ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার দুই ভাইয়ের মরদেহ


নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার দুই ভাইয়ের মরদেহ

লালমনিরহাটের মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এলাকায় ধরলা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আপন দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওন (১৪) এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির (১৬)। তারা মোগলহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রবিবার (৭ জুন) দুপুরে শাওন, সাব্বির ও তাদের এক প্রান্তিক বন্ধু মিলে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শাওন ও সাব্বির স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘণ্টার নিরলস অনুসন্ধানের পরে সোমবার রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, আপন দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে মোগলহাট এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০০ দিনে কতটা সফল মন্ত্রী শেখ রবিউল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


১০০ দিনে কতটা সফল মন্ত্রী শেখ রবিউল?

সরকারের প্রথম ১০০ দিন সাধারণত কোনো একজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে ধরা হয়। সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জনসেবা সম্পর্কিত নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকারিতা কেমন হলো - এই সব বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক বিশ্লেষণ করা হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে কিছু সাফল্য চোখে পড়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাও রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে সড়ক খাত কয়েক বছর ধরে যানজট, দুর্ঘটনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সমালোচিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৫.১ শতাংশ ক্ষতি হয়। তাই নিরাপদ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জন্য যাত্রা ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তখন নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া চলছিল।

এমন পরিস্থিতিতে কোটি মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখাটা কঠিন ছিল, তবুও আগাম প্রস্তুতি, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, টোল প্লাজা ও ফেরিঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ঈদুল ফিতরে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এরপর ঈদুল আজহার যাত্রা ব্যবস্থাপনাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা—দুই উৎসবেই মহাসড়ক সচল রাখা ও পদ্মা ও যমুনা সেতুতে বিপুল যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করা শেখ রবিউল আলমের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম বড় অর্জন।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাপক ছিল, কোরবানির পশু পরিবহনের ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, হাওর অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলা থেকে লাখ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া দেশের বিভিন্ন হাটে আনা হয়েছিল।

এমন অবস্থায় ভারি যানবাহনের চাপের মধ্যে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও হয়রানি প্রতিরোধ, এবং ফেরিঘাট ও সেতুগুলোতে পশুবাহী যানবাহনের অগ্রাধিকারভিত্তিক পারাপারের কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে পদ্মা ও যমুনা সেতুর ঈদকেন্দ্রিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা।

একই সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন চলাচল করে এবং টোল আদায় হয় ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, দুই সেতুর মালিকানা দিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ৬৪ কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।

ঈদযাত্রার সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়, যার বিপরীতে ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় হয়, যা সেতুটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একদিনের টোল আদায়ের রেকর্ড।

অন্যদিকে, যমুনা সেতুর একই দিনে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়ে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা টোল আদায় হয়।

শেখ রবিউল আলমের মন্ত্রণালয়ে টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ডিজিটাল টোল ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টোল ফাঁকি কমানোর উদ্যোগ এবং ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতাও বেড়েছে।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পদ্মা সেতু সংযোগ সড়কে যান চলাচল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় দেখা গেছে।

যদিও রাজধানীর যানজট এখনো একটি বড় সমস্যা, তবে ঈদের সময় মহাসড়কগুলোতে অতীতের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করছে। তাদের মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আধুনিক ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো অপরিহার্য।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে শেখ রবিউল আলম চলমান সড়ক ও সেতু প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজের গতি বেড়েছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক।

তবে সড়ক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এখনও দুর্ঘটনা। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রয়োজন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে সামগ্রিক মূল্যায়নে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা ও যমুনা সেতুতে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপার ও প্রায় ৬৪ কোটি টাকার টোল আদায়, মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া, এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে গতি রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা।

তবে নিরাপদ সড়ক, দুর্ঘটনা হ্রাস, রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান এবং গণপরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে শেখ রবিউল আলমের পারফরম্যান্সকে ‘আশাব্যঞ্জক সূচনা’ বলা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে চার সড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে চার সড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর, যা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, সেখানে প্রশাসনের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে সেখানকার চারটি সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সোমবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ।

দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি জনপদে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল, অবৈধ আধিপত্য আর বিচ্ছিন্নতার কারণে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। যেখানে আগে দিনের আলোতেও যেতে বরং ভয় পেতেন অনেকে, সেই জঙ্গল সলিমপুরে এখন শোনা যাচ্ছে এক্সকেভেটরের শব্দ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন আশা হিসেবে দেখছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর-টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাশ দিয়ে ভাটিয়ারী-বালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে সংযুক্ত আরেকটি সড়ক এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে আরও একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্য ছিল। ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর মতো সন্ত্রাসী চক্র এখানে প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে। অতীতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই এলাকায়।

৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দেন। এরপর, প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং পুরো এলাকাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ বলেন, বর্তমানে আলীনগর স্কুল থেকে সড়ক প্রশস্তকরণ ও মাটি কাটার কাজ চলছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট। পাহাড়ি ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্তত তিনটি বড় সেতু এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, পাহাড়ধস রোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও বিশেষ কৌশলে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে মাটি কেটে রাস্তার ভিত্তি তৈরি হলে বৃষ্টির পানিতে মাটি স্বাভাবিকভাবে বসে যায়, যা পরবর্তীতে সড়ককে আরও টেকসই করে তোলে। তাই বর্ষার মধ্যেও কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব সড়ক নির্মাণের সম্পন্ন হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, ফলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আক্কাস বলেন, এই সড়ক নির্মিত হলে জঙ্গল সলিমপুরের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ ইস্যুতে ইরানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


হরমুজ ইস্যুতে ইরানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা

হরমুজ প্রণালীতে ‘নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি’ করার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস এই তথ্য জানিয়েছেন। বিবিসির খবর অনুযায়ী,

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রদান করা এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, ‘শান্তি আলোচনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চক্রে আটকে আছে মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের ড্রোনগুলো সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের এই পদক্ষেপগুলো কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

কালাস আরও জানান, ‘এর জবাবে, হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার জন্য ব্রাসেলসে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো আজ ইরানিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।’

তিনি আরও জানান, এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হয়েছেন সেই সকল ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যারা এই বাধা দেয়ার সাথে জড়িত।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌ-শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবরজাদেহ-কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, ইরানের তেল রফতানিকারক ইউনিয়নের প্রতিনিধি হামিদ হোসেইনির সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তার ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ইইউ এবারই প্রথমবারের মতো তাদের নতুন নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার নীতি কার্যকর করছে বলেও উল্লেখ করেন কাজা কালাস।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ

ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ প্রায় ৭০ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে। সোমবার (৮ জুন) ভোরের কিছু আগে জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ কেন্দ্রের এলাকা থেকে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানা পুলিশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫ নম্বর ঘরের পাশে ১০ বান্ডেল গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় মাদক কারবারি জামাল উদ্দিন।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ‘জব্দ করা ১০ বান্ডেল গাঁজার ওজন প্রায় ৭০ কেজি এবং এসবের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জামাল উদ্দিন ও আজিম নামের দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%