বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৫ পি.এম
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও ও মতিঝিল বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উভয় বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৭৪ জন এবং মতিঝিল বিভাগের অভিযানে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৭৪ জনের মধ্যে মো. আসিফ (২৫), মো. সুজন (৩৫), মো. কোরবান আলী মনা (২৭), মো. ওয়াহিদ (২০), মোসা. টুম্পা (৩০) এবং অন্তর চন্দ্র বৈষ্ণব (২০) রয়েছেন। অন্যান্য গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্যাট্রিক রোজারিও, মো. জীবন হোসেন, মিসেস কানিজ ইয়াসমিন ইভা, মো. গোলাম হোসেন (৩০), জসিম উদ্দিন (৩০) এবং মো. মুবাশিরা হোসেন (৩৫) উল্লেখযোগ্য।
শাফায়েত হোসেন (৩৫), মো. পারভেজ গাজী (২২), মো. আসিফ আহম্মেদ (২৫), এস এম ফারুক হোসেন লাভলু (৬৪), মো. সাগর (৩৬), মো. ছাইফুল ইসলাম (৩৫), ইকবাল আহমেদ রানা (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম সৌরভ, মো. রোকন (২০), মো. রাজন (২৫), মো. ইকবাল (২৬), মো. পারভেজ (৩২), মো. হৃদয় হোসেন ওরফে বাহুবলি (২৬), মো. সালাম (২০), মো. আকবর হোসেন সোহাগ (৩২), মো. আদোর চিংড়ী (১৯), মো. রাসেল (২৭), মো. জামান (৪৯), মো. রনি (২২), মো. সোহেল রানা (২৮), মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী (২৭), মো. রুবেল হোসেন (২০), মো. মন্নান হোসেন (১৯), মো. যুবায়ের হোসেন (২০), মো. মুন্না শেখ (২২), মো. হাসান (২৪), মো. সালমান ওরফে রাসেল (২৫), মো. সালমান ওরফে রাসেল (২৫), মো. সালমান ওরফে রাসেল (২৫), মো. আমজাদ আলী (৪৬), সুবেন চন্দ্র (৩৯), মো. শহীদুল ইসলাম (৩৯), মো. আজিজুল হক (৩৯), মো. জুয়েল (৩০), শ্রী সজিব সরকার (২১), এস এম তাসকিন (২৬), মো. লিমন (২০), আনোয়ার হোসেন (২৪), মো. মফিজুল ইসলাম সাগর (৩৫), মো. বিপ্লব (২৩), মো. রশিদুল ইসলাম (২৫), সুজন হোসাইন রাকিব (২৩), মো. জাকির (২৪), আইনুল হক (১৪), মিজান ওরফে বালতি মিজান, মো. সোহেল (২৪), মো. আলমগীর হোসেন (৩০), মো. খোকন মিয়া (২৪), মো. সাইফুল, মো. বাবু (২৪), মো. বাবু (২৭), নুর আহমান সানি (২৬), মো. নাজমুল হোসেন ইরন (২৫), মো. জাকির (৫০), আজমেরী (৪৮), কামাল হোসেন (৩৩), মো. সবুজ (৩২), মো. ফালান (৪৫), মো. রকি ইসলাম (২৫), ওবাইদুল মন্ডল (৩০), অনয় রায় (২২) এবং মোহাম্মাদ হাসান মোল্লা (৪৭) অন্তর্ভুক্ত।
তেজগাঁও বিভাগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৭ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৬ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২৪ জন, আদাবর থানায় ১৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৭ জন এবং হাতিরঝিল থানায় ১২ জন রয়েছেন।
অন্যদিকে, মতিঝিল বিভাগের অভিযানে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিভাগে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মুগদা থানায় ২১ জন, পল্টন থানায় ১২ জন, মতিঝিল থানায় ১৩ জন, খিলগাঁও থানায় ৬ জন, সবুজবাগ থানায় ৬ জন, শাহজাহানপুর থানায় ৫ জন এবং রামপুরা থানায় ৪ জন রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ভারত দুর্দান্ত সূচনা করেছে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সফরকারীরা মাত্র ১৩.২ ওভারে প্রশংসনীয় জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৫ রান সংগ্রহ করে। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব ও প্রিন্স যাদব দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১২৬ রানের লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলতে থাকেন ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। তিনি মাত্র ১৯ বলে ৫৯ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। ২৬৩.১৫ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিল। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে ভারত ১৩.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
এই ইনিংসের মাধ্যমে বৈভব সূর্যবংশী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ফিফটি করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ধশতক পূর্ণ করার সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ১১৮ দিন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল নেপালের কুশল মাল্লার দখলে, যিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১৫ বছর ৩৪০ দিনে ফিফটি করেছিলেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সে সফল না হলেও, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের ঝলক প্রদর্শন করেছেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার।
এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ভারত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে এটি শ্রেয়াস আইয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের নতুন ৬ তলা অ্যানেক্স ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গবেষণা কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল আহাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার প্রতি আমরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। এ ভবন গবেষণার কাজে ব্যবহার হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’
দেখা যাচ্ছে, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। গত চার দশকে এই গবেষণা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ বা নতুন ভবন নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ ছিল না। অবশেষে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ৯ কোটি ৬২ হাজার ৭৬৪ টাকায় ৬ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক ও চবির প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই গবেষণা কেন্দ্রের জন্য সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকার। পরিকল্পনার অধীনে দেড় হাজার বর্গফুট জায়গায় ৬ তলা একাডেমিক ভবন, ৮ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গায় অডিটোরিয়াম, ১০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে প্লাজা ও লিলি পন্ড এবং প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুট জায়গায় পার্কিং এরিয়া নির্মাণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমানে ৯ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ৬ তলা ভিত্তিসম্পন্ন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ভবনটির দুই তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে ইউজিসি থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর অবশিষ্ট কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রকৃতির কোনো ধরনের ক্ষতি না করেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।’
গত ৯ জুলাই থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩৬৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৯ জুলাইয়ের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, তিন দফা দরপত্র আহ্বানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশান লিমিটেড ৯ কোটি ৬২ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা-পাল্টা হামলায়। সংঘাত নতুন করে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই মাসের মধ্যে এই প্রথমবার তেলের দাম এত উচ্চতায় পৌঁছাল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন করে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পূর্ববর্তী বুধবার, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রফতানি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।
বৃহস্পতিবার, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী জানায়, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’র ওপর হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের ঘোষিত লোহিত সাগরের নৌ-অবরোধ অমান্য করায় তারা এই হামলা করেছে।
হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে জাহাজ দুটিতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
গত মার্চ মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবাশ্ম জ্বালানি রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ ট ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে, মে মাসের শেষ দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। পরে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা দিলে জুলাইয়ের শুরুতে তেলের দাম কমে ৭১ ডলারে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর এবং পারস্য উপসাগরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও দ্রুত বৃদ্ধির পথে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদরা শুরু হওয়া পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে(হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সামরিক কার্যক্রম বন্ধের একটি প্রস্তাব সামান্য ব্যবধানে পাস হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং সংঘাতের বিষয়ে ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার কারণে, এটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো একটি সতর্কবার্তা।
বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) কংগ্রেসের অনুমোদনের আবশ্যকতা বিষয়ক এই প্রস্তাবটি ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়। একই সময়ে সিনেটেও সকালে অনুরূপ একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে আনা এই ভোটগুলো মূলত প্রতীকী হলেও, এর মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কাছে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে আসছে এবং উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই তার প্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা ‘এন্ডগেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপনকারী ডেমোক্র্যাট ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি প্রমিলা জয়পাল জানান, এই যুদ্ধের ‘কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য, কৌশল বা চূড়ান্ত গন্তব্য নেই’।
যুদ্ধ অবসানের পক্ষে ডেমোক্রাটদের সঙ্গে একটি অল্প সংখ্যক রিপাবলিকান ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি সামান্য ব্যবধানে পাস হয়। তথাপি অধিকাংশ রিপাবলিকান যুদ্ধের পক্ষেই ভোট দেন এবং যুদ্ধের বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার অর্থ এই নয় যে আবার যুদ্ধ শুরু হচ্ছে বা দীর্ঘমেয়াদী কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বর্তমানে প্রায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ উভয় পক্ষের অবস্থান অনড় রয়েছে। এই সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম আবারও বেড়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার(২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদে যখন প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্ক চলছিল, তখন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট (রিপাবলিকান-ফ্লোরিডা) যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত ১৮ জন সেনাসদস্যের নাম পড়ে শোনান। মাস্ট বলেন, এই মিশনকে খাটো করে দেখার অর্থ হলো সেই সেবাকেই খাটো ও অবমূল্যায়ন করা, যার জন্য এই সদস্যরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ অর্থহীন ছিল না। ইরান বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ও হত্যা করেছে; এই অভিযানটির মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হচ্ছে।
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ও নিউইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স বলেন, প্রেসিডেন্টের উচিত কংগ্রেসের কাছে এ বিষয়ে যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরা। মিকস জানান, যেসব সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, তারা এমন এক ‘বেআইনি ও অননুমোদিত যুদ্ধের’ জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন; যে যুদ্ধ আমেরিকান জনগণ চায় না।
এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে যখন ভোটাভুটি চলছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। জ্বালানির দাম আবারও বেড়ে গেছে এবং মঙ্গলবার এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটরদের জানান, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার(২২ জুলাই) ট্রাম্প ডোভার বিমান ঘাঁটিতে সংঘাতে নিহত চার সেনা সদস্যের প্রতি সম্মান জানান। পরে বৃহস্পতিবার মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সিনেটে দেওয়া ভাষণে বলেন, আমার মনে হয়, শুনানিগুলোর পাশাপাশি পরিস্থিতি এখন এমন এক নতুন ও উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমেরিকানরা প্রাণ হারাচ্ছেন। অব্যাহত উত্তেজনার কারণে খরচের বোঝা তাদের ওপর পড়ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আর এটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ