ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদাবাজি নির্মূলে নতুন আইন শিগগিরই আসছে: আইজিপি


চাঁদাবাজি নির্মূলে নতুন আইন শিগগিরই আসছে: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, দেশের চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রদান করেন।

আইজিপি বলেন, সমাজে যারা চাঁদাবাজি করে, তাদের সাধারণত প্রভাবশালী হিসেবে দেখা যায়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতার দাপটে তারা এসব অপরাধ করে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ বা ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে চান না, এমনকি সাক্ষ্যও দিতে চান না। তবে, এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নতুন আইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেঘনায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৩৩ জেলে আটক, ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তিনি আরও বলেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে। যেকোনো ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স (প্রমাণ) পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন আইন কার্যকর হবে এবং এসব অপরাধ নির্মূল হবে।

পুলিশের কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশ বল প্রয়োগ করলে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। তিনি বলেন, আমরা এর কোনোটিই দেখতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য নতুন প্রজন্ম কাজ করছে।

আইজিপি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে মাদককে সমাজে একটি স্বীকৃত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সমাজে যেন কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং বা চাঁদাবাজি না থাকে, তা আমরা সবাই মিলে কঠোরভাবে নির্মূল করবো।

এছাড়া, কমিউনিটি পুলিশিংকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি বলেন, আগে কমিউনিটি পুলিশিং কেবল ‘বুক প্র্যাকটিস’ বা খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। আইনের কাঠামোর ভেতরে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং এখন থেকে কার্যকরভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ৮ হাজার প্রবাসী ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি

সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে, নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে, নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে দেশে ১৫ জন উদ্যোক্তা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন এবং উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের যাবতীয় নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা

একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পরিধেয় ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ সারা বিশ্বে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরুদ্ধার করা এই মসলিন দেখতে এসে আবার দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

প্রকল্প পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন এমন প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন ক্রয়ের সরাসরি অনুরোধ এসেছে।’

বর্তমানে প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে তৈরি হওয়া সংরক্ষিত শাড়ি, স্কার্ফ ও রুমালে শৌখিন ক্রেতারা আগ্রহ দেখালেও এখনই তা বিক্রি করা হচ্ছে না। বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলেই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।

কিভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিন?

তাৎপর্যপূর্ণ এই শিল্প পুনরুদ্ধারে ২০১৩ সালে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা শুরু হয়। ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা পর্যালোচনা করে সফলতার মুখ দেখেন গবেষকরা।

প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, গবেষণায় জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নমুনার সহায়তা নেওয়া হয়।

গবেষণায় দেশজুড়ে সংগৃহীত ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, গাজীপুরের কাপাসিয়া অঞ্চলের তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনের ‘ফুটি কার্পাস’ তুলার ডিএনএ-র প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল রয়েছে।

বিশেষত্ব ও কারিগর তৈরি

ঢাকাই মসলিনের মূল বিশেষত্ব হলো নির্দিষ্ট জাতের তুলা (ফুটি কার্পাস), হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ তাঁতের অনন্য সমন্বয়। আর্দ্র পরিবেশ বজায় রাখতে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় সকাল বা সন্ধ্যায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় এর সুতা কাটা হতো।

ফুটি কার্পাস নিশ্চিত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ড এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ শুরু হয়। সুতা কাটা ও বুননের জন্য কুমিল্লার চান্দিনার খাদি কারিগরদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত এসব কারিগরের পাশাপাশি বর্তমানে মসলিন হাউসের আরো ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগর চূড়ান্ত উৎপাদনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

বাণিজ্যিকভাবে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি, সুতা প্রস্তুতকারক ও তাঁতিদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেনের মতে, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়ানো প্রয়োজন। তাই চাষিদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ও সময়সাপেক্ষ এই কাপড়ের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও দেশি-বিদেশি বাজার এবং শৌখিন সংগ্রাহকদের মধ্যে এর বিশাল চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হওয়া এই বাণিজ্যিক যাত্রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন ইতিহাস যোগ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিহারে বাড়িতে অবৈধ বাজি তৈরি, বিস্ফোরণে শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


বিহারে বাড়িতে অবৈধ বাজি তৈরি, বিস্ফোরণে শিশুসহ নিহত ৫

ভারতের বিহার রাজ্যের সিওয়ান জেলায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের কারণে আহত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বাড়িটিতে অবৈধভাবে বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। নিহত পাঁচজনের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন আমরুদ্দিন আহমেদ (৭০), মুশকাল সিদ্দিকি (২০), খুশবু সিদ্দিকি (১০), আরশাদ সিদ্দিকি (৮) এবং রাজকুমার ওরফে ভোলা (৩৫)। বিস্ফোরণের পর তাদের মরদেহ সিওয়ান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সিওয়ানের পুলিশ সুপার ভারত সোনি জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে এ ঘটনায় আহত কেউ ভর্তি নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে সামান্য আহত কয়েকজন পুলিশের কাছে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর দেননি। তাদের সন্ধান পেতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। অবৈধ বাজি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি উল্লেখ করেন, বাড়িটিতে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, সেখানে কতটা বিস্ফোরক মজুত ছিল এবং কারা অবৈধভাবে বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস শনাক্ত করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুমু দেওয়া শিক্ষকের কাজ নয়, রাজনৈতিক নেতারও নয়: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


চুমু দেওয়া শিক্ষকের কাজ নয়, রাজনৈতিক নেতারও নয়: রাশেদ খান

টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শিক্ষক চুমু দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এ বিষয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই ঘটনার উপর মন্তব্য করেন। শিশুদের নিরাপত্তা, মাদরাসাশিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ নিয়েও তিনি কথা বলেছেন।

রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "চুমু দেওয়া একজন শিক্ষকের কাজ নয়, এমনকি একজন রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়।" টঙ্গীর মাদরাসায় শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, "ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।" রাশেদ খান আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি মাদরাসাশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো উচিত নয়। শিশুটির বাবাও তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের মাদ্রাসাশিক্ষকেরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

নিজের পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, "প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে সন্তান পবিত্র আমানত।" তিনি বলেন, "সেই সন্তানের প্রতি কেউ কুনজর দিলে অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক।" তবে, তিনি এ ধরনের ঘটনায় দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলেন।

পোস্টে রাশেদ খান আরও দাবি করেন, "একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন।" তার মতে, ওই নেতা হয়তো শিশু বা অন্য কারো প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এমন আচরণ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো নেতার আচরণে প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ একই ধরনের আচরণ করতে পারেন। আবার সুযোগসন্ধানী কেউ শিশুদের প্রতি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েও এমন আচরণ করতে পারে। টঙ্গীর ঘটনাকে এ ধরনের আচরণের পরিণতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ খান স্পষ্ট করেন, "ওই রাজনৈতিক নেতা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে চুমু দেন—এমন দাবি তিনি করছেন না।" তবে, বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু কিংবা অন্য কারো প্রতি এ ধরনের আচরণ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, টঙ্গীর ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতাও নিজের আচরণ সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর ফ্লাইওভারে নতুন কৌশলে বাইকারদের জন্য ছিনতাইয়ের মৃত্যুফাঁদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


রাজধানীর ফ্লাইওভারে নতুন কৌশলে বাইকারদের জন্য ছিনতাইয়ের মৃত্যুফাঁদ

রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল ‘সুতা ডাকাতি’ আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। রাতের অন্ধকারে ফ্লাইওভারের দুই পাশে নাইলনের শক্ত সুতা টানিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এই সুতায় আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বাইকাররা। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের টাকা, মোবাইল, ল্যাপটপ এমনকি মোটরসাইকেলও ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রাণঘাতী এই কৌশলে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি এরকম কয়েকটি রোমহর্ষক ঘটনার পর নগরীতে ফ্লাইওভার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ফ্লাইওভারগুলোর অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ, বিশেষ করে যেখানে সড়কবাতি নষ্ট থাকে বা কম আলো থাকে, সেসব স্থানগুলোকে অপরাধীরা বেছে নিচ্ছে। গভীর রাতে ফ্লাইওভারের দুই পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে শক্ত নাইলনের মোটা সুতা বেঁধে দেওয়া হয়। দ্রুতগামী মোটরসাইকেলগুলো ওই রাস্তা অতিক্রমের সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারটি তার কপাল, গলা বা বুক বরাবর আঘাত করে। পুরো ঘটনার আকস্মিকতায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়েন। অনেকের আবার টানানো সুতা গলায় প্যাঁচিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক জখম হন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ থেকে ৫-৭ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী ছুটে আসে। আহত চালক তখন যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, স্বর্ণালংকার এমনকি মোটরসাইকেলটি পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পালিয়ে যায়।

ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখা যায়। দ্য ইউসুফ শো নামক একটি পেসবুক আইডিতে শনিবার বিকালে এক পোস্টে বলা হয়, ‘বাইকার ভাইরা সাবধান! ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও হানিফ ফ্লাইওভারে চরম আতঙ্ক সুতা ডাকাতি।’ আল ওয়ালিউর রহমান নামক এক ফেসবুক আইডি থেকে ১৪ অক্টোবর বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘গতকাল বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে বাসায় আসার পথে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের ওপর, সায়েদাবাদের দিকে বাইকে বসে থাকা অবস্থায় এক ভাইয়ের কপাল ধারালো নাইলনের সুতায় কেটে যায়। ওই একই স্থানে টানানো ওই সুতা দিয়ে আরেক বাইকারের গলার সামনে অংশ কেটে যায়। গত ফ্রাইডেতে আমার সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে, একই জায়গাতেই, আমার মাথায় হেলমেট ছিল বিধায় আমি বেঁচে গিয়েছিলাম সেদিন। তবে আমার হাতে গ্লাভস পরা ছিল তারপরও গ্লাভস কেটে গিয়ে আমার হাত কেটে যায়। আমরা যারা সব সময় বাইক চালাই, ফ্লাইওভারে চলাচলের ক্ষেত্রে সবার সতর্ক থাকা উচিত।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সাইফুর রহমান সম্প্রতি গভীর রাতে মহাখালী ফ্লাইওভার দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি পৌঁছতেই হঠাৎ তার গলায় কিছু একটা এসে লাগে এবং এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল কেউ যেন ধারালো কোনো কিছু দিয়ে গলা কেটে দিয়েছে। মোটরসাইকেল থামানোর আগেই ৪-৫ জন যুবক রামদা দেখিয়ে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব হারান সাইফুর। প্রায়ই এমন সব ঘটনা ঘটলেও পুলিশের কান পর্যন্ত তা পৌঁছায় না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ফ্লাইওভারের এই নৃশংস রাহাজানি রোধে কেবল পুলিশের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রতিটি ফ্লাইওভারের প্রতিটি ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনতে হবে এবং তা নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। রাতের বেলা ফ্লাইওভারগুলোতে কোনো অবস্থাতেই যেন সড়কবাতি বন্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে কঠোর নজর রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইওভারগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে পুলিশের স্থায়ী বা অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে। রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার ও মোটরসাইকেল চালকদের সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

জানতে চাইলে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্তি কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ওসমান গণি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের এই নতুন কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ ধরনের ঘটনার কথা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি আজই ডিএমপি সব অপরাধ বিভাগের ডিসিদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছি। ফ্লাইওভারগুলোতে রাতের বেলায় মোবাইল পেট্রোল দল এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। যারা এই প্রাণঘাতী ফাঁদ পাতার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের সবাইকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফ্লাইওভারে কোনো সিসিটিভি নেই। তাছাড়া অপর্যাপ্ত আলো ছিনতাইকারীদের জন্য বড় সুযোগ। ঘটনার পর ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলগুলো থেকে মুহূর্তের মধ্যে অলিগলিতে বা ভিন্ন সড়কে পালিয়ে যাওয়া সহজ হয়। রাতে ফ্লাইওভার ফাঁকা থাকায় মোটরসাইকেলগুলো অনেক বেশি গতিতে চলে, ফলে হঠাৎ কোনো বাধা আসলে চালকের পক্ষে নিজেকে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় উত্তরা মোটরসাইকেলে করে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন আইটি পেশাজীবী তানভীর আহমেদ (৩২)। ফাঁকা ফ্লাইওভার পেয়ে তিনি মহাখালী ফ্লাইওভারে কিছুটা গতি বাড়িয়েছিলেন। হুট করে তার গলা ও বুক বরাবর শক্ত কিছু একটা এসে আঘাত করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইকসহ তিনি রাস্তায় আছড়ে পড়েন। এতে তিনি হাতে ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। তানভীর মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকার থেকে ধারালো অস্ত্র হাতে ৪-৫ জন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। তার পকেটে থাকা দুটি দামি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ব্যাগ এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে তাকে কিল-ঘুসি মেরে পালিয়ে যায় চক্রটি।

১৮ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টা। এক যাত্রীকে নামিয়ে শ্যামপুরের বাসায় ফিরছিলেন মোটরসাইকেলচালক মো. রনি (২৬)। হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালের একটু আগে রাস্তায় অদ্ভুত এক বাধার মুখে পড়েন তিনি। দেখেন, রাস্তার দুই পাশ থেকে দুজন লোক খুব দ্রুত একটি নাইলনের মোটা সুতা বা তার টানটান করে ধরে আছে। রনি ব্রেক করার চেষ্টা করলেও চাকা স্লিপ করে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় ৩ জন অপরাধী এসে তাকে চাপাতির মুখে জিম্মি করে। রনির গলায় রামদা ঠেকিয়ে তার বাইকের চাবি, পকেটের ক্যাশ টাকা এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে তারা কাজ শেষ করে উধাও হয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%