সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫১ এম
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের কর আদায়ের বিষয়ে মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকার একটি ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সাত সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে থাকবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি।
এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির কার্যপরিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে কমিটি।
বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।
পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের গতিপথ শনাক্ত এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে।
ফলে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে। সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ করে আদালতের আদেশে বিদেশে কোনো অর্থ বা সম্পদ অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে সেনা রাখার পরিকল্পনা করছেন। তিনি একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ভেনেজুেলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, "শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বের হয়ে আসব। তবে যদি আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুেলার মতো তেল রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন।"
তিনি আবারও জানান, ইরান যুদ্ধ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে তার প্রত্যাশা। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধের অবসান নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছে। যদিও তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি কেবল ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান এবং কোনো ‘খারাপ চুক্তিতে’ রাজি হবেন না।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার খবরের পর সোমবার তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়তি দামের অসন্তোষও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে।
ভেনেজুেলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে যুদ্ধের খরচ ‘অনেকবার’ মেটানো হয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা গ্রহণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুততার সঙ্গে ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি কর্পোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) এবং তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার আবারও নতুন করে ব্যাপকভাবে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমে এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ শিশুদের টিকা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৪৪ হাজার ১১৯ জন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ৮২ হাজার ২৫৩ জন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৭২ হাজার ৩৪৯ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, "শিশুদের টিকা দেওয়া একটি চলমান পক্রিয়া। তবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এটা সরকারের বাড়তি তৎপরতা।"
তিনি আরও বলেন, "এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, যাতে কোনো শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিরাই উপজেলার ৭নং জগদল ইউনিয়নে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ—হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার নেই।
বর্ষা মৌসুমে জগদল ইউনিয়ন থেকে দিরাই উপজেলা সদরে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চেপ্টিয়ার হাওরসহ দুর্গম এলাকার মানুষ অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা সদরে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।
তাই জগদল ২০ শয্যা হাসপাতালে দ্রুত প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া চিরকুটে সহকর্মীর প্রতি আস্থা; সাংবাদিক নেতৃত্বের মানবিকতা নিয়ে সামনে এলো কঠিন প্রশ্ন
বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনে নেতৃত্ব, সহকর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে সাংবাদিক পুলক দার মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া একটি চিরকুট। মৃত্যুর আগে তাঁর রেখে যাওয়া কথাগুলো শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি নয়, বরং সহকর্মীর প্রতি আস্থা ও দায়িত্ববোধের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
জানা গেছে, পুলক দা মৃত্যুর আগে পাঁচটি চিরকুট রেখে যান। সেগুলো পুলিশের জব্দ তালিকায় রয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে একটি চিরকুট বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ্য করে লেখা।
চিরকুটে পুলক দা জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর রাখার জন্য জাকির হোসেনের প্রতি অনুরোধ জানান।
এই একটি চিরকুটই এখন সামনে আনছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একজন সাংবাদিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে কাকে নিজের আস্থার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন?
বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনে এস এম জাকির হোসেনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মত, আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব ও পেশাগত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। আবার সহকর্মীদের একটি অংশ তাঁর পাশে থাকার কথাও বলে থাকেন। মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকতেই পারে; কিন্তু পুলকের শেষ চিরকুট সেই বিতর্কের বাইরে একটি ব্যক্তিগত ও মানবিক বাস্তবতা সামনে এনেছে।
কারণ, বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনে বহু পরিচিত, প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী সহকর্মী থাকা সত্ত্বেও পুলক দা তাঁর পরিবারের বিষয়ে শেষ অনুরোধটি করেছেন এস এম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ্য করে।
এখানেই সামনে আসে নেতৃত্বের প্রকৃত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন।
নেতৃত্ব কি শুধুই একটি পদ?
নাকি একজন সহকর্মীর দুঃসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতাই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়?
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে পেশাগত ঝুঁকি, চাপ, মামলা-মোকদ্দমা, আর্থিক সংকট কিংবা ব্যক্তিগত প্রতিকূলতা অনেক সময় সহকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। সেই সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো একজন মানুষ থাকা একজন সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারেন, কেউ নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে পারেন, আবার কেউ নিজেকে সহকর্মীবান্ধব হিসেবেও তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু বাস্তব পরীক্ষা আসে তখনই, যখন কোনো সহকর্মী বিপদে পড়েন।
তখন প্রশ্ন থাকে—কে পাশে দাঁড়ান? কে কথা শোনেন? কে প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন? আর কে একজন অসহায় সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নেন?
পুলকের শেষ চিরকুট সেই প্রশ্নগুলোই যেন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কোনোভাবেই মহিমান্বিত বা আত্মহননকে সমর্থন করার উপাদান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে সাংবাদিক সমাজসহ পুরো সমাজের জন্য যে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সহকর্মী যেন সংকটের মুহূর্তে নিজেকে একা মনে না করেন—সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হোক—এটাই হওয়া উচিত প্রত্যাশা।
পুলক দার শেষ চিরকুটে এস এম জাকির হোসেনের প্রতি যে ব্যক্তিগত আস্থার প্রকাশ ঘটেছে, তা বরিশালের সাংবাদিক সমাজে নেতৃত্ব ও মানবিকতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
সমালোচনা থাকুক, মতপার্থক্য থাকুক, নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকুক—কিন্তু একজন সহকর্মী বিপদে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জায়গায় যেন কোনো সংকীর্ণতা না থাকে।
কারণ নেতৃত্বের আসল পরিচয় পদ-পদবিতে নয়; একজন সহকর্মীর দুঃসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা।
পুলক দার শেষ চিরকুট হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি কঠিন আত্মজিজ্ঞাসাও রেখে গেছে—
আমরা কি এমন একটি সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছি, যেখানে বিপন্ন একজন সাংবাদিক শেষ মুহূর্তেও কোনো সহকর্মীকে নিজের আস্থার জায়গা হিসেবে ভাবতে পারেন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ