং পরদিন আবার কখন বের হতে হবে।
ক্যাম্পাসে থেকেও যেন থাকার জায়গা নেই
আবাসিক সুবিধা শিক্ষার্থীদের শুধু থাকার সুযোগ দেয় না, এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করে। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, দলগত পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় আবাসনের মাধ্যমে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার হিসাব করতে হয়। দূরের বাসায় ফিরতে হবে, মেসে ফিরতে হবে কিংবা শেষ বাস ধরতে হবে— এই চিন্তা অনেক সময় তাদের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে। এর সঙ্গে রয়েছে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বসার ও অবসর কাটানোর জায়গার সীমাবদ্ধতা। ফলে আড্ডা, দলগত পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্যও অনেক শিক্ষার্থীকে সময় ও জায়গার সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি বড় অংশ যেন ক্যাম্পাসের বাইরেই কাটে।
সংকটের মধ্যেও থেমে নেই জবিয়ানদের স্বপ্ন। তবে আবাসন সংকট, দীর্ঘ যাতায়াত কিংবা বাড়তি খরচ— কোনোটিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অ্যাকাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও নিয়োগ পরীক্ষায় জবিয়ানদের সাফল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে থাকা ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পটি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। দীর্ঘ যাতায়াত, বাড়তি খরচ কিংবা থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য ধরে রাখছেন।
প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই আবাসন
আবাসন সংকটের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত। তাই এই সমস্যার সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক যাতায়াতের সময় কমবে, বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ ও আশ্বাস সামনে এসেছে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— এসব উদ্যোগ যেন বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান তৈরি হয়।
কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ভবন, শ্রেণিকক্ষ বা সনদ দিয়ে পূর্ণতা পায় না। শিক্ষার্থীর নিরাপদে থাকা, পড়াশোনা করা, সময়কে নিজের মতো করে কাজে লাগানো এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলের দাবি তাই কেবল কয়েকটি ভবনের দাবি নয়। এটি সময় বাঁচানোর দাবি, বাড়তি খরচ কমানোর দাবি, নিরাপত্তার দাবি এবং একটি স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দাবি।
হয়তো সেই দিনও আসবে, যখন জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে বাসের সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হবে না। মেসের বাড়তি খরচ কিংবা থাকার নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হবে না। সেদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু হাজারো তরুণের স্বপ্ন পূরণের প্রতিষ্ঠান থাকবে না— হয়ে উঠবে তাদের নিরাপদ ঠিকানা, আপন ঠিকানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই মাস্টার প্যারেড বুধবার সকালে পুলিশ লাইন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন।
পুলিশ কমিশনার প্যারেড পরিদর্শনকালে পুলিশ সদস্যদের টার্নআউট, শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, “সকল অফিসার ও ফোর্সের প্রতি জাস্টিস নিশ্চিত করা হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং দায়িত্ব পালনে নিয়মবহির্ভূত কাজের জন্য শাস্তি-দুটিই নিশ্চিত করা হবে।” জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে সততা, আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, “প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একজন পুলিশ সদস্যের ফিজিক্যাল ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা এবং শৃঙ্খলাবোধের প্রতীক। সৌভাগ্যের বিষয়, প্যারেড শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখারও সুযোগ তৈরি করে।”
মাস্টার প্যারেডে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহমখদুম অপরাধ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রণব দাস।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে মো. মনিরুল ইসলাম, উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, উপ পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ, পিপিএম (বার), উপ পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) দীন মোহাম্মদ, উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ইআইআইএন নম্বরের বিপরীতে নিবন্ধিত সিম কার্ড সচল ও কার্যকর রাখতে হবে।
এ নির্দেশনা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোর্ডের দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং অনলাইন সেবা নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বোর্ডের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং অনলাইন যোগাযোগকে সহজ ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নির্দিষ্ট সিম কার্ড ব্যবহার করা আবশ্যক। যদি ইআইআইএন নম্বরের বিপরীতে নিবন্ধিত সিম কার্ড সচল না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বোর্ডের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে না। একইভাবে, অনলাইন সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানোও অসম্ভব হবে।
এই কারণে, বোর্ডের অনলাইন সেবা এবং দাপ্তরিক যোগাযোগকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জরুরি ভিত্তিতে ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সক্রিয় ও ব্যবহারযোগ্য রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ