ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চৌগাছায় চোর সন্দেহে পিটুনিতে মিজানুরের মৃত্যু


চৌগাছায় চোর সন্দেহে পিটুনিতে মিজানুরের মৃত্যু

হরিণাকুণ্ডুর মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ, একজন পুলিশ হেফাজতে

যশোরের চৌগাছায় চোর সন্দেহে মিজানুর রহমান ওরফে ‘মাস্তান’ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১ নম্বর ভায়না ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

পরিবারের দাবি, মিজানুর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। মাঝে মাঝে চৌগাছায় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত আঘাতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন পরিদর্শন: নগর উন্নয়নে যৌথ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন পরিদর্শন: নগর উন্নয়নে যৌথ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নগর উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল (Implementation Support Mission Team) নাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর, ২০২৬) সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান। আরো উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলম সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।
মতবিনিময় সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল নাসিকের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের হার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নাসিক প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। এই নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলে একটি সুপরিকল্পিত এবং আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো নারায়ণগঞ্জের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বব্যাংকের এই সফর আমাদের কাজের গতিকে আরও বেগবান করবে। আমরা আশা করি, আগামীতে নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আরও বড় আকারের নতুন নতুন প্রকল্পে আমাদের পাশে থাকবে।”
সভায় বিশ্বব্যাংকের মিশন টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত চিত্র প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিনিধি দলটি নাসিকের আওতাধীন কয়েকটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ) সাতক্ষীরা

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


কালিগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে খোদ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ৩২ জন ছাত্রীর অংশ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকারের কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি থাকলেও, দায়িত্বশীল শিক্ষকদের এমন প্রত্যক্ষ প্রশ্রয় ও নিষ্ক্রিয়তা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ৩২ জন ছাত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের এক সহপাঠীর বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ছাত্রীরা বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছে।" বিয়েটি বাল্যবিয়ে কি না এবং ছাত্রীর বয়স আইনি সীমার নিচে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে মেয়েটি তাদের স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে।

আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "না, আমরা কোনো পদক্ষেপ নিইনি।" তবে এই বিয়েতে বিদ্যালয়ের কোনো সহযোগিতা বা সম্মতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান যে দুজন ছাত্রী স্কুলে এসে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক রওশনারা খাতুনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিয়ে হচ্ছে আমরা শুনেছি।" অথচ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে জানানোর কথা থাকলেও তারা তা জানাননি। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা কাউকে ইনফরমেশন করিনি।"

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার মধ্যেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তার,
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্না চক্রবর্তী, থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার মুখে পড়েন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, "যেহেতু শিক্ষা অফিসার আমাদের ডেকেছেন এবং ইউএনও মহোদয় বিষয়টি অবহিত হয়েছেন, এই কারণে আমাদের কিছু বলার নেই। ওনারা যে পদক্ষেপ নেন আমরা তা মেনে নেব।"

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, "শিক্ষকদের নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আমরা বসেছি। ইউএনও মহোদয় লিখিত জবাব দিতে বলেছেন, তাঁরা লিখিত জবাব দেবেন।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বাল্যবিয়েতে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য না জানানো আইনগত অপরাধ ও চরম দায়িত্বহীনতা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে ফরিদপুরের শিক্ষার্থীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে ফরিদপুরের শিক্ষার্থীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশে গড়ে তোলা একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য থেকে উৎপন্ন তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। এমনকি অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বমি করেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির পাশে পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্ম থেকে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় দুর্গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। পাঠদান চলাকালে দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও আশপাশের বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়ছেন।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার জানান, "ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।"

এক অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, "আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।"

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, "পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, "বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।"

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজলু খান বলেন, "আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদানের স্বার্থে পোল্ট্রি ফার্মটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ বছর পরও অমীমাংসিত যবিপ্রবির হল ডাকাতি, আতঙ্কের রাতের প্রশ্ন রয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


৯ বছর পরও অমীমাংসিত যবিপ্রবির হল ডাকাতি, আতঙ্কের রাতের প্রশ্ন রয়ে গেছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান (শ.ম.র) হলের ঘটনা ঘটেছিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে। চারপাশে ছিল নিস্তব্ধতা। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কেউ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন, কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আবার কেউ ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিশ্চিন্ত ঘুমের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ পাল্টে যায়। একের পর এক বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি, দরজা-জানালা ভাঙার আওয়াজ এবং প্রাণ বাঁচানোর আকুতি—সব মিলিয়ে রাতটি ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর। আজ সেই ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। সময়ের সাথে সাথে ক্যাম্পাসে নতুন প্রজন্ম এসেছে, প্রশাসন পরিবর্তিত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মুখও বদলেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ‘হল ডাকাতি’ নামে পরিচিত সেই রাতের ভয়াবহতা আজও অনেকের স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে। যে হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসনের কথা বলা হয়, সেদিন সেখানে নিজেদের জীবন বাঁচাতে বিছানার নিচে, বন্ধ কক্ষের অন্ধকারে কিংবা অন্য ভবনের আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। কেউ প্রাণভয়ে হল থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন, কেউ পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন শিক্ষক ডরমেটরিতে। আবার কেউ শিকার হয়েছিলেন শারীরিক নির্যাতনের।

যেভাবে শুরু হয়েছিল সেই বিভীষিকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই কলঙ্কজনক ঘটনার পেছনে ছিল তৎকালীন যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা, সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের রাজনৈতিক বলয়, গ্রুপ পরিবর্তন এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটির শুরুতে সুব্রত বিশ্বাস ও শামীম হাসান দুজনই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাইফুর রহমানের অনুসারী ছিলেন। এমনকি ২০১৪ সালে যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে দুজনকে একসাথে কারাবরণও করতে হয়।

তবে ২০১৭ সালের শুরুতে শামীম হাসান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন করে তৎকালীন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের অনুসারী হন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ওই বছরের মে মাসে সুব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে শামীম গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয় বলে জানা যায়।

দুই পক্ষের এই বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি টেন্ডারের অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারার বিষয়টিও উঠে আসে। সুব্রত বিশ্বাসের এক বিশ্বস্ত অনুসারীর সূত্রে এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

এর কয়েক মাস পর সেই বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ অক্টোবর রাতে শামীম হাসান ও তার অনুসারীদের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে হলে হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে রাতটি পরিচিতি পায় ‘হল ডাকাতি’ নামে।

রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা: কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডব

তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ায় তিন থেকে চারটি কালো মাইক্রোবাস। গাড়ি থেকে নেমে আসে মুখোশধারী একদল ব্যক্তি। প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত দুই আনসার সদস্যকে মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় আতঙ্কের সেই রাত।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে শহীদ মসিয়ূর রহমান হল। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগত ব্যক্তি মুখে মাস্ক ও কালো কাপড় বেঁধে হলে প্রবেশ করেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র। হলে প্রবেশের পর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয় বলে তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এরপর শুরু হয় কক্ষ থেকে কক্ষে তাণ্ডব। ভাঙা হয় দরজা ও লকার। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে। বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কেউ আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন, কেউ আতঙ্কে কক্ষ ছেড়ে পালিয়ে যান। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটিতে মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো হলের পরিবেশ।

সেদিনের হামলায় তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

বিছানার নিচে লুকিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা

তৎকালীন সেই রাতের ভয়াবহতা স্মৃতিচারণ করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ ফিরোজ তখন বলেছিলেন, গভীর রাতে তিনি ও তার রুমমেট হিমু হঠাৎ বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর হলে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি ও আতঙ্ক। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে তারা নিচতলার ১২২ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে ভয়ে বিছানার নিচে শুয়ে থাকেন দুজন।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বাইরে এসে তারা জানতে পারেন, হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। নিজেদের কক্ষে ফিরে গিয়ে দেখেন, লকার ভেঙে দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ফিরোজ বলেন, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন চাইলেও আবেদন করার পরও তার মতো অনেক শিক্ষার্থী কোনো সহযোগিতা পাননি।

চতুর্থ তলার আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা আরও ভয়াবহ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়। তাকে এবং তার কক্ষে থাকা এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থী লুঙ্গি পরে খালি গায়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমেছিলেন। কেউ কেউ হল ছেড়ে পালিয়ে শিক্ষক ডরমেটরিতে আশ্রয় নেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রক্টরের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা চেয়েও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা সেই সহায়তা পাননি।

এমনকি ভুক্তভোগীদের জন্য ডাইনিংয়ে এক মাসের বিনা মূল্যে খাবারের বরাদ্দের অর্থও পরবর্তী ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন সময়ে সুব্রত বিশ্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাগো নিউজের সমসাময়িক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ৩০ লাখ টাকার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, আইফোন ও হাতঘড়ি, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ঘটনাটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।

লোহার পাইপের আঘাতে ভেঙেছিল পায়ের হাড়

সেই রাতের হামলা শুধু সম্পদ লুট বা ভাঙচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বহু শিক্ষার্থী। তাদের একজন এফএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে লোহার পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে পেটান। এতে তার পায়ের হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।

আহত অবস্থায় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলেও প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পরে তার মা একাধিকবার প্রক্টর ও প্রভোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন করলে যৎসামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আসা একজন শিক্ষার্থীকে যখন নিজের ক্যাম্পাসেই লোহার পাইপের আঘাতে পায়ের হাড় ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাতে হয়, তখন সেই আঘাত কেবল শরীরে সীমাবদ্ধ থাকে না। নিরাপত্তা, আস্থা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়েও তৈরি হয় গভীর প্রশ্ন।

৯০-৯৫ জনের সহায়তার দাবি, ক্ষতিপূরণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

ঘটনার পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ইকবাল কবির জাহিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। মেডিকেল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল।

তবে তৎকালীন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, আবেদন করেও তারা প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি। কেউ কোনো সহায়তাই পাননি, আবার কেউ পেয়েছেন যৎসামান্য অর্থ। ফলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশাসনিক দাবি এবং বাস্তবে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক মাস শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল। তবে মোট কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব মনে নেই। প্রভোস্ট ও প্রক্টর অফিসে এ-সংক্রান্ত হিসাব ও তালিকা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, মামলা এবং বিচারহীনতার দীর্ঘ প্রশ্ন

সমসাময়িক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু মামলা করেই থেমে থাকেনি; অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রক্রিয়াও বাধার মুখে পড়ে। ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগের কারণে কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনর্গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিনকে। কমিটিতে যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও রিজেন্ট বোর্ডের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় আবাসিক হলে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাদের এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার রাতে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর কয়েকজন শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে গিয়ে দেখেন, পুলিশের দুইজন এএসপিসহ আরও পুলিশ সদস্য সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত। তারা জানতে পারেন, ছাত্রলীগের সুব্রত গ্রুপ বের হয়ে গেছে এবং শামীম গ্রুপ হল দখলে নিয়েছে।

শেখ মিজানুর রহমানের ভাষ্য, তারা হলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে তৎকালীন উপাচার্য আনোয়ার হোসেন তাকে পুলিশের সহায়তা ছাড়াই হলে প্রবেশ করতে বলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তখন পুলিশ বাহিনীকে ছাড়া তারা হলে প্রবেশ করেন। হলে প্রবেশের পর ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামীমকে হল থেকে চলে যেতে বললে তিনি ঘণ্টা দুয়েক সময় নিয়ে হল থেকে বেরিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে তারা যেসব গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলোর চালকদের পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা গাড়ি চালাতে জানতেন, তাদের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্মতিতে এই কাজটি করা হয়েছিল। এসব নির্দেশনাই তৎকালীন উপাচার্যের কাছ থেকে এসেছিল বলে জানান তিনি।

শেখ মিজানুর রহমান বলেন, পরে তিনি শুনেছেন, তারা যাওয়ার সময় বেশ কিছু ল্যাপটপ, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি নিজ চোখে দেখেননি এবং তখন তার কাছে এ ধরনের কোনো তথ্যও ছিল না। থাকলে তিনি বাধা দিতেন বলে জানান।

তবে এ বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, ওই রাতে তার সঙ্গে প্রথম কথা হয় যশোরের তৎকালীন এএসপি রব্বানীর। পুলিশ তাকে হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেছিল, যাতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু তিনি পুলিশকে একা ছাত্র হলে ঢুকতে দিতে পারেন না। তাই প্রক্টরকে তাদের সঙ্গে হলে যেতে বলেন।

তবে প্রক্টর এ বিষয়ে তাদের কোনো সহযোগিতা করেননি এবং ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হননি বলে দাবি করেন তিনি। তাকে পুলিশ ছাড়া একা হলে যেতে বলার বিষয়টিও মিথ্যা বলে দাবি করেন উপাচার্য। তার ভাষ্য, হলের সমস্যা সমাধান করবেন হল প্রভোস্ট; সেখানে প্রক্টর একা কেন যাবেন। বরং তিনি প্রক্টরকে পুলিশ ও হল প্রভোস্টকে সঙ্গে নিয়ে হলে যেতে বলেছিলেন, তাও এএসপি রব্বানীর ফোনে।

একই ঘটনার ভিন্ন বয়ান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান হল ডাকাতি ও শিক্ষার্থীদের মালামাল লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ও হল প্রভোস্টের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে তারা ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে হলে তাদের আবাসিক আসনও ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তারা হলে প্রবেশ করেন।

শামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে তৎকালীন উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তার দাবি, তারা কারও কোনো মালামাল লুট বা ছিনতাই করেননি। এমনকি এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও তাঁর জানা নেই। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন শামীম হাসানের সঙ্গে ঘটনার দিন তার যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ঘটনার রাতে তিনি বগুড়ায় ছিলেন।

এদিকে তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে তখন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার এক বিশ্বস্ত অনুসারীর সূত্রে জানা গিয়েছিল, তৎকালীন টেন্ডারের অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় শামীম গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও ছাত্র হল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শামীম গ্রুপ হামলা চালায় বলে ওই সূত্রের দাবি।

এ ঘটনায় সহযোগিতার অর্থ আত্মসাৎ বা ভাগ-বাঁটোয়ারার অভিযোগও সামনে আসে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের অর্থ তৎকালীন সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নয় বছর পরও যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবরের সেই ঘটনা শুধু একটি ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরিণতি ছিল না; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছিল।

একটি আবাসিক হলে কীভাবে বহিরাগতরা প্রবেশ করল? কীভাবে একাধিক মাইক্রোবাস নিয়ে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ল? বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হয়েছিল? ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা সবাই পেয়েছিলেন কি না? আর সেই ঘটনার বিচার ও মামলার সর্বশেষ পরিণতিই বা কী?

নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

বর্তমান প্রশাসন যা বলছে

হল ডাকাতির এই ঘটনা সম্পর্কে যবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন এবং মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। সবকিছু জেনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমান প্রশাসনের এই বক্তব্য নতুন করে সেই পুরোনো ঘটনার নথিপত্র সামনে আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

নয় বছর আগে যে শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে বিছানার নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যারা লোহার পাইপের আঘাতে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন, যারা নিজেদের কক্ষ থেকে লুট হয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন তাদের কাছে ৫ অক্টোবর কেবল একটি তারিখ নয়। এটি জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

পাঁচ অক্টোবর তাই যবিপ্রবির ইতিহাসে শুধু একটি সহিংস রাতের নাম নয়; এটি শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক আধিপত্যের নামে হামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং দীর্ঘদিনের বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নের এক নির্মম স্মারক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%